ঢাকা, বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

নাসিরনগরে হামলা : ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক


সৈয়দ তৌফিক আহমেদ

প্রকাশিত: ০৯:৫৮ এএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার | আপডেট: ০৩:১২ পিএম, ১৭ নভেম্বর ২০১৬, বৃহস্পতিবার
নাসিরনগরে হামলা : ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচন করা হোক

বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় গত ৩০ অক্টোবর সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে আমাদের সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাইবোনেরা। ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে ১৫টি মন্দির ভাঙচুর করা হয়, লুটপাট হয়েছে শতাধিক ঘর।

এই অবস্থায় সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান আসার কথা, সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের রাজনৈতিক ও সামাজিক সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের কথা। কিন্তু নাজুক এই পরিস্থিতির সুযোগে একটি স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে নাসিরনগরে নৃশংস সাম্প্রদায়িক হামলার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩) র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরীর সংযোগ প্রতিষ্ঠায় সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সক্রিয় কর্মী ও একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই মিথ্যাচারের জবাব দেয়ার দায়বদ্ধতা থেকে কয়েকটি কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করছি। যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকতাদির চৌধুরী একজন পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ। তিনি নিজে শৃঙ্খলা মেনে চলেন এবং সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলতে অনুপ্রাণিত করেন।

গত সেপ্টেম্বরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হককে (মাননীয় সংসদ সদস্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

কিন্তু সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের প্রেক্ষাপটে নাসিরনগর উপজেলার সংসদ সদস্যকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দল হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বলা হচ্ছে ছায়েদুল হককে বিপদে ফেলতে মোকতাদির চৌধুরীর সমর্থকেরা সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের কলকাঠি নেড়েছেন। অনেকটা ঘুরপথে এই হামলার জন্য মোকতাদির চৌধুরীকে দায়ী করা হচ্ছে।

এই জঘন্য মিথ্যাচারের সবচেয়ে বিস্ময়কর ও দুঃখজনক যে বিষয়টি সেটা হচ্ছে মোকতাদির চৌধুরীর মতো মানুষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের অভিযোগ। ‘দেশটা সবার’ এই দর্শনে বিশ্বাসী মোকতাদির চৌধুরী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অর্জনে সবসময় কাজ করে চলেছেন। জেলার সব ধর্মমতের মানুষের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠভাবে ওঠাবসা, সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদে তাদের ধর্ম পালন করতে পারে সেটি নিশ্চিত করতে সবসময় কাজ করেছেন তিনি। দুর্গাপূজা, বড়দিন উদযাপনে সনাতন ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গী হয়েছেন।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে তিনিই সম্ভবত প্রথম সংসদ সদস্য যিনি নিয়মিত জেলা সদরে অবস্থিত ব্যাপ্টিস্ট চার্চে বড়দিনের প্রথম প্রহরে গিয়ে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন। তিনি সবসময় জেলার সব মানুষের নেতা হিসেবে সব ধর্মের মানুষের উৎসব পালনে পাশে থেকে উৎসাহ দিয়েছেন।

শুধু উৎসব-উদযাপনে নয় বিপদের দিনেও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে কুখ্যাত সন্ত্রাসী উজ্জ্বল সনাতন ধর্মাবলম্বী ব্যবসায়ী অজিত কুমার দাসের উপর হামলা করলে প্রশাসনকে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। অজিতের উপর যখন হামলা হয় তখন তিনি দেশের বাইরে ছিলেন। তখন পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি অজিতকে তার পক্ষ হয়ে দেখতে যেতে আমাকে অনুরোধ করেন এবং প্রয়োজনীয় অর্থ সহযোগিতা দিতে বলেন।

সন্ত্রাসী উজ্জ্বলের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল। উজ্জ্বলকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক লাখ টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন মোকতাদির চৌধুরী। শহরের পাইকপাড়ার দাসপাড়ার সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে জোর দিয়ে বলেছিলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই, আইন যেই ভঙ্গ করুক তাকে শাস্তি পেতেই হবে। পরবর্তীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে কুখ্যাত এই সন্ত্রাসী মৃত্যুবরণ করে। শুধু সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ই নয়,দুর্বল ও নিপীড়িত যেকোনো মানুষের পাশে অবস্থান নিয়েছেন মোকতাদির চৌধুরী।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোকতাদির চৌধুরী সবসময় একটা কথা বলেন, দেশ স্বাধীন করেছি সবার জন্য। আমি এমন একটা দেশের স্বপ্ন দেখি যেখানে কে হিন্দু কে মুসলমান এই প্রশ্ন আসবে না। প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারী এই মানুষটার বিরুদ্ধে কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষ ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

নাসিরনগরে নিন্দনীয় হামলার পরে তিনি বার বার বলেছেন, এই ঘটনার পেছনে যে বা যারা আছে তাদের খুঁজে বের করে কঠিন শাস্তি দেয়া হোক। মোকতাদির চৌধুরী বলেছেন, নাসিরনগরের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িত যে বা যারা আছে তারা যতো শক্তিশালীই হোক না কেন তাদের যেন আইনের আওতায় এনে কঠোর থেকে কঠোরতর শাস্তি দেয়া হয়। এমন উদাহরণ স্থাপন করা হোক যাতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রকারীরা এমন ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড পরিত্যাগে বাধ্য হয়।

সচেতন নাগরিক হিসেবে আমরাও চাই সঠিক ও নির্মোহ তদন্ত হোক, বেরিয়ে আসুক কারা সমাজে সাম্প্রদায়িকতার বিষদাঁত বসানোর চেষ্টা করছে। মুখোশ উন্মোচিত হোক সেই মানুষগুলোর যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক ও সম্প্রীতির সোনার বাংলাদেশের স্বপ্নের অনুসারী মোকতাদির চৌধুরীর চরিত্রে সাম্প্রদায়িকতার কালিমা লেপন করতে চাইছে।

লেখক : বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগ।

Loading...