ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যবসা ও সেবন, সমাজে এর খারাপ দিক


সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম শিল্পী

প্রকাশিত: ১১:২৪ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার | আপডেট: ১১:২৬ পিএম, ১২ এপ্রিল ২০১৯, শুক্রবার
মাদক ব্যবসা ও সেবন, সমাজে এর খারাপ দিক প্রভাষক ও সাংবাদিক সফিকুল ইসলাম শিল্পী

প্রায় সময় মফস্বল শহরে সাংবাদিকতার সুবাদে উপজেলা অথবা থানায় একটু ঢু মেরে আসতে হয়। কারণ, সংবাদ সংগ্রহ করা মূল উদ্দেশ্য। যথারীতিই অন্যান্য দিনের মত থানায় প্রবেশ করেই হাজতে এলাকার একজন সবার পরিচিত ও সুনামধণ্য ব্যক্তির ছেলেকে দেখতে পেয়ে অবাক হলাম! মুল গেটের সাথে প্রাচীরে হেলান দিয়ে চোঁখের পানি মুঁছে যাচ্ছে! ঘটনাটি যাই হোক না কেনো, মাদকসেবী হিসেবে সন্তানের জন্য থানায় অপেক্ষা করা। প্রশ্ন হল মায়ের বুকে চাপা রক্তক্ষরণ!

নিঃপাপ মায়ের ছেলের জন্য লজ্জা ঢাকার অপচেষ্টা শেষে ব্যর্থ হলো! সোনার সংসারে দেখা দিল অশান্তির কালো ছাপ! কিন্তু যুবসমাজ ধ্বংসকারী বিশাক্ত মাদক থেকে পরিত্রাণ পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? কতদিনে শেষ হবে মায়ের বুকের রক্তক্ষরণ? যদিও মাদক ও দুর্নীতির থাবায় জর্জরিত দেশের প্রতিটি গ্রাম-শহর-বন্দর। প্রতিটি সেকেন্ড মাদকের বেড়াজালে যুবসমাজ ও দুর্নীতির গ্রাসে ধ্বংস হতে চলছে দেশের তরুণ থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ।

সমাজের দায়িত্বশীল লোকদের এগিয়ে আসতে হবে এটা যেমন সত্যি তেমনি দায়িত্বহীনতার কারণে মাদক ও দুর্নীতির ব্যবহার প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। দেশের তরুণ ও যুব সমাজকে রক্ষা করতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ অটুট রাখতে হবে। যেখানে একটি সুন্দর পরিবারে মাদকাসক্ত আছে সে পরিবারের যে কী কষ্ট হয়, কী যন্ত্রণা পোহাতে হয় সেটা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না!

এক্ষেত্রে মাদকাসক্তির খারাপ দিকটি মানুষের সামনে তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে প্রচার প্রচারণা চালানোর ওপর জোর দেয়া অতীব জরুরি। মাদকের এর গ্রাস থেকে ফিরিয়ে আনতে যুব সমাজকে আরও সচেতন করা প্রয়োজন। কারণ তারা একটি সুন্দর পরিবারকে তিলে তিলে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

মাদকাসক্তি যে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুতর জাতীয় সমস্যা এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই সমস্যা থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য আন্তরিক ভাবে চেষ্টা করতে হবে যেনো মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও সেবন একেবারেই নিষিদ্ধ হয়ে যায়। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের দমনের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশজুড়ে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে আসছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান পর্যন্ত করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছু সত্বেও মাদকদ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা ও সেবনে শিকল দিয়েও টেনে ধরা যায়নি।

যদিও কিছুদিন আগে কক্সবাজারে শতাধিক ইয়াবা কারবারির আত্মসমর্পণের খবর বেরিয়েছে। সীমান্ত পেরিয়ে ইয়াবা বড়ি পাচার হয়ে আসা অব্যাহত আছেই যা সকালবেলা পত্রিকায় চোখ বুলালে খবর মিলে। বিভিন্ন স্থান থেকে লাখ লাখ ইয়াবা বড়ি উদ্ধার করা হচ্ছে এমনকি মৃতব্যক্তির পেটেও ইয়াবা পাওয়ার খবর শুনতে হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানে যথেষ্ঠ তৎপরতা আমরা দেখছি। যা দৃষ্টি দেওয়া হচ্ছে শুধু দেশের অভ্যন্তরে মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দিকে। এক্ষেত্রেও সমস্যা হলো মাদকদ্রব্যের চোরাচালানের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত বলে পরিচিত ব্যক্তিকে দিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের একাংশ যাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগও পাওয়া যায়। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক পদক্ষেপ না নেওয়া, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও ভাবতে হবে।

অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। আরও একটি বিষয় আছে রাজনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তির মাদকের কারবারিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ। যার ফলেই হয়ত এই পক্ষগুলো মিলেমিশে অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু চক্র দেশজুড়ে এক ভয়ংকর মাদক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে।

এখন প্রশ্নটি হলো, এত অভিযান সত্বেও মাদকদ্রব্যের কারবারিরা তাদের অবৈধ কারবার কীভাবে চালিয়ে যেতে পারছেন? অধিকাংশ মাদকদ্রব্যই তো বাংলাদেশের ভিতরে উৎপাদিত হয় না। ইয়াবা আসছে পাশের দেশ মিয়ানমার থেকে, আসছে স্থল ও সমুদ্র উভয় পথে। কিন্তু কীভাবে আসতে পারছে? আইনশৃঙখলা বাহিনীর দায়িত্ব উভয় সীমান্ত পথের শত পুরোদমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এমনকি শুধু মাদকদ্রব্য নয়, যেকোনো পণ্য ও ব্যক্তির অবৈধ প্রবেশ ও প্রস্থান প্রতিরোধ করা। মাদকদ্রব্য সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার পরেই শুধু তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। দেশের ভিতরে তৎপর মাদকের কারবারিরা তা কেনাবেচা করতে পারেন এবং সেবনকারীরা তা সেবন করে নিজেকে ধ্বংস করার পথ বেছে নিতে পারে। আর আমাদের যুবসমাজ বেপরোয়া হয়ে একটি জাতি, একটি শহর কিংবা গ্রাম অথবা একটি পরিবারকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না।

শুধু মাদক কারবারীদের ও মাদকাসক্তদের বিরুদ্ধে অ্যাকশান নিলেই যে তারা ভালো হয়ে যাবে তা বলা কঠিন বরং তাদেরকে সমাজের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারাটাও কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ নয় কী?

অমৃতবাজার/আরএইচ