ঢাকা, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২০ | ১৫ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: কে দোষি?


মাহমুদুর রহমান

প্রকাশিত: ০২:০০ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার | আপডেট: ০২:২৬ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শনিবার
বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ: কে দোষি? ছবিটি প্রতীকী

ইদানিং একটি বিষয় খুব শোনা যাচ্ছে- বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ। পাঠক, যদি একটু সময় হয়; `বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ` লিখে গুগল করে দেখবেন। এসংক্রান্ত শত শত সংবাদ পেয়ে যাবেন। বিয়ের প্রলোভনে যারা ধর্ষিত হচ্ছেন তাদের বেশিরভাগ শিক্ষিতা, প্রাপ্তবয়স্ক ও ভদ্র পরিবারের সন্তান। আর ধর্ষকগুলোও প্রতিষ্ঠিত, ভালো পরিবারের সন্তান। হয়তো স্বল্পশিক্ষিত, অশিক্ষিত ও অস্বচ্ছল পরিবারের নারীরাও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। অসচেতনতা ও পারিবারিক সাপোর্টের অভাবে অথবা কথিত লোকলজ্জার ভয়ে আইনের আশ্রয় নিচ্ছেন না তারা। তাই সংবাদেও আমরা তাদের খবরগুলো পাচ্ছি না। 

আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনায় নারীদেরই দোষারোপ করা হয়। নারীটি কেনো পুরুষের সঙ্গে `শুতে` গেলেন সেসব নিয়ে চর্চা হয়। ফেসবুকে ওইসব সংবাদ শেয়ার দেবার পর পুরুষ কমেন্টদাতারা আক্রান্ত নারীর উদ্দেশ্যে অশ্লীল বাক্যবাণ ছুঁড়ে দেন। 

দু`জন মানুষের যখন প্রেমের সম্পর্ক হয় তখন নিশ্চয় শুরুতেই তা বিছানায় গড়ায় না। দিনের পর দিন একে অন্যের ঘনিষ্ঠ হয়। সুখ দুঃখের কথা ভাগাভাগি করেন। ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেন, দেখান। নারীটি একসময় মনে করতে থাকেন, এই পুরুষটি কোনদিন প্রতারক হতে পারে না। সে পৃথিবীর সব পুরুষ থেকে একদম আলাদা। এই বিশ্বাস-ভরসা থেকেই একসময় শারীরিক সম্পর্কের দিকে যান মেয়েটি। 

আমাদের অবচেতন মন ধর্মভীরু। খোলসে ইউরোপীয় সংস্কৃতির রঙ। একদিকে পরনারীর প্রতি তীব্র আকর্ষণ। অন্যদিকে সতী স্ত্রী পাবার আকাঙ্খা। প্রেমিকার সঙ্গে ইন্টারকোর্স সম্পন্ন হবার পর ছেলেটির একসময় মনে হয় এই মেয়ে আমার জন্য নয়। ও বিয়ের আগে শরীর দিয়ে দিয়েছে। ধর্মীয় মূল্যবোধ প্রচণ্ড নাড়া দেয় পুরুষটির। সে তার ভূমিকা বেমালুম ভুলে যায়। মেয়েটিকে দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ফোনে, চ্যাটে যে অশ্লীল শারীরিক শিক্ষা সে দিয়েছে তা তখন আর মনে পড়ে না। মেয়েটি তখন স্রেফ অসতী। এই পুতঃ পবিত্র পুরুষের পাশে বেমানান। এঁটো `মাল`।

এবার আসি নারীদের বিষয়ে। আপনি অবশ্যই দোষি। এদেশের সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের বাইরে গিয়ে কেনো একজন পুরুষকে বিশ্বাস করেছেন? সমাজ, পরিবার ও নিজের কাছে কেনো `ছোট` হতে গেলেন? যেখানে কাগজের দলিলকেও ভুল প্রমাণ করা যায় আইনের ফুকরে, সেখানে মৌখিক চুক্তিতে কি আসে যায়? 

নারীদের মন আর মোমের মতো থাকলে হবে না। শক্ত করুন। বিয়ের আগে শরীর দেবার আগে শতবার ভাবুন। যে আপনার শরীর চাইছে তার ইনটেনশন বোঝার চেষ্টা করুন। ওই গানটি মাথায় রাখুন- `বালিকা তোমার প্রেমের পদ্ম দিয়ো না এমনজনকে, যে ফুলে ফুলে উড়ে মধুপান করে অবশেষে ভাঙ্গে মনকে...`

মাহমুদুর রহমান, অনলাইন এক্টিভিস্ট 

অমৃতবাজার/এমআর