ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রচারণায় তাবিথ আউয়াল


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:৩০ পিএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার
হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রচারণায় তাবিথ আউয়াল তিন রঙে প্রতিবাদ জানিয়ে তাবিথের প্রচারণায় নেমেছেন বিএনপি সমর্থকরা। ছবি: সংগৃহীত

আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। একই দিন আবার হিন্দু ধর্মালম্বীদের সরস্বতী পূজা। একদিকে বিদ্যার দেবী সরস্বতীর পূজার আয়োজন, অন্যদিকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচন। একইদিনে দুই মহাযজ্ঞের গ্যাঁড়াকলে পড়তে নারাজ দেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। নির্বাচন কমিশনের কাছে তারা আবেদন জানিয়েছিলেন নির্বাচন পেছানোর। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিজের সিদ্ধান্তে অটল। পূজার দিনেই হবে নির্বাচন।

এনিয়ে দেশজুড়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষে-বিপক্ষে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। হিন্দু ধর্মালম্বীদের বেশ কয়েকটি সংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা জানাচ্ছেন প্রতিবাদও। এবার এই প্রতিবাদকেই নিজের হাতিয়ার বানিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় নেমে পড়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাবিথ আউয়াল।

ভোট প্রদানের মাধ্যমেই হিন্দু সম্প্রদায়কে প্রতিবাদের আহ্বান জানিয়ে তাবিথ বলেন, আমি তাদের আহ্বান জানাচ্ছি ৩০ তারিখ ভোট বর্জন না করে ধানের শীষে পক্ষে ভোট দিয়ে সরকারকে একটা পরিষ্কার মেসেজ দেয়ার জন্য, এই দেশে আর কোনোদিন আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অন্যায় আমরা সহ্য করব না।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কারওয়ান বাজারের বসুন্ধরা সিটি এলাকার পেছন থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন বিএনপি’র এই প্রার্থী। এসময় তার প্রচারণার মিছিলে দেখা যায় তিনটি ভিন্ন রঙে সজ্জিত তিনজনকে। হলুদ, আকাশী নীল ও কমলা রঙে সজ্জিত ওই তিনজন আসলে এই রঙ ও হাতের ব্যানারের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন।

প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, ধর্ম, বর্ণ ও জাতি নির্বিশেষে আমরা সবাই যে বাংলাদেশি এবং সেটাই আমাদের মূল পরিচয় তা তুলে ধরতেই তাদের ভিন্ন রঙে সাজানো হয়েছে। বিএনপি কিংবা বিএনপি’র প্রার্থী কাউকে তার ধর্ম কিংবা বর্ণ দিয়ে যে বিবেচনা করেন না সেটাই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দুধর্মের উৎসবকে অগ্রাহ্য করে সরস্বতী পূজার দিন ভোট নির্ধারণ করার প্রতিবাদ এটা।

তাবিথ আউয়াল বলেন, সকলে যাতে তাদের ভোটের অধিকার ফেরত পায় সেজন্যই আমাদের এত আন্দোলন। সকল নাগরিকরা যেন তাদের ভোট ঠিকভাবে দিতে পারেন সেজন্যই আমাদের আন্দোলন। আমাদের হিন্দু ভাই-বোনরা যাতে ভোট বিমুখ হয়ে যান সেই পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশন ও সরকার সৃষ্টি করে দিয়েছে।

হিন্দুদের ওপর অন্যায় ও নির্যাতন হচ্ছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, রংপুরের নির্বাচনের সময়ও আমরা নিন্দা জানিয়েছিলাম। এবারও আমরা অনেক আগে থেকেই বলেছিলাম, এই উৎসবের দিন ভোট দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি না করার জন্য। এরপরও তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের হিন্দু ভাই-বোনদের অপমান করেছে, আমাদের দেশের একটা উৎসবকেও তারা অপমান করেছে।

প্রচারণায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা ব্যানারে মুক্তি দাবি করা হয় বিএনপির চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার। ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’ লেখা সম্বলিত ব্যানারটি বহন করছিলেন আকাশী রঙে সজ্জিত যুবক।

অমৃতবাজার/এসএইচএম