ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বছরের শুরুতেই হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বের করে দিলো সৌদি


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৫৬ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | আপডেট: ০৩:০০ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
বছরের শুরুতেই হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে বের করে দিলো সৌদি দল বেঁধে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে প্রবাসী শ্রমিকদের। ছবি: সংগৃহীত

বছরের শুরুতেই সৌদি আরব থেকে বের করে দেয়া হয়েছে দেড় হাজারের বেশি বাংলাদেশিকে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) রাত ১১টা ২০ মিনিটে দেশে ফেরত এসেছেন আরও ১০৯ জন শ্রমিক। এ নিয়ে চলতি বছরের প্রথম ১৬ দিনেই এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশিকে তাড়িয়ে দিলো সোদি সরকার। বিমানবন্দরে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সৌদি থেকে নিঃস্ব হয়ে ফেরা এসব কর্মীর অভিযোগ, আকামা তৈরির জন্য নিয়োগ কর্তাকে টাকা দিলেও আকামা করে দেয়নি। পুলিশ গ্রেফতারের পর নিয়োগ কর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কর্মীর দায় নিচ্ছে না। 

মাত্র দুই মাস আগে সৌদি গিয়েছিলেন নোয়াখালীর আজিম হোসেন। পাসপোর্টে তিন মাসের ভিসা থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তিনি বলেন, বাজার করার জন্য মার্কেটে যাওয়ার সময় পুলিশ আটক করে। গ্রেফতারের সময় পুলিশের সঙ্গে নিয়োগকর্তার কথা বলার পরেও তাকে দেশে পাঠানো হয়েছে।
তার মত ১০৯ বাংলাদেশির বেশিরভাগেরই এমন অবস্থা।

বরাবরের মতো বৃহস্পতিবারও ফেরত আসাদের মাঝে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সহযোগীতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম থেকে জরুরি সহায়তা দেয়া হয়।

ব্র্যাক অভিবাসন কর্মসূচির প্রধান শরিফুল হাসান জানান, ২০১৯ সালে ২৫ হাজার ৭৮৯ বাংলাদেশিকে সৌদি আরব থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নতুন বছর শুরুর ১৬ দিনে এক হাজার ৬১০ বাংলাদেশি সৌদি থেকে ফিরতে বাধ্য হলেন। তাদের প্রায় সবাই খালি হাতে ফিরেছেন। কয়েকমাস আগে গিয়েছিলেন এমন লোকও আছেন। তারা সবাই ভবিষ্যত নিয়ে হতাশায় ভুগছেন।

প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের তথ্য অনুযায়ী ২০১৯ সালে মোট ৬৪ হাজার ৬৩৮ কর্মী দেশে ফিরেছেন। এর মধ্যে সৌদি আরব থেকে ২৫ হাজার ৭৮৯, মালয়েশিয়া থেকে ১৫ হাজার ৩৮৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ছয় হাজার ১১৭, ওমান থেকে সাত হাজার ৩৬৬, মালদ্বীপ থেকে দুই হাজার ৫২৫, কাতার থেকে দুই হাজার ১২, বাহরাইন থেকে এক হাজার ৪৪৮ ও কুয়েত থেকে ৪৭৯ বাংলাদেশি শূন্য হাতে ফিরেছেন, যাদের পরিচয় ডিপোর্টি।

শরিফুল হাসান বলেন, এভাবে যেন কাউকে শূন্য হাতে ফিরতে না হয় সেজন্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে দায়িত্ব নিতে হবে। দূতাবাস ও সরকারকেও বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে ফ্রি ভিসার নামে প্রতারণা বন্ধ করা উচিত।

অমৃতবাজার/এসএইচএম