ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জয় বাংলা হিন্দুর স্লোগান নয়: নৌপরিবহন মন্ত্রী


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৪:১৩ পিএম, ০৭ অক্টোবর ২০১৮, রোববার
জয় বাংলা হিন্দুর স্লোগান নয়: নৌপরিবহন মন্ত্রী

‘জয় বাংলা’ হিন্দুর স্লোগান নয় উল্লেখ করে নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, আমার ভাষা বাংলা, তাই আমি যদি আমার দেশ ও মাটিকে ভালোবেসে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান বলি সেটি কেন হিন্দুর স্লোগান হবে? এটা হিন্দুর স্লোগান নয়, এটা মুসলমানের স্লোগান।

মক্কা বিজয়কালে মহানবী (সাঃ) ফাতুন মক্কা, ফাতুন মক্কা বলে স্লোগান দেন। যার অর্থ জয় মক্কা, জয় মক্কা। নবীর ভাষা আরবী ছিল। তাই তিনি আরবীতে এই স্লোগান দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন সরকারের এই প্রভাবশালী মন্ত্রী। শনিবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নগরীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশান সেন্টারে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোটারক্ষার দাবির যৌক্তিকতা ও অযৌক্তিকতা সময়ই বলে দিবে উল্লেখ করে নৌ মন্ত্রী বলেন, ‘গত সপ্তাহে কেবিনেটে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তের পর আমাদের সন্তানরা কোটারক্ষার দাবি জানিয়েছে। এর আগে কোটা আন্দোলনের সময় আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা ৬ দফা দাবি পেশ করেছিলাম। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কেবিনেট সভাতেও বলেছিলেন। সে আন্দোলনের সময় আমরা দেখেছি কোটা বাতিলের দাবি তুলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে আক্রমণ করা হয়েছে। সেদিন মঙ্গল শোভাযাত্রার জন্যে নির্মিত সরঞ্জামও ভাঙচুর করে। শুধু তাই নয়, ফেসবুকে মুক্তিযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করা হয়। তারা কারা? আমরা জানতে চাই তাদের পরিচয় কী?’

সরকারি চাকরিতে স্বাধীনতাবিরোধী সন্তানদের নিয়োগ দেয়া যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘এদের চাকরি দেয়া হলে বড় বড় পদে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে কাজ করবে। আগে তার বংশ পরিচয় নিতে হবে। তার জন্যে যেমন মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করা হয়েছে ঠিক তেমনি রাজাকারের তালিকা তৈরি করতে হবে। যারা বলে তাহলে গণতন্ত্র কী করে হবে, তাদের ভিয়েতনামের ইতিহাস জানা উচিত। সেখানে স্বাধীনতা বিরোধীদের তিন প্রজন্মকে সরকারি চাকরিতে নেয়া হয়নি।’

এদিকে এর আগে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী। উত্তম কুমার বড়ুয়ার সঞ্চালনা ও চট্টগ্রাম মহানগর বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দিন।

প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন নৌপরিবহন মন্ত্রীর পুত্র ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ও প্রজন্ম সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক আসিবুর রহমান খান। বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নাট্য-অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সদস্য আসাদুজ্জামান দুর্জয়, বাগমনিরাম ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন প্রমুখ।

সম্মেলনে উত্তম কুমার বড়ুয়াকে সভাপতি ও গোলাম রসূল নিশানকে সাধারণ সম্পাদক করে সংগঠনটির নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।

অমৃতবাজার/মিঠু