ঢাকা, শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯ | ৫ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘সরকারের নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার’


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ৩০ জুন ২০১৯, রোববার
‘সরকারের নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় থাকার’

টানা এক দশক ক্ষমতায় থাকার পরো দেশে মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষক নিশ্চিত করতে না পারায় সরকার ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

রোববার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে প্রস্তাবিত দায়যুক্ত ব্যয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয় সম্পর্কিত মঞ্জুরি দাবির উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন বিএনপির এই সাংসদ।

টাইমস হায়ার অ্যাডুকেশনের এক জরিপের তথ্য দিয়ে ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় ভারতের ৪৯টি, নেপাল ও শ্রীলংকার একটি, পাকিস্তানের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও সেখানে জায়গা করতে পারেনি। জাপানের উদাহরণ দিয়ে এই বাজেটে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একটি সরকার এক দশক ক্ষমতায় থাকার পরও মানসম্পন্ন শিক্ষক তৈরি করতে পারেনি। বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার কথা বলতে হয়। তখন সেই সরকার আর ক্ষমতা থাকার নৈতিক অধিকার রাখে না।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শিক্ষাখাতে বাংলাদেশের বাজেট বরাদ্দের তুলনা করে রুমিন ফারহানা বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে বাজেট বরাদ্দ দেয়ার পরিমাণ যথাক্রমে নেপাল ৩ দশমিক ৭, ভারত ৩ দশমিক ৮, মালদ্বীপ ৩ দশমিক ২ ও ভুটানের শিক্ষাখাতের বরাদ্দ ৭ দশমিক ৪। বাংলাদেশের মোট বাজেটের ২০ শতাংশ অথবা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখার কথা। কিন্তু আমরা দেখছি, শিক্ষায় সেই বরাদ্দ ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

বিদেশি চাকরিজীবীরা বছরে ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‍দেশের বিভিন্ন সেক্টরে চাকরি করা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর নাগরিকরা প্রতিবছর প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের এমপ্লয়াররা যখন চাকরির জন্য বিজ্ঞাপন দেয়, তখন দেখা যায়, দেশের স্নাতকোত্তর লেভেলের শিক্ষার্থীদের নিতে পারছে না। চাকরিদাতারা স্পষ্ট করে বলেন, আমাদের দেশের শিক্ষার মান আর্ন্তজাতিক নয়।

তিনি আরো বলেন, নকল ও প্রশ্নফাঁসের প্রবণতায় জিপিএ-৫ বেড়েছে সত্য। কিন্তু শিক্ষার সার্বিক মানের উপর কোনো প্রভাব ফেলেনি। জিপিএ-৫ এখন আমাদের শিক্ষার স্ট্যান্ডার্ড।

বিএনপির এই সাংসদ বলেন, কর্মমুখী শিক্ষায় আগের বছরগুলোর মতো বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সরকার কর্মমুখী শিক্ষায় আদৌ গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাই এদেশে ৪৭ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকারই থেকে যাবেন, সেটাই স্বাভাবিক।

অমৃতবাজার/পিকে