ঢাকা, বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শাহীই যশোর ছাত্রলীগের সভাপতি, চাকলাদার পক্ষের আনন্দ মিছিল


যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১:১৭ পিএম, ১৬ জুলাই ২০১৭, রোববার
শাহীই যশোর ছাত্রলীগের সভাপতি, চাকলাদার পক্ষের আনন্দ মিছিল

যশোরের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ পক্ষের অভিযোগ ‘মিথ্যা প্রমাণ’ করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেলেন রওশন ইকবাল শাহী। শাহী বিবাহিত দাবি করে তাকে পদে বসতে না দেয়ার চেষ্টা করে সফল হয়নি এমপি পক্ষ।

রোববার রাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে শাহীকেই যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন। এরপরই যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার পক্ষ আনন্দের জোয়ারে ভাসেন। তারা আনন্দ মিছিল ও বাজিয়ে ফুটিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। সভাপতি শাহী ও সাধারণ সম্পাদক ছালসাবিল জিসান শাহীন চাকলাদারের অনুসারী।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা জানান, দীর্ঘ ছয় বছর পর উৎসবমুখর পরিবেশে গত ১০ জুলাই যশোর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনের  দ্বিতীয় অধিবেশনে ১২০ কাউন্সিলরের মধ্যে ১০৪ জনের সমর্থন পেয়ে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন রওশন ইকবাল শাহী। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির রহমান লিমন পান মাত্র ১৬টি ভোট। আর সাধারণ সম্পাদক পদে ১০৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন ছালছাবিল আহমেদ জিসান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী তৌফিকুর রহমান পিয়াস পান মাত্র ১৫টি ভোট।

কিন্তু গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নেতা নির্বাচন হলেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয় একটি পক্ষ। তারা সম্মেলনের পর পরই রওশন ইকবাল শাহীর বিরুদ্ধে বিবাহিতের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রের কাছে একটি কাবিননামা পাঠান কাজী নাবিল আহমেদসহ তার পক্ষের নেতারা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও একটি অভিযোগ দেন তারা।  কথিত বিয়ের সেই কাবিননামায় শাহীর যশোর সদর উপজেলার দাইতলা ফতেপুর এলাকার সাগর উদ্দিনের মেয়ে ইসরাত বিপাশার সাথে ২০১৩ সালের ২৩ মার্চ বিয়ে হয়। এরপর থেকেই আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন মহলে তোলপাড় শুরু হয়। তার বিয়ের কাবিননামা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে দিয়ে শুরু হয় তোলপাড়। এ অভিযোগ করা হয় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছেও।



এরপরই বিয়ের কাবিননামার সত্যতা নিশ্চিতে মাঠে নামে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের একটি টিম ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তে অভিযোগের ‘সত্যতা মেলেনি’।

ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিবাহিত ব্যক্তি ছাত্রলীগের নেতৃত্বে আসার সুযোগ নেই। এজন্য অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে সব কমিটির তদন্তে কাবিননামাটি ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে গতকাল রাতে বঙ্গবভনে যান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইন। তখন প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত নেতাদের কাছে যশোর জেলা ছাত্রলীগের দায়িত্ব দেওয়া নির্দেশ দেন।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে আমরা সত্যাতা যাচাই করেছি। একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাও তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। সব তদন্তে রওশন ইকবাল শাহী বিবাহিত নন বলে বেরিয়ে এসেছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে রওশন ইকবাল শাহী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ছালছাবিল আহমেদ জিসানকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

অমৃতবাজার/রেজওয়ান

Loading...