ঢাকা, রোববার, ১৯ জানুয়ারি ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

কেন বিতর্ক শিখবেন?


মেহেদী হাসান

প্রকাশিত: ১০:৪৬ পিএম, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
কেন বিতর্ক শিখবেন?

 

বিতর্ক একটি শিল্প, যদি প্রশ্ন করা হয় শিল্প কি? তাহলে সবচেয়ে সহজ যে উত্তর তা হলো - এমন কোন কাজ যা ব্যক্তির হৃদয়ে নাড়া দেয় তাই শিল্প। বিতর্কের চমকপ্রদ উপস্থাপন, সুন্দর ভাষাশৈলী, শব্দচয়ন মানুষকে চরমভাবে আকর্ষিত করে। মানব সভ্যতার ইতিহাস হলো শিল্পের ইতিহাস। কেবল মাত্র শিল্পের পার্থক্য দ্বারাই মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্টতম জীব হিসেবে বিবেচিত। সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ বির্তকে লিপ্ত হয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে মানুষ তার নিজস্ব দর্শন ও মতকে যুক্তি উপস্থাপনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে।

বিতর্কের ইতিহাস সবচেয়ে পুরনো নির্দশন হলো খ্রিষ্টপূর্ব ৪৫০ অব্দে মহাকবি হোমার রচিত মহাকাব্য “ইলিয়ড” তার মতে পরিবর্তনই সবকিছুর মূল। এ মতের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হয়েছিল। যুক্তিকে দূবর্ল করে নিজের মতকে জোড়ালোভাবে উপস্থাপনার প্রচলিত ধারাটি প্রথম সক্রেটিসের বক্তব্যের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল।

বিতর্ক যুক্তি আর বোধের মুক্তচর্চা, যুক্তি, তত্ত্ব আর তথ্যের সংমিশ্রন জ্ঞান লাভের এক অনন্য বাকশিল্প। বিতর্কচর্চা প্রখর বুদ্ধিমত্তার শাণিত মেধা ও মননের উদ্দীপক। অন্তরের শুদ্ধতার মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে আলোকিত দেশ গড়ার নান্দনিক প্রয়াস।

সমাজের একটি সচেতেন অংশ হিসেবে নিজেকে পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশ তথা জাতি গঠনের জন্য বিতর্ক অপরিসীম। বিতার্কিকরা বিতর্কের মাধ্যমে শুধু নিজেকে আলোকিত করে না বরং তার আশেপাশের পরিবেশকে আলোকিত করেন।

এছাড়াও বিতর্ক চর্চার মধ্য দিয়ে একজন বিতার্কিক যা শিখতে পারে, তা হলো: বিতর্ক ভাষার যথোপযুক্ত ব্যবহার, প্রয়োগ এবং নান্দনিকতা শিখায়; যে কোন বিষয়কে দক্ষতার সাথে বিশ্লেষণ করতে শিখায়; ব্যক্তির ঠুনকো আত্মবিশ্বাসকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করে তুলে; বিতর্ক সবাইকে এক কাতারে রেখে সবাইকে যুক্তি ও মুক্তির বন্ধনে আবদ্ধ করে; বিতর্ক যুক্তিবাদী চেতনার বিকাশ ঘটায় বিতর্কের মাধ্যমে যুক্তির ভিত্তিতে সত্য হয় সুপ্রতিষ্ঠিত;  সৃষ্টিশীল ও মেধা বিকাশের অন্যতম মাধ্যম বিতর্ক, যুক্তিনির্ভর ও আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠায় বিতর্কের গুরত্ব অপরিসীম।

সর্বোপরী যে কথা বলে এই নিবন্ধ শেষ করব- বিতর্ক একজন মানুষকে সৃষ্টিশীল, যুক্তিবাদী, প্রজ্ঞাবান ও দায়িত্বশীল করে তোলে। একজন বিতার্কিক যদি জনপ্রতিনিধি হন যুক্তি চর্চার মান হবে আরো উন্নত এবং গণতন্ত্রের মান হবে আরো সুউচ্চ। তাই বিতর্কপ্রেমীদের প্রতি উদাত্ত আহবান “এসো আজ যুক্তির মিছিলে মুক্তির গান গাই।”  

লেখক: মেহেদী হাসান

বিতার্কিক ও শিক্ষার্থী

বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অমৃতবাজার/মাহফুজ/এএস