ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিভক্ত নির্বাচন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৩:৩৪ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার | আপডেট: ০৩:৩৬ পিএম, ২০ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার
বিভক্ত নির্বাচন কমিশন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়: মির্জা ফখরুল

নির্বাচন কমিশনকে ঘিরেই দেশের সবচেয়ে বড় সংকট মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, এই সংকট আজ রাষ্ট্রের। তাই বিভক্ত নির্বাচন কমিশন দিয়ে দেশে কোনো সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

শনিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত ‘ফরমায়েশী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল কর’ শীর্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনার প্রকাশ্যে বলে দিয়েছেন যে আমি সুষ্ঠু নির্বাচনের যে প্রস্তাবগুলো দিয়েছিলাম তা বিবেচনা করা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন বিভক্ত হয়ে পড়ছে। অথচ নির্বাচন কমিশন থাকতে হবে একটা। নির্বাচন কমিশনে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা রাষ্ট্রীয় সঙ্কট। একজনকে জোর করে ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়া একটা নির্বাচন কমিশন হতে পারে না।’

ফখরুল বলেন, ‘এটা সংবিধানের পরিপন্থী এবং রাষ্ট্রদ্রোহী অপরাধ। আমরা অনেক আগেই বলেছি, এই নির্বাচন কমিশন কাজ করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হতে হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কোনো ক্ষমতা নেই। প্রধান নির্বাচন কমিশনার সবচেয়ে অসহায় ব্যক্তি। সকালে এক কথা বলেন, বিকেলে আরেক কথা বলেন। আমরা সকল রাজনৈতিক দলের সাথে সংলাপের কথা বলেছিলাম। বললেন, আমাদের এখতিয়ার নেই। তাহলে এখতিয়ার কী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসানো?’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ২৩ তারিখে জনসভা করতে চেয়েছিল, নাশকতা হতে পারে এজন্য অনুমতি দেয়া হয়নি, আর ওখানে চরমোনাই জনসভা করছে, সেখানে নাশকতা নেই। হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সাহেব রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করছেন, সেখানে নাশকতা নেই। বিরোধী দল কথা বলতে গেলে নাশকতা হয়। ডা. জাফরুল্লাহর মতো লোক নাশকতা করতে চায়, এসব বাদ দিয়ে সিধে পথে আসুন।’

তিনি বলেন, ‘শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি গোটা বাংলাদেশে। গায়েবি মামলার সংখ্যা ৫ হাজার ছাড়িয়েছে। মোট মামলার সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৯০ হাজার। গায়েবি মামলায় এখনও পর্যন্ত আসামি করা হয়েছে ৫ লাখ। এই সরকার আসার পর থেকে সামগ্রিকভাবে আমাদের আসামির সংখ্যা ২৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হওয়ার পর তাদের শেষ রক্ষা হবে না। গোটা বাংলাদেশের মানুষ জেগে উঠবে। সেই কারণে তারা মুক্তি দিতে চায় না। তারা একটা জিনিস ভুলে গেছেন যে দেশনেত্রী কারাগারে থাকুন আর বাইরে থাকুন তিনি এদেশের সবচেয়ে প্রিয় মানুষ। তার মুক্তির জন্য এদেশের মানুষ যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। ’

জাগপার সহসভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়ার প্রধানের সভাপতিত্ব সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান প্রমুখ।

অমৃতবাজার/সুজন