ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ৩ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

গরম খবর আসছে, সেতুমন্ত্রীর আভাস


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:৩৫ পিএম, ০২ অক্টোবর ২০১৯, বুধবার
গরম খবর আসছে, সেতুমন্ত্রীর আভাস

 

‘গরম খবর আসছে, অপেক্ষা করুন’ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যে তোলপাড় বিভিন্ন মহল। অনেকের প্রশ্ন, কী সেই গরম খবর।

বর্তমান সময়ের আলোচিত ঘটনা ক্যাসিনো অভিযান, খালেদা জিয়ার মুক্তি প্রসঙ্গ বা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। এছাড়াও রয়েছে নানা আলোচিত ইস্যু। এসব ঘটনার মধ্যেই ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে নিয়ে তৈরি হয়েছে ধ্রুমজাল।

ক্যাসিনো কাণ্ডসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান বেশ আলোড়ন তুলছে সব মহলে। সম্প্রতি একদিকে যেমন পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে। অন্যদিকে চলমান অভিযানে ধরা পড়েন ক্ষমতাসীন দলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী সংগঠন যুবলীগের কয়েকজন নেতাসহ আলোচিত বেশি কিছু ব্যক্তি।

বেশ কিছুদিন ধরে রাজধানীতে চলছে এই অভিযান। বিভিন্ন ক্লাবের নামে টাকা উড়ানো এসব ক্যাসিনো বন্ধ করে দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একের পর এক অভিযানে ধরা হয় ক্যাসিনো সম্রাটদের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন সাহসী সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মনে ফিরেছে স্বস্তি। অনেকেই প্রশংসায় করছেন সরকারের এমন অভিযানের সিদ্ধান্তে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে চলছে বেশ আলোচনা।

দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-এমপি ও প্রভাবশালী রাজনীতিকের নাম জানা গেছে। দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ায় সরকারী দল ও অঙ্গ সংগঠনের চার শতাধিক নেতাকর্মী দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং ছয় শতাধিক নেতাকর্মী আত্মগোপনে রয়েছে বলে পুলিশের সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ক্যাসিনোর বিষয়ে ইতোমধ্যে মতিঝিল এলাকার সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন, জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী এমপি, বেসামরিক বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীসহ ৫ জনকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। নোটিশ প্রাপ্ত অন্যরা হলেন, স্বরাষ্ট্র সচিব মোস্তফা কামাল এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মহিবুল হক।

ক্যাসিনো অভিযান নিয়ে বুধবার এক অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার পর শুদ্ধি অভিযানের আরো গরম খবর থাকবে, অপেক্ষা করুন’।

এদিকে বর্তমান সময়ের আরেকটি আলোচিত বিষয় খালেদা জিয়ার মুক্তি। এ নিয়ে চলছে বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য।

গতকাল মঙ্গলবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে দলের যুগ্ম মহাসচিব সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ বলেছেন, আদালত থেকে জামিন পেলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়া বিদেশে যাবেন।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া চিকিৎসার সুযোগ পেলে অবশ্যই বিদেশ যাবেন। তিনি আজকে জামিন পেলে কালকেই বিদেশ যাবেন এবং যদি আজকে জামিন পান তাহলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে চিকিৎসা। তাহলে কালকেই দেখা যাবে যে, তিনি ভিসার জন্য আবেদন করবেন।

এমপি হারুন বলেন, যেরকম তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা তাতে তার চিকিৎসা বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কেনো এই চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে? এটা সারাদেশের মানুষ জানতে চায়।

কান্নাজড়িত কন্ঠে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার অবস্থা খুব বেদনাদায়ক, খুবই পীড়াদায়ক এবং কষ্টদায়ক-এটি ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তার প্রতি সরকারের চরম জুলুমের বহিঃপ্রকাশ যা দেখেছেন তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

বিএনপির এই নেতা বলেন, খালেদা জিয়া চরম অসুস্থ এবং হাত দিয়ে নিজের খাওয়া নিজে খেতে পারেন না, তার হাত কাঁপে। নিজের কাপড় নিজে পড়তে পারেন না। এই অবস্থায় তাকে বন্দি রাখা-এটা কত বড় অমানবিক। খালেদা জিয়া শুধু দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

তিনি বলেন, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী, দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম নেত্রী আজকে চরম অমানবিক জুলুমের শিকার। এটি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এ সময় অন্য দুই সাংসদের চোখ দিয়ে পানি পড়ছিল।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের বক্তব্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘তিনি (হারুন) আমার সঙ্গে দেখা করেও এ কথা বলেছেন। বলেছেন- বেগম জিয়াকে ঘিরে তাদের অভিপ্রায়ের কথা। জামিন পেলে তিনি বিদেশ যাবেন। আমাদের মুখ দিয়ে এটা বলিনি। তারাই যখন বলছেন, তাই আমি নিঃসংকোচে বলতে পারি- তিনি আমাকেও বলেছেন বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে বলার জন্য। সেটা আমি জানিয়েছি।’

কাদের বলেন, ‘তিনি (বেগম জিয়া) জামিন পাবেন কি না, সেটা আদালতের বিষয়। সরকার আদালতকে কীভাবে বলবে যে জামিন দিয়ে দেন। এটা কী বলা উচিত? বিচারব্যবস্থার প্রতি এটা অসম্মান নয় কি? তাহলে তো সরকারের হস্তক্ষেপই হয়ে গেল।’

এছাড়াও আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে রয়েছে নানা কৌতূহল। এ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এবার সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে আসবে উজ্জ্বল ভাবমূর্তির নেতারা।’

এছাড়া আগে মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির সম্মেলন হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

দেশের এই চলমান পরিস্থিতিতে এখন দেখার বিষয় কী আসছে গরম খবর। অনেকেই ধারণা করছেন ক্যাসিনো অভিযানে ধরা পড়তে পারেন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কোনো ব্যাক্তি বা আওয়ামী লীগের কোনো কেন্দ্রীয় নেতা। এছাড়াও অনেকে ধারণা করছেন, এই গরম খবর হতে পারে খালেদা জিয়ার মুক্তি।

অমৃতবাজার/এএস