ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইউরোপে অবৈধ বাংলাদেশিদের যাচাই নতুন পদ্ধতিতে


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৫ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
ইউরোপে অবৈধ বাংলাদেশিদের যাচাই নতুন পদ্ধতিতে ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত আনার জন্য ২০১৭-এর সেপ্টেম্বরে চুক্তি করে বাংলাদেশ। এই উদ্দেশ্যে তাদের তথ্য যাচাই-বাছাই করার প্রক্রিয়া এখন পর্যন্ত প্রথাগত পদ্ধতিতে চললেও এবার ডিজিটাইজড পদ্ধতিতে সম্পন্ন করতে চায় দুই পক্ষই।

জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, `বিদেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে। এ বিষয়ে আমরা সব দেশের সঙ্গে কাজ করছি। গোটা প্রক্রিয়া একটি কাঠামোর জন্য আনতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে এ বিষয়ে স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর সই করেছি।`

ওই কাঠামো অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোয় আটক ব্যক্তি বাংলাদেশি কিনা, সেটি জানার জন্য তথ্য সরবরাহ করার পরে সেটি যাচাই-বাছাই করে ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে দেশে ফেরত পাঠানোর বিধান আছে বলে জানান এই কর্মকর্তা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, `ইইউ থেকে আমরা যে তথ্য পাই, তা প্রথাগত পদ্ধতিতে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাইও করা হয় প্রথাগতভাবে। প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার জন্য একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো তাদের তথ্য দ্রুত ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে পাঠাতে পারবে।` আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা তথ্য পাঠানোর সফটওয়্যারটি তৈরি করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তথ্য যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়াটিও ডিজিটাল করা হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এজন্য পুলিশে একটি ডাটা সেন্টার করা হবে। যার সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও ইমিগ্রেশন বিভাগের ডাটাবেসের সংযোগ থাকবে।

এ প্রসঙ্গে এই কর্মকর্তা আরও বলেন, `ডিজিটালি আমাদের যে আঙুলের ছাপ সরবরাহ করা হবে, সেটি ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও ইমিগ্রেশন বিভাগে রক্ষিত ডাটাবেসের মাধ্যমে মিলিয়ে দেখা হবে।`

২০১৭ সালের আগে অবৈধ অভিবাসন বেড়ে গেলে এর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেয় ইউরোপ। তখন অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর জন্য আলোচনা শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ২০১৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় ২৬ হাজার, ২০১৫ সালে প্রায় ২১ হাজার এবং ২০১৬ সালে প্রায় ২৫ হাজার রেসিডেন্ট পারমিট ইস্যু করলেও ২০১৭ সালে জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত মাত্র ৪ হাজার ১০০ পারমিট ইস্যু করেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্ট্যান্ডার্ড অব প্রসিডিওর সই করে বাংলাদেশ।

অমৃতবাজার/এসএস