ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮ | ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পর্তুগালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও অানন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত


লিসবন (পর্তুগাল) সংবাদদাতা

প্রকাশিত: ০৪:৪৫ পিএম, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭, রোববার
পর্তুগালে মহান বিজয় দিবস উদযাপন ও অানন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত

পর্তুগালে যথাযথভাবে উদযাপিত হয়েছে ৪৬তম মহান বিজয় দিবস। মহান এই দিবসটি নানা অায়োজনে পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন। ৭১ এর শহীদদের স্মরণে বিজয় দিবসের এবারের অায়োজনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এবারের অায়োজনে ছিলো ভিন্নমাত্রা।

পর্তুগালের স্থানীয় সময় দুপুর বারোটায় দূতাবাস প্রাঙ্গণে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেত জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পবিত্র কোরঅান থেকে তেলাওয়াত করেন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনের কনস্যুলার কর্মকর্তা মোঃ নুরউদ্দিন।

দূতালয় প্রধান হাসান অাব্দুল্লাহ তৌহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত সকলের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবনে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জনাব রুহুল অালম সিদ্দিকী।

বেলা ১ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় বিশেষ অানন্দ শোভাযাত্রা বের করে বাংলাদেশ দূতাবাস লিসবন। এটি পর্তুগালে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রথম কোনো অানন্দ শোভাযাত্রা। দূতাবাসের সামনে থেকে শুরু হয়ে অানন্দ শোভাযাত্রাটি লিসবনের এন্তোনিও সালদানহা রোড প্রদক্ষণ করে অাবার দূতাবাস প্রাঙ্গণে ফিরে অাসে। অানন্দ শোভাযাত্রাটিতে পর্তুগালের বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী, দূতাবাস কর্মকর্তারা ছাড়াও পর্তুগালে বেড়ে ওঠা বাংলাদেশি শিশুরা অংশগ্রহণ করে।

এরপর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণকে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় প্রথম পর্বের অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন পর্তুগালে শিক্ষানবিশ বাংলাদেশি ছাত্রী তামান্না ইসলাম এবং সাজ্জাদ হোসেন।

বিজয় দিবসের দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা সভার শুরুতে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রসচিবের বাণী পড়ে শোনানো হয়। বাণীগুলো পাঠ করেন হাসান অাব্দুল্লাহ তৌহিদ, মোঃ নুরউদ্দিন, সামিউল হক, মোঃ সাহাবউদ্দিন।

বক্তব্য রাখেন পর্তুগাল অাওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মিয়া ফরহাদ, সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান, ইমরান হোসাইন ভূইয়া, দেলোয়ার হোসাইন, অানসার অালী প্রমুখ।

সমাপনী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত রুহুল অালম সিদ্দিকী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় এবারের বিজয় দিবসটি অামাদের কাছে বাড়তি অানন্দের। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ একটি জাতি-জনগোষ্ঠীর মুক্তির কালজয়ী সৃষ্টি, এক মহাকাব্য। শুধু বাঙালির জন্যই নয়, বিশ্ব মানবতার জন্যও অবিস্মরণীয়, অনুকরণীয় এক মহামূল্যবান দলিল বা সম্পদ। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা মানবতার নেত্রী হিসেবে সারাবিশ্বে অাজ খ্যাতি লাভ করেছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে কেউ এখন কটাক্ষ করার সাহস পায় না। শেখ হাসিনার নেত্রীত্বে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়েছে। মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন নেত্রী, এ মুহূর্তে যদিও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা রোহিঙ্গা সমস্যা ইনশাঅাল্লাহ অতি শিগগিরই বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের ফেরৎ পাঠানো শুরু করবে। এবং অতীতের মত সব রোহিঙ্গাদের তাদের নিজেদের দেশে ফেরৎ পাঠাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানে সমাপনী পর্বে দেশাত্মবোধক গানের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেন মহিবুর রহমান, রাখিঁ চন্দা রায় ও নাঈম হাসান পাভেল। নৃত্য পরিবেশন করেন শিশুশিল্পী অাহনাফ এবং শিশুশিল্পী মাহের কবিতা অাবৃতি করে সবাইকে মুগ্ধ করেন।

অনুষ্ঠানে পর্তুগাল প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যাবসায়ী, রাজনৈতিক ও কমিউনিটির অন্যান্যদের মাঝে অারো উপস্থিত ছিলেন, অাবুল বাসার বাদশা, অাবুল কালাম অাজাদ, দেলোয়ার হোসেন, শাহাদাৎ হোসেন, পনির অাজমল, সোহরাব হোসেন সুমন, ইকবাল হোসেন, রেজাউল বাসেত, রনি হোসাইন, শিপলু অাহমেদ, নয়ন রায়, মহিবুর রহমান প্রমুখ।

অমৃতবাজার/মাসুদ