ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন প্রত্যাহার


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ২০ মে ২০১৯, সোমবার
ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের আন্দোলন প্রত্যাহার

ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণার পর থেকে অভিযোগ, আপত্তি, বিক্ষোভ জানিয়ে আসছিলেন পদবঞ্চিত ও প্রত্যাশিত পদ না পাওয়া নেতারা। ওই দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে পদপ্রাপ্ত নেতাদের সমর্থকদের হাতে বঞ্চিতরা মারধরের শিকার হন।

পদবঞ্চিতদের অভিযোগ, কমিটিতে অনেক অযোগ্য ও বিতর্কিতদের রাখা হয়েছে। এরপর শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির ভেতরে কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর সঙ্গে কথা বলতে যায় পদবঞ্চিত নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল।

সেখানে শোভন-রাব্বানীর সমর্থকরাও অবস্থান করছিলেন। সেখানে ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন পদবঞ্চিতরা।

কিন্তু ১৯ মে (রোববার) রাত দেড়টার দিকে ছাত্রলীগের নতুন পূর্ণাঙ্গ কমিটি থেকে বিতর্কিতদের এবং মধুর ক্যান্টিনে পদবঞ্চিতদের ওপর হামলার ঘটনায় চিহ্নিতদের বহিষ্কারের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনকারীরা। ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজু সন্ত্রাসবিরোধী ভাস্কর্যের সামনে থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন গত কমিটির প্রচার সম্পাদক ও আন্দোলনকারী সাঈফ বাবু।

সাঈফ বাবু বলেন, ‘আমাদের দাবি মানা হয়েছে, তাই আমরা আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। আমাদের দাবি ছিল, বিতর্কিতদের কমিটি থেকে বাদ দিয়ে যোগ্যদের স্থান দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সাক্ষাৎ করিয়ে দিতে হবে। এছাড়াও দুটি হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিচার করতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগ সভাপতি সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। বিভিন্ন ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। মধুর ক্যান্টিনে হামলার ঘটনার প্রসঙ্গে রাব্বানী বলেন, ‘আমরা চার জনকে বহিষ্কার করবো, আরও যদি কেউ থাকে তাদেরও বহিষ্কার করা হবে।’

এর আগে, ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পদবঞ্চিতদের সঙ্গে সংগঠনটির শীর্ষ দুই নেতার দ্বন্দ্ব মেটানোর জন্য ধানমন্ডির আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে উভয়পক্ষের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাম্মেল হক ও বাহাউদ্দিন নাছিম। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা আবু কাওসার।

রাত ১২টার দিকে আন্দোলনকারী ছাত্রলীগ নেতা আল মামুন জানান, পদবঞ্চিতদের আলোচনায় ডেকেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা পার্টি অফিসে যান। বাকিরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে আছেন।

জানা যায়, ছাত্রলীগ সভাপতি সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সেখানে গিয়েছেন ছাত্রলীগের রোকেয়া হলের সভাপতি বিএম লিপি আক্তার, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা পারভীন, শামসুন নাহার হলের সভাপতি নিপু ইসলাম তন্বী, ডাকসুর সদস্য তিলোত্তমা সিকদার, গত কমিটির প্রচার সম্পাদক সাঈফ বাবু, বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হলের সভাপতি শ্রাবণী শায়লা, জসীম উদ্দীন হলের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান।

অমৃতবাজার/আরএইচ