ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘প্রধানমন্ত্রীর খাপছাড়া বক্তৃতায় দৈন্যদশার বহিঃপ্রকাশ’


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০২:৩৩ পিএম, ১৫ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার
‘প্রধানমন্ত্রীর খাপছাড়া বক্তৃতায় দৈন্যদশার বহিঃপ্রকাশ’ ফাইল ছবি

 

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ বলেছেন, গতকাল (রোববার) শিবচরে শেখ হাসিনার বক্তব্য বিভ্রান্ত মনের উন্মাদনা। আওয়ামী সরকারের পড়ন্ত বেলায় প্রধানমন্ত্রীর খাপছাড়া বক্তৃতায় দৈন্যদশার বহিঃপ্রকাশ। অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে শেখ হাসিনার একগুঁয়েমির জন্য রাজনীতির ময়দান শান্ত, নিরাপদ ও সুখময় হয়ে উঠবে না।

সোমবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনস্থ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবীর রিজভী বলেন, আমি আবারো প্রধানমন্ত্রীকে বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দী করে এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় একের পর এক সাজা দিয়ে আপনার ক্রোধাগ্নি নির্বাপণ করতে পারেননি, এর ওপর মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে পাথর চাপা দিয়ে সারাজাতির দম বন্ধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ নানা কালাকানুন করে আপনারা গণতন্ত্রকেই লকআপ করেছেন।

তিনি বলেন, এখন মানুষ মন খুলে কথা বলতে এবং হাসতেও ভয় পায়। মানুষ এখন ডিজিটাল আতঙ্কে ভুগছে। আপনার নির্বাচনে ভোটারদের কোনও অস্তিত্ব নেই, আপনার অধীনে যত নির্বাচন হয়েছে তা ভোট ডাকাতি।

গণমাধ্যমগুলোর মালিক ও সাংবাদিকরা চরম আতঙ্গে আছেন উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, এরপরেও কী আপনাকে গণতন্ত্রের মানসকন্যা বলতে হবে?

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান লুট হয়ে গেল, আপনার আমলে বাংলাদেশ থেকে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেল, ঘুষ ছাড়া এখন কিছুই হয় না, ঘুষ নিতে মন্ত্রীরাও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহিত করে, আপনার কেবিনেটের অর্থমন্ত্রী সংসদে বলেছেন-বাংলাদেশে এখন পুকুর চুরি নয়, সাগর চুরি হচ্ছে; তারপরেও কি বলতে হবে আওয়ামী মহাজোট সরকার সৎ ও স্বচ্ছ সরকার?

আইটি সেক্টরের লক্ষ কোটি ডলারের দুর্নীতি কিন্তু মানুষের অজানা নয় জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ভিওআইপি ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত সেটিও মানুষ অবগত। নানা মুখোশে শোভিত অতি ক্ষমতাবানদের মুখোশের ভেতরের চেহারাটার খবরও রাখে জনগণ। একদিন হুড়মুড় করে সব বেরিয়ে পড়বে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দিয়েও সেটি আটকানো যাবে না।

রিজভী বলেন, সকল রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক ইভিএম এর বিরোধীতা করলেও সরকারের অনড় প্ররোচনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ইভিএম পদ্ধতি কেন চালু করতে চাচ্ছেন? সেই থলের বিড়ালটি এখন বেরিয়ে পড়ছে।

তিনি আরো বলেন, ভারতের চেয়েও এগার গুণ বেশি দামে ইভিএম কেনার উদ্দেশ্যই হচ্ছে ভোটের আগে বেশ বড় পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেয়া। নির্বাচনের প্রাক্কালে এই টাকা কমিশনের কিছু ব্যক্তিকে উপহার দিলেন কিনা?

অমৃতবাজার/সুজন