ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কারা আসছেন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে!


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৭:২৬ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শনিবার | আপডেট: ০৭:৩৬ পিএম, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, শনিবার
কারা আসছেন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে!

ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন আগামী ৩০ এবং ৩১ মার্চ রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনের মাধ্যমে দেশের প্রাচীনতম ও ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনটির নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়েও জল্পনা-কল্পনা চলছে সব মহলে।

অবশ্য তার আগেই ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই এসব শাখার সম্মেলন হবে বলে জানা গেছে। তবে দেশে কোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হলে সম্মেলনের তারিখ পিছিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পদ প্রত্যাশীদের কেউ আগে শিবির-ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলে তাদের প্রাথমিকভাবেই বাদ দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য আগে থেকেই গোয়েন্দা সংস্থার লোক দিয়ে পরিবারকে যাচাই করার জন্যও বলা হয়েছে। এছাড়াও মেধাবী, কর্মঠ, পরিশ্রমী ও সাহসীদের বের করে নিয়ে আসা হবে বলে জানা গেছে।

বয়স ২৯ করা হলে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল ইসলাম দিদার (কুমিল্লা), সহ-সভাপতি রুহুল আমীন (বরিশাল), সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম এহতেশাম (রাজবাড়ী), দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা (পাবনা), প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু (কিশোরগঞ্জ), সহ-সভাপতি আরেফিন সিদ্দিকী সুজন (মাদারীপুর), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স (বাগেরহাট), ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি বায়েজিদ আহমেদ (বরিশাল)।

বয়স ২৭ রাখা হলে উপ-আইন সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন (পঞ্চগড়), ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ বিপ্লব (টাঙ্গাইল), খুলনা অঞ্চল থেকে বিজ্ঞান সম্পাদক আনোয়ার পারভেজ আরেফিন (কুষ্টিয়া), প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাজহার শামীম (চাঁদপুর), উপ-স্কুল সম্পাদক সৈয়দ আরাফাত (চট্টগ্রাম), বরিশাল অঞ্চল থেকে উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিজয় একাত্তর হলের সাবেক সভাপতি শেখ ইনান (ঝালকাঠি)।

উত্তরবঙ্গ থেকে উপ-আইন সম্পাদক বিদ্যুৎ (কুড়িগ্রাম), চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে সহ-সম্পাদক জায়েদ বিন জলিল (চট্টগ্রাম), ফরিদপুর অঞ্চল থেকে কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক সম্পাদক রাকিব হোসেন (মাদারীপুর), ময়মনসিংহ অঞ্চল থেকে সহ-সম্পাদক মাহফুজুর রহমান দিপু, আইন সম্পাদক আল নাহিয়ান জয় (বরিশাল), ত্রাণ ও দুর্যোগ সম্পাদক ইয়াজ আল রিয়াদ (ভোলা), কৃষি সম্পাদক বরকত হোসেন হাওলাদার (পিরোজপুর), সহ-সম্পাদক খাদিমুল বাশার জয় (বরগুনা), উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক আরিফুজ্জামান আল ইমরান (বরগুনা)। এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এএফ রহমান হল ছাত্রলীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান (ফরিদপুর)।

সম্মেলনে সংগঠনের শীর্ষ পদ পেতে ইতোমধ্যেই লবিং শুরু করেছেন অন্তত শতাধিক পদপ্রত্যাশী। তারা বিভিন্নভাবে তাদের যোগ্যতা এবং দলের জন্য ত্যাগকে সামনে এনে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, যারা যোগ্য, মেধাবী, নিয়মিত ছাত্র, ভালো সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে এমন নেতৃত্বই নির্বাচিত হবে। দুঃসময়ে যারা ছাত্রলীগের জন্য কষ্ট করেছেন তাদেরকে প্রাধান্য দেয়া হবে। এছাড়াও যারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন, শেখ হাসিনার ভিশন বাস্তবায়নে এবং আগামী দিনের যে কোনো দুঃসময় মোকাবেলা করতে পারবে তারাই নেতৃত্বে আসার উপযুক্ত বলে বিবেচিত হবেন।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ জুলাই সাইফুর রহমান সোহাগকে সভাপতি এবং এস এম জাকির হোসাইনকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিছু সমালোচনা থাকলেও অন্যান্য অনেক কমিটির চেয়ে এই কমিটি সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে।

অমৃতবাজার/মাসুদ