ঢাকা, রোববার, ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনজুর আলমকে চাইছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:২৫ পিএম, ২২ নভেম্বর ২০১৯, শুক্রবার
সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনজুর আলমকে চাইছে যুবলীগের নেতাকর্মীরা

মাত্র দুইদিন। আগামী ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের জাতীয় কংগ্রেস। কংগ্রেস সফল করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে দলটি। দলের শীর্ষ নেতৃত্বে আসতে আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন অনেকেই।

তবে এবারের যুবলীগের আসবে বেশ পরিবর্তন। যারা দলের ত্যাগী নেতা তারাই টিকে থাকবে। যুবলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে অনেকের নাম। এর মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন মনজুর আলম শাহীন। নেতাকর্মীদের দৃষ্টিতে এগিয়েই আছেন বর্তমান যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনজুর আলম শাহীন।

জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুবলীগের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে যারা আসবেন তারা সংগঠনের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, দলে পরীক্ষিত, ত্যাগী, ক্লিন ইমেজ ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ এমন নেতাদেরই দায়িত্ব দেবেন। আর হিসেবেই বাছাই হবে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

৮০-৯০ দশকে চট্টগ্রামের রাজপথ কাঁপানো ছাত্রনেতা ছিলেন তিনি। তবে রাজনীতি শুরু ছাত্রজীবন থেকেই। বাণিজ্য বিভাগের মেধাবী ছাত্র মনজুর আলম শাহীন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্সে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হোন। শুরু থেকে পড়েন ইসলামী ছাত্রশিবিরে রোষানলে।

নির্যাতিত হন। তবু বঙ্গবন্ধুর আর্দশ থেকে সরে যাননি। এরপর ১৯৮৬ সালে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হোন। সে সময় দীর্ঘদিন কারা ভোগ করেন। ১৯৯০ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবিরকে হারাতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য গঠিত হয়েছিল তার অন্যতম রূপকার ছিলেন শাহীন। ছাত্রঐক্য চাকসু এবং এফ রহমান হল ছাড়া সব হলে জয় লাভ করে। পতন হয় ছাত্রশিবিবের দূর্গের।

যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তিনিই সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ফেনী সদরের মাস্টার পড়ায় এক আওয়ামী লীগ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মনজুর আলম শাহীন। তার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ফেনী পাইলট হাইস্কুলে পড়ার সময় যুক্ত হোন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। পালন করেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব। এসএসসি পাশ করে ভর্তি হন ফেনী কলেজে। কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসাবে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন শাহীন।

পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের (মাইনু-ইকবাল) কমিটির সহসভাপতি হন। দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকা জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের (নানক-আজম) কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসাবে। তার বড় ভাই শাহ আলম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সহসভাপতি ছিলেন। তার স্ত্রী শামীমা আক্তার ফেন্সি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তার নাম আসার পর অনেকেই শুভ কামনা জানিয়েছেন। অনেকেই তাকে নিয়ে আশার দেখছেন। তৃণমূলে যারা তাকে চেয়েছেন তারাও মনজুর আলমকেই চাই। ফেসবুকে তাকে নিয়ে, তার দায়িত্ব পাওয়া নিয়ে অনেকে পোস্ট দিচ্ছেন। এই রকম তার একজন শুভকাঙ্খী প্রবাসী সাংবাদিক শওগাত আলী সাগর। তিনি তার একটি লেখায় লিখেছেন, শুনেছি শাহীন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হয়েছে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাকে করা হবে কী না- সেটি দলের সম্মেলনই ঠিক করবে।

সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনীতির অভিজ্ঞতা, দলের প্রতি, নেতৃত্বের প্রতি, শেখ হাসিনার প্রতি তার যে আস্থা- তাতে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা না করার তো কোনো কারণই দেখি না। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে আঁকড়ে পরে থাকা, শেখ হাসিনাকে ভালোবেসে রাজনীতিতে পরে থাকা, আমাদের বন্ধু মনজুর আলম শাহীনের জন্য শুভ কামনা রইল।

উল্লেখ্য, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মনি। তিনি ৩২ বছর বয়সে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠাকালীন যুবলীগের। সময়ের পরিক্রমায় যুব সংগঠনটির দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে আরো অনেককেই। তবে এবার যুবলীগকে নেতিবাচক ধারা থেকে বের করে ইতিবাচক ধারায় যুক্ত করতে চান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যুবলীগকে ঢেলে সাজাতে চান তিনি। সে কারণে শুদ্ধি অভিযানের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ বিশ্বস্ত, প্রতিশ্রুতিশীল ও মেধাবী নতুন নেতৃত্বের খোঁজ করছেন নিজেই।

তবে শেষ এই দুইদিনে তৃণমূল পর্যায়ের সবার দৃষ্টি এখন যুবলীগের সম্মেলনের দিকে। যারা রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নেই এমন সাধারণ মানুষের কৌতূহলও কে হবেন যুবলীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক। কেমন তারুণ্য নির্ভর হবে যুবলীগ? সংগঠনটির এই ক্রান্তিকালে কারা আসছেন নেতৃত্বে? সেটি দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ২৩ নভেম্বর বিকাল পর্যন্ত।

অমৃতবাজার/এএস