ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

‘আ. লীগ স্বাধীনতার পরে দানবে পরিণত হয়েছে’


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:০১ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৩:১৪ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
‘আ. লীগ স্বাধীনতার পরে দানবে পরিণত হয়েছে’ ছবি- গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ফখরুল

আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে দানবে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশানে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও বাকশালী পুলিশ র‌্যাব কর্তৃক গুম, খুন ও নির্মম নির্যাতনের শিকার পরিবারের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তি অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হেল্প সেল। এখানে ১০টি পরিবারকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রায় ৩৬ লাখ আসামি। ১ লাখের ওপরে মামলা। ৫শ এর চেয়ে বেশি গুমের ঘটনা ঘটেছে। থানায় নিয়ে গুলি করে মেরে ফেলা হয়েছে, পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তাদের অপরাধ তারা গণতন্ত্র চায়, কথা বলতে চায়, স্বাধীনতা চায়, মুক্তি চায়। স্বাধীনতার সময় যুদ্ধ করেছিলাম এইজন্যে যে আমার তরুণ, যুবক পঙ্গু হয়ে যাবে, রাষ্ট্রের নির্যাতনে, আমার শিশু তার পিতাকে হারাবে? কোন রাষ্ট্র তৈরি করেছি আমরা। আমাদের ছেলেরা গ্রেফতার হচ্ছে, নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আমরা পারছি না, সে না পারার যন্ত্রণা আমাদেরকে দগ্ধ করছে। আমাদের নেত্রী এই বিষয়ে আপোসহীন। জেলের মধ্যে অসুস্থ কিন্তু তার চিকিৎসা হচ্ছে না।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ২০০৮ সালের পরে শুধু খোলসটা পাল্টে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধান সংশোধন করেছে। তারপর একে একে বাংলাদেশের মূল চেতনাকে ধ্বংস করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছে। তাদের শাসন ব্যবস্থাকে পাকাপোক্ত করতে রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্রগুলোকে ব্যবহার করছে। এর মধ্যে যারা প্রতিবাদ করতে চেয়েছেন তাদের আজকে অনেকেই আমাদের মাঝে নেই। তাদের কাউকে হত্যা, গুম ও কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছে। গোটা জাতিকে একটা নির্যাতনের কারখানা তৈরি করে ফেলেছে।

‘যে শিশুরা এখানে আছে তারা ভাবে হয়তো তাদের বাবা ফিরে আসবে, মা ভাবে সন্তান ফিরে আসবে, স্ত্রী ভাবে তার স্বামী ফিরে আসবে? কিন্তু আসে না। এই পরিস্থিতি একটা অসহনীয় পরিবেশ। দম বন্ধ করা একটা পরিবেশ। সমাজ আজকে কিভাবে এই ধরনের পরিস্থিতি সহ্য করছে সেটাও চিন্তা করার বিষয়। কিন্তু তাদের (আওয়ামীলীগ) দাম্ভিকতার শেষ নেই। প্রতিমুহূর্তে নির্যাতন, নিপীড়ন চালিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে একেবারে কোনঠাসা করে ফেলেছে, পদদলিত করছে। নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। কিন্তু তাদের অনুতাপটুকুও হয় না সাধারণত।’ যোগ করেন মির্জা ফখরুল।

সমাজকে আওয়ামী লীগ নষ্ট করে দিচ্ছে দাবি করে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যত নষ্ট করে দিচ্ছে। এমন একটা সমাজ তৈরি করা হয়েছে যে সমাজে এরা মানুষ হতে পারবে না। এটা সবচেয়ে বড় ক্রাইম। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করা হচ্ছে। এদিকে নির্বাচন কমিশনে দুই একজন বাদে (মাহবুব তালুকদার বাদে) কারও লজ্জা শরম নেই। তাদের পদত্যাগ করা উচিত কিন্তু তারা করবে না। মানুষের যে লজ্জা থাকে সেটাও তাদের নেই। এদিকে ইভিএম এ ভোটারদের প্রতিফলন না ঘটার মতো যথেষ্ট কৌশল এটাতে রয়েছে। এটার বিরুদ্ধে আমরা বিরোধীতা করেছি। এখনো করছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল। এসময় আরও বক্তব্য রাখেন, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপির নিবার্হী সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এনামুল হক চৌধুরী।

অমৃতবাজার/এমআর