ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জোটে মরিয়া মান্না


অমৃতবাজার রিপাের্ট

প্রকাশিত: ০৯:০৫ এএম, ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার
জোটে মরিয়া মান্না

নাগরিক ঐক্যের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুর রহমান মান্নার ফেসবুক কভার ছবিতে এখনো লেখা ‘দুই নেত্রীর হাতে দেশ নিরাপদ নয়। তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার এখনই সময়।’ অথচ দুই নেত্রীর একজন খালেদা জিয়ার বিএনপির সঙ্গে জোট গঠনে যুক্তফ্রন্টে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী মান্না।

ছাত্রজীবন শেষ করে মূল ধারার রাজনীতিতে এসেছেন। নিজের এলাকা বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে একাধিকবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে দুইবার। একবার ‘জনতা মুক্তি পার্টি’ থেকে। কোনোবারই জয়ী হতে পারেননি এক সময়ের তুখোর এই ছাত্রনেতা। এর মধ্যে মুক্তি পার্টির হয়ে অংশ নিয়ে জামানতের টাকা উদ্ধার হয়নি।

ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন মান্না। স্বাধীনতার পর জাসদ গঠিত হলে চলে আসেন দলটিতে। ১৯৭৩ সালে ২২ বছর বয়সে চলে আসেন জাসদ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদেও।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৭২ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে চাকসুর জিএস নির্বাচিত হন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে ১৯৭৯ সালে জাসদ ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন। এরপরই জাসদ ভেঙে খালেকুজ্জামান ও আ ফ ম মাহবুবুল হকের নেতৃত্বে বাসদ গঠিত হলে মান্না থাকেন তাদের সঙ্গে। বাসদ ছাত্রলীগ থেকে ১৯৮০ সালে নির্বাচন করে দ্বিতীয় দফায় ডাকসুর ভিপি নির্বাচিত হন।

১৯৯২ সালে জনতা মুক্তি পার্টি আওয়ামী লীগে বিলুপ্ত হলে মান্না হয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা। প্রয়াত আবদুল জলিলের কমিটিতে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। ১৯৯৬ সালে বগুড়া-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দেয়। কিন্তু তিনি শেষরক্ষা করতে পারেননি। বহু ভোটে হারেন বিএনপি প্রার্থীর কাছে। ২০০১ সালে আবারো আওয়ামী লীগের টিকিট পান তিনি। এবার ব্যবধান বাড়ে। জনতার মনে জায়গা কখনো হয়নি তার।

২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাংগঠনিক সম্পাদক পদটিও হারান। নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন রাজনীতিতে। তবে টেলিভিশন টক শো-তে সক্রিয় থাকেন। একটা সময় তাকে নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতিনিধিত্ব করতে দেখা যায়।

এর মধ্যে ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। ২০১২ সালে আবারো রাজনীতিতে ফিরে আসার চেষ্টায় নিজেই সংগঠন গড়ে তোলেন। নাম দেন ‘নাগরিক ঐক্য’। ঘোষণা দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির বাইরে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তার দলকে দেখতে চান। কিন্তু কেন্দ্রের বাইরে তৃণমূলে নাগরিক ঐক্যের কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি কখনোই।

অমৃতবাজার/জয়