ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ সভা


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২:২৮ পিএম, ০৪ মে ২০১৮, শুক্রবার
পর্তুগালে প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের প্রতিবাদ সভা

বিগত ২৯শে এপ্রিল বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ উৎসব’ সফল সুন্দরভাবে আয়োজিত হয়। প্রায় ৪শ`র অধিক বিদেশী ও পর্তুগালে বসবাসরত সকল বাংলাদেশীদের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সুন্দর বাংলাদেশ উৎসব উদযাপিত হয়।

কিন্তু দূতাবাসের সুন্দর সুশৃঙ্খল একটি অনুষ্ঠানের সুনাম যখন চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিদেশী অতিথীদের মুখে মুখে যখন বাংলাদেশ উৎসবের প্রসংশা ঠিক সেই সময়ে দূতাবাসের বিরুদ্ধে কিছু ব্যাক্তি তাদের ব্যাক্তিগত অসন্তুষ্টির জের ধরে বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজিত ‘বাংলাদেশ উৎসব’ সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, বিক্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যম ফেইসবুকে মিথ্যা অপ্রিতিকর খবর ছড়াতে থাকে। ফেইসবুকের ফেইক আইডি থেকে সে খবর বাংলাদেশের বেসরকারি একটি টেলিভিশনেও প্রচার হয়। ফলে এটি পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশ কমিউনিটির মানুষের মাঝে নানা বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। পর্তুগালের সচেতন নাগরিকরা সোচ্চার হয়ে উঠেন এবং দূতাবাসের বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে অনেকেই এর প্রতিবাদ জানান।

পর্তুগালস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মিথ্যা প্রোপাগান্ড ছড়ানো এবং শান্তিকামী পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে ৩ মে পর্তুগালের স্থানীয় সময় রাত দশটায় লিসবনের রাধুঁনী রেস্টুরেন্টে ‘প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদ’ লিসবনের ব্যানারে পর্তুগালের বাংলাদেশী কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে এক প্রতিবাদ সভা ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের পক্ষে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জনাব হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর, সঞ্চালনায় ছিলেন তরুণ কমিউনিটি নেতা মো. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন কমিউনিটি নেতা আবুল কালাম আজাদ। এছাড়াও আরো বক্তব্য রাখেন এম, এ খালেক, ফয়েজ আহমেদ, নজরুল ইসলাম সুমন, কাজী এমদাদ মিয়া প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাস পর্তুগালের আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ ও বাংলাদেশ উৎসব উদযাপন নিয়ে যে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, মিথ্যার ফুলঝরি ফুটিয়েছেন যে ব্যাক্তি তার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই নিস্তব্ধ আজ পর্তুগাল বাংলাদেশ কমিউনিটি।

সম্পূর্ণ সত্যর অপলাপ ঘটিয়ে নিজের হীন মনস্কতার যে পরিচয় তিনি দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি আমরা ‘প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদ’ বাংলাদেশীদের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্বরত দক্ষ একজন কূটনীতিককে নিয়ে যে শিষ্টাচার বর্হিভূত মিথ্যা তথ্য সন্ত্রাস সৃষ্টি করে পর্তুগালস্থ সব প্রবাসী বাংলাদেশীর মাথা নীচু করেছেন এজন্য আমাদের দাবি তাকে অবশ্যই তার সমস্ত মিথ্যা বক্তব্য প্রত্যাহার করে দূতাবাস এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সূধী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি লিখিত বার্তা পাঠান। রাষ্ট্রদূতের লিখিত বার্তা পড়ে শোনান প্রতিবাদ সভার সভাপতি জনাব হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, - কামরুল হাসান টুকু, আব্দুর রাজ্জাক, মুজিবর মোল্লা, ইকবাল আলী ভুঁইয়া, মো. আবু হেনা, মো. শহীদুল্লাহ, মো. ইকবাল চৌধুরী, তবারক হোসেন তপু, মো. আখতারুজ্জামান, মামুন, মাহবুব আলম, ইসমাইল হোসেন সবুজ, মো. ফুয়াদ, মাইন উদ্দিন, মাষ্টার, রাসেল, জোবায়ের, ইমরান, মাহফুজুর রহমান রাসেল প্রমূখ।

প্রবাসী নাগরিক শান্তি-ঐক্য পরিষদের আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের মান্যবর রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সূধী ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে একটি বার্তা পাঠান। রাষ্ট্রদূতের বার্তা পড়ে শোনান প্রতিবাদ সভার সভাপতি জনাব হুমায়ুন কবির জাহাঙ্গীর।

রাষ্ট্রদূতের বার্তার কিছু অংশ নীচে তুলে ধরা হলো।

প্রিয় প্রবাসী ভাই ও বোনেরা, আসসালামু আলাইকুম/ আদাব।

বিগত ২৯ এপ্রিল চার শতাধিক বিদেশী অতিথি ও দু’শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে ওরিয়েণ্ট মিউজিয়ামে (Museo do Oriente) ‘বাংলাদেশ উৎসব’ উদযাপিত হয়। এ উৎসবে আমাদের প্রাণের জন্মভূমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘সোনার বাংলাদেশ’ এর সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ঐতিহ্য, দেশীয় খাবার ও গৌরবময় ইতিহাস পর্তুগাল সহ বিশ্বের মানুষের কাছে তুলে ধরা হয় । এ আনন্দ উৎসবে সপরিবারে পর্তুগালের রাজনৈতিক নেতৃবর্গ, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতগণ (Ambassadors), পর্তুগালের সাবেক রাষ্ট্রদূতগণ, উচ্চ পদস্থ সরকারী কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবর্গ, সুশীল সমাজের সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন। পর্তুগাল পার্লামেন্টের বিরোধী দলের প্রধান জনাব দুয়ার্ত পাসেকো-র সপরিবারে উপস্থিতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

আপনাদের সার্বিক সহযোগিতার ফলে এ উৎসব সফলভাবে উদযাপন করা সম্ভব হয়েছে। আমি এ সফল উৎসব আয়োজনের জন্য আপনাদেরকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। একই সঙ্গে এ উৎসব সফলভাবে উদযাপনে আপনাদের সহযোগিতার জন্য আমার ও আমার দূতাবাসের পক্ষ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। দূতাবাসের এ অনুষ্ঠানকে সফল করার মাধ্যমে আপনারা আমার বিশ্বাসকে আবারো প্রমাণ করেছেন যে, ‘আপনারা প্রত্যেকেই পর্তুগালে বাংলাদেশের এক এক জন রাষ্ট্রদূত’। আপনাদের সহযোগিতায় ভবিষ্যতে এমন আরো বড় অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে পৃথিবীর বুকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শান্তির প্রতীক দেশ হিসেবে তুলে ধরতে পারব, ইনশাআল্লাহ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজিত বাংলাদেশ উৎসব সম্পর্কে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট ভিড়িওবার্তা ও বাংলা টিভিতে প্রচারিত সংবাদের প্রেক্ষিতে ফেইসবুক, ম্যাসেন্জার, টিভি ও সংবাদ মাধ্যমে যেসকল বাংলাদেশীগণ সত্য তুলে ধরেছেন তাদেরকে আমার এবং আমার দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ উৎসব নিয়ে `আমার এবং আমার দূতাবাস সম্পর্কে যে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে সে সম্পর্কে আমার বক্তব্য গতকাল বাংলা টিভিতে প্রচারিত হয়েছে। সেটিই আমার অফিসিয়াল বক্তব্য।

আপনাদের সকলের সুখী ও দীর্ঘজীবন কামনা করছি। মোঃ রুহুল আলম সিদ্দিকী। পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত।

অমৃতবাজার/পাভেল/সবুজ