ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২০ | ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

ভ্যালেনটাইন ডে: দিশেহারা কিশোর-তরুণ


মাহমুদুর রহমান

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পিএম, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার | আপডেট: ০৪:১৯ পিএম, ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার
ভ্যালেনটাইন ডে: দিশেহারা কিশোর-তরুণ

দেশের শহর থেকে গ্রাম, পাঁচতারকা হোটেল থেকে ঝোঁপঝাড়, সবখানে আজ ভালোবাসা দিবস। আমি প্রেম পূজারি। প্রেম ছাড়া দুনিয়া অচল। আমি নিখাদ ভালোবাসায় বিশ্বাস করি। কমিটমেন্টে বিশ্বাস করি। সরি টু সে- প্রতিযোগিতা করে শরীর দেয়া-নেয়ার আজকের এই কথিত ভালোবাসার প্রতি আমার নূন্যতম শ্রদ্ধাবোধ নেই।

আমি বড় হয়েছি ছোট মফস্বল শহরে। আমি যে কলেজ সময় পার করেছি তা সতেরো-আঠারো বছর হবে। সে সময় থেকেই ঘটা করে ভ্যালেনটাইন ডে চালু হয় এ দেশে। এই দিবসের ব্যাপক প্রচার শুরু করেন জনপ্রিয় টিভি অনুষ্ঠান `লাল গোলাপ` এর উপস্থাপক সাংবাদিক শফিক রেহমান।

শফিক রেহমান নিশ্চই শরীরি প্রেমের ভালোবাসা দিবসের প্রচার করেননি। কিন্তু আমরা বিষয়টি নিয়েছি ভিন্নভাবে।

আমাদের দেশের একটি অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফরম ফেসবুকে বছরে এ সময়ে সুগন্ধি কনডম, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও যৌনতা সম্বন্ধিত বিজ্ঞাপন দেয়া শুরু করে। তারা কোনো রাখঢাক না করেই এসব পণ্যকে ভ্যালেনটাইন ডে স্পেশাল প্রোডাক্ট বলে থাকেন। আজকে আমার ফেসবুক হোমে মদের বিজ্ঞাপনও এলো সকাল সকাল।

স্কুল, কলেজের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আজকের দিনটি বেশ অনিরাপদ। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুটি ভালোবাসা-বাসির মোহে নিজেকে কার হাতে সপে দিচ্ছেন কে জানে? বিবাহবহির্ভূত যৌনতার এক উপলক্ষ যেনো আজ। এর নামই প্রেম?

আমাদের কলেজ জীবনে যেসব নারী শিক্ষার্থীদের এই দিনে অন্ধকার রেস্টুরেন্ট, মেস ও অন্যান্য উপায়ে কথিত প্রেমিকের সঙ্গে `দেহদান` করেছিলেন, তারা আজ কেউই ভালো নেই। কারো প্রেমিকই কথা রাখেননি। বিভিন্ন অজুহাতে ছেড়ে গেছেন। কোনো কোনো নারী বিয়ে করতেই সাহস পাননি। অনেকে ব্লেকমেইলিং এর শিকার হয়েছেন। কারো স্ক্যান্ডেল ইন্টারনেটে ভেসে বেড়াচ্ছে।

কেউ কেউ এখন সংসার করছেন অন্য কারো সঙ্গে। কারো স্বামী তাদের অতীত শারীরিক প্রেম মেনে নিয়েছেন। কারো ডিভোর্স হয়েছে। অতীত তাদের বৈবাহিক জীবনকে দুমড়েমুচড়ে দিয়েছে।

আমাদের মুখে কথিত প্রগতিশীলতা। ভেতরে ভেতরে প্রবল ধর্মভীরু। প্রেমের নামে এই অবাধ যৌনাচার আমাদের সমাজ-সংস্কৃতিতে ছিলো না। সমাজ, আইন এখনো বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয়নি। খবরে দেখি ডাস্টবিনে মানবভ্রুণ! এর দায় কার? প্রেমের নামে এই অবাধ যৌনাচার যারা করছেন, আর যারা এতে বাহবা দিচ্ছেন, তারা কি এর দায় নেবেন না?

ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়েই লেখাটি শেষ করবো। ভালোবাসুন স্ত্রীকে। মা-বাবা আর সন্তানকে। ভালোবাসুন বন্ধু, প্রতিবেশী ও দেশকে। এই বিশেষ দিবস অবাধ অনাচারের নাম না হোক।

লেখক: অনলাইন এক্টিভিস্ট

অমৃতবাজার/আরইউ