ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জুন ২০১৮ | ৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গ্রিসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের পাশে রাষ্ট্রদূত


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫২ পিএম, ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
গ্রিসে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশিদের পাশে রাষ্ট্রদূত

গ্রিসের আন্দ্রাভিদা কিলিনি সিটির নিয়া মানোলদায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের অবস্থা ও তাদের আবাসস্থল পরিদর্শন করেছেন দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিন।

গত শনিবার (৯ জুন) ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থা দেখার জন্য জসীম উদ্দিন আন্দ্রাভিদা কিলিনি যান। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সমস্যার কথা শোনেন এবং তাদের দ্রুত পাসপোর্ট প্রাপ্তিসহ আবাসস্থল ও খাবার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়লে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যান গ্রীসের শ্রমমন্ত্রী এফি আইটসগুলো , তার ডেপুটি শ্রমমন্ত্রী এবং স্থানীয় মেয়র। তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শ্রমিকদের সমবেদনা জানান। তিনি স্থানীয় মেয়র ও সরকারী কর্মকর্তাদের দ্রুত শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে বসবাসসহ পূর্ণবাসন করার নির্দেশ দেন।

এ সময় শ্রমমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শ্রমিকদের সবধরনে সহযোগিতা এবং শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজে করে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন বর্তমান সরকার (বাম) শ্রমিকদের প্রত্যেকটি সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে কাজ করবে। শ্রমিকরা মন্ত্রীর কাছে তাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা এবং ক্ষতি হওয়া জিনিসসের ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। মন্ত্রী সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন শ্রমিকদের।

এ ঘটনার পর গ্রীসের মানবাধিকার সংগঠনগুলো ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি লিপিবদ্ধ করে শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। গ্রীসের জনপ্রিয় সংগঠন সলিডারিটি ফর অল এর নেতৃবৃন্দ স্থানীয় মেয়রের হাতে ৬০০শত তাবু ও ৬০০শত শ্লিপিং ব্যাগ হস্তান্তর করে এবং শ্রমিকদের নিরাপদ স্থানে বাসবাস করার জন্য মেয়রসহ স্থানীয় নেতাদের অনুরোধ করেন।

গ্রীসের বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মোঃ জসীম উদ্দিন ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের পুড়ে যাওয়া স্থানগুলো পরিদর্শন করেন। শ্রমিকদের সব কিছু হারিয়ে যাওয়ার দুঃখ কষ্টের সঙ্গে রাষ্ট্রদূত সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং শ্রমিকদের ক্ষয়ক্ষতি লিপিবদ্ধ করার নির্দেশ দেন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের।

রাষ্ট্রদূত পাসপোর্টপ্রাপ্তিসহ আবাসস্থল ও খাবারের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি স্থানীয় মেয়র নাবিল মোরাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শ্রমিকদের আবাসস্থলে দুর্ঘটনা স্থায়ীভাবে প্রতিরোধের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। প্রবাসী বাংলাদেশী কর্মীদের অস্বাস্থ্যকর আবাসস্থলের পরিবর্তে পাকা ও স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য অনুরোধ জানান। মেয়র ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্থদের স্বল্পকালীন অবস্থানের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক তাবু ও পানি সরবরাহসহ সকল সুবিধা প্রদানের বিষয় রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

একইদিনে রাষ্ট্রদূত পাত্রার এমপি এবং বাংলাদেশ গ্রীস সংসদীয় ফ্রেন্ডশীপ গ্রুপের চেয়ারম্যান আন্দ্রেয়াস রেজুলিসকে সঙ্গে নিয়ে অগিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান ঘুরে দেখান। এমপি আগুনের ভয়াবহ তাণ্ডবে পোড়া গ্যাস সিলিন্ডার, খাদ্যদ্রব্য ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ দেখে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জনান। শ্রমিকদের জন্য তাবুসম্বলিত অস্থায়ী নতুন বাসস্থানও এমপিকে ঘুরে দেখানো হয়। রাষ্ট্রদূত শ্রমিকদের বলেন স্বল্প সময়ের মধ্যেই আমি শ্রমমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাত করে আপনাদের লিপিবদ্ধ সমস্যাগুলো তুলে ধরে সামাধান করতে পারবো বলে আশা করছি। ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) ড. সৈয়দা ফারহানা নূর চৌধুরী, দূতাবাসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ জামাল উদ্দিন, কন্স্যুলার সহকারী নাসের খান এবং আসলাম।

ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের মধ্যে রাষ্ট্রদূত পোশাক, চাল, ডাল, তেল ও খাদ্যদ্রব্য বিতরণ করেন। এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এথেন্স থেকে বাংলাদেশ কমিউনিটির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ যোগ দেন। রাষ্ট্রদূত ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে শ্রমিকরা তাদের আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিচয়পত্র (পাসপোর্ট) বিনা ফিসে পুনরায় প্রদানসহ অন্যান্য সকল সহযোগিতা করার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গ্রীসের নেয়া মানোলাদায় ভয়াবহ এক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ৫০০শত বাংলাদেশি শ্রমিকের তিল তিল করে গড়ে তোলা ঘরবাড়ি। অগ্নিকাণ্ডের সময় ঘরে বাস করা ৫০০শ শ্রমিক কর্মস্থলে থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছেন সবাই। কিন্তু হাহাকার আর আহাজারি থামেনি শ্রমিকদের। কারণ, তাদের মূল্যবান সম্বল পাসপোর্টসহ বেশির ভাগ শ্রমিকদের এ দেশে থাকার বৈধ কাগজপত্র, অর্থ, জামা-কাপড় পুরে ছাই হয়ে গেছে।

অমৃতবাজার/মিঠু