ঢাকা, শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল খেলায় নিরপেক্ষ ভেন্যু করার দাবি


ইমাম হোসাইন

প্রকাশিত: ১২:০৪ এএম, ১১ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার
আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল খেলায় নিরপেক্ষ ভেন্যু করার দাবি

 

“ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল দলকে  জাবির ছাত্ররা”  ইতোমধ্যেই এমন খবর চারদিকে চাউর হয়েছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজকে নিয়ে যে সমাজ এবং রাষ্ট্রের জনতারা স্বপ্ন দেখেন তাদের মধ্যে আরেকটু চিন্তার ভাঁজ পড়ারই কথা।

ঘটনার আদ্যপান্ত হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে হ্যান্ডবল খেলতে গিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল দলের ১২ খেলোয়াড়সহ তিন শিক্ষক মারধরের শিকার হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে রক্তাক্ত অবস্থায় কয়েকজনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।বুধবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জাবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে একজনের হাত ও একজনের পাজর ভেঙে গেছে বলে জানিয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। আহতদের চিকিৎসা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বুধবার বিকেল ৩টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল দলের খেলা শুরু হয়। খেলার ৯ মিনিট বাকি থাকতেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

এ সময় লাঠিসোটা নিয়ে ইবির খেলোয়াড় ও শিক্ষকদের মারধর করে তারা। এ সময় শিক্ষক পরিচয় দিয়েও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ড. মাহবুবর রহমান মারধর থেকে রক্ষা পাননি। এর মধ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের পরিচালক ড. সোহেলের নাক ফাটিয়ে দেয়া হয়।

রাব্বী নামের একজন খেলোয়াড়ের হাত ভেঙে দেয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে মেয়েদেরও মারধর করা হয়েছে। তাদের উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

যার ক্যাম্পাসে খেলার ভেন্যু সেই সর্বেসর্বা। এভাবে চলতে থাকলে এধরনের খেলাধুলা আয়োজন করে কি লাভ? এ প্রথা চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খেলোয়াড়েরা বলের বদলে বোম, আর স্টাম্পের বদলে হকিস্টিক নিয়ে খেলতে যাবে।

প্রশাসনের উচিত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। আজ যারা নিগৃহীত কাল তারা নিশ্চয় তাদের ক্যাম্পাসে ছেড়ে দিবে না প্রতিপক্ষদের । এমন চিন্তা থাকলে আদৌ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলার আয়োজনের মূল লক্ষ্য হারিয়ে যেতে পারে। তাই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় খেলার আয়োজন সময়ের দাবি।

সেই সাথে দেশ-জাতির প্রত্যাশা পূরণে প্রত্যকের অবস্থান থেকে সুস্থ মানুষিকতার চর্চা অব্যাহত রাখা উচিত। এরকম ঘটনা কখনো কাম্য না।

অমৃতবাজার/এএস