ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘খালেদা জিয়া আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন’



প্রকাশিত: ০৬:১০ পিএম, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
‘খালেদা জিয়া আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পরে খালেদা জিয়াকে আমি বাড়ি দিয়েছিলাম, সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ দিয়েছিলাম। আর খালেদা জিয়া আমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। জেলখানায় চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, ঈদের নামাজ পর্যন্ত পড়তে দেওয়া হয়নি।’

বৃহস্পতিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-১৭ আসন ক্যান্টনমেন্ট ও মিরপুর কচুক্ষেত এলাকায় নির্বাচনী প্রচারের সময় তিনি এসব কথা বলেন।

হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, খালেদা জিয়া আমাকে বিনাবিচারে টানা ৬ বছর জেলে রেখেছেন, অমানুষিক নির্যাতন করেছেন। বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছি আমি এবং জাতীয় পার্টি। ভাগ্যের পরিহাস খালেদা জিয়াই এখন কারাগারে আছেন।

তিনি বলেন, আমরা মানুষ খুন করিনি, আমাদের হাতে রক্তের দাগ নেই। তাই আল্লাহর রহমত আর সাধারণ মানুষের ভালোবাসায় এখনও বেঁচে আছি। জাতীয় পার্টি এখন শক্তিশালী দল, আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে প্রস্তুত।

স্থানীয় জনসাধারণের উদ্দেশ্যে এরশাদ বলেন, ঢাকা-১৭ আসন রাজধানীর অভিজাত এলাকা, এখনকার সর্বস্তরের মানুষের কাছে জাতীয় পার্টির গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে এই আসনে সাধারণ মানুষ আমাকে প্রায় দেড় লাখ ভোট বেশি দিয়ে নির্বাচিত করেছিলেন। আবারও নির্বাচন করবো, দেশের মানুষকে গুম, খুন থেকে মুক্তি দেবো।

জাতীয় পার্টি দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে উল্রেখ করে তিনি আরও বলেন, খবরের পাতা খুললেই শুধু হত্যা আর রক্তের খবর। সড়কে প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে, কারও কোনও ভ্রুক্ষেপ নেই। কারও যেনো কিছু যায় আসে না। এভাবে চলতে পারে না, মানুষ পরিবর্তন চায়।

এ সময় জাপা আমলে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ১০ হাজার মাইল পাকা রাস্তা করেছি, উন্নয়নের জন্য এলজিআরডি গঠন করেছি, ৪৬০টি উপজেলা করেছি, ২১ জেলা থেকে ৬৪টি জেলায় উন্নীত করেছি। আমরা যে উন্নয়ন করেছি, আর কোনও সরকার তা করতে পারেনি। আমরা ছাড়া কেউ এ দেশে সুশাসন দিতে পারেনি। আবারও মানুষের সামনে এসেছি, আমরা বিজয়ী হয়ে দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে চাই।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নুরু, আমানত হোসেন আমানত, সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল হক, সুলতান আহমেদ সেলিম, মো. জসীম উদ্দিন ভূঁইয়া, মো. হেলাল উদ্দিন, নাসির উদ্দিন প্রমুখ ও মোস্তফা আল মাহমুদ সহ আরও অনেকে।

অমৃতবাজার/সুজন