ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯ | ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‌‘ব্যর্থতার দায় তোমাদের, আওয়ামী লীগের নয়’


ড. বাকী বিল্লাহ বিকুল

প্রকাশিত: ০৮:০৮ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার | আপডেট: ০৮:৫৯ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
‌‘ব্যর্থতার দায় তোমাদের, আওয়ামী লীগের নয়’

নিরপেক্ষজনের মাধ্যমে আবার নির্বাচন হতে হবে এই বাংলায় অযৌক্তিক এই বার্তা দিয়ে আবার মাঠ গরম করতে চাইছে বিএনপির বর্তমান তল্পিবাহক ড. কামাল হোসেন গংরা। নিতান্তই বাল্যসুলভ আচরণে আর কর্মে সমৃদ্ধ তাদের এই বার্তা। কিন্তু তারা কেন বোঝে না, তাদের এই অনাহুত কান্নায় ভেজে না বাঙালির হৃদয়। বিএনপি-জামায়াতের সাংগঠনিক ব্যর্থতার দায় কেন নেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও এদেশের সাধারণ জনগণ। একাদশ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতা অজর্ন করেছে। মহাজোটও তাদের অবস্থান আরো শক্তিশালী অবস্থা তৈরি করেছে।

বিএনপি- জামায়াত ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপিত হয়েছে। কিন্তু এই অপরিসীম ব্যর্থতার দায় তারা ঠেলে দিতে চাইছে ঠুনকো যুক্তির বেড়াজালে। নিজেদের ব্যর্থতার ডালায় তারা সিক্ত জারিত করতে চাইছে জনগণের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের মধ্য দিয়ে। তাদের বুঝতে হবে বাংলাদেশের জনগণ এখন অধিকতর সচেতন, সে কারণে সহসাই তাদের কর্ণে ঐক্যফ্রন্টের ক্রন্দনবিজড়িত আহবান পৌঁছাবে কিনা সেটিও ভেবে দেখতে হবে। বিএনপি তথা ঐক্যজোট তারা প্রথম ভুলটি করেছিল দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, সে নির্বাচনে তারা একগুয়ে আচরণ করে অংশগ্রহণ করেনি। যার ফলশ্রুতিতে জাতীয় পার্টি বিরোধী দলের আসন অলঙ্কার করে ফুলেফেপে উঠতে চাইছে, জেনারেল এরশাদের স্বৈরাচারী তকমা প্রায়ই মুছে ফেলতে চাইছে এদেশেরই জনগণ।

বিএনপি একদিকে তাদের লোভ, লালসা, দুর্নীতি আর নানাবিধ সন্ত্রাসে জর্জরিত হয়ে অতীতে ব্যাপক বিতর্কিত অবস্থান তৈরি করে রেখেছিল। তারা ওপর জনগণের অপছন্দ জামায়াতের সাথে ঘরবাঁধা সেখান থেকেও তারা বের হয়ে আসতে পারেনি। সমগ্র বাংলাদেশে দশম নির্বাচনের পর বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো দুর্বল হতে থাকে। তৃণমূল পর্যায়ে তাদের অবস্থান নানা ক্ষোভের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিগুলো অচল অবস্থান তৈরি করে দিন গোজরান করতে থাকে। খালেদা জিয়া নানাবিধ মামলায় কারাভ্যন্তরে থাকার ফলে দলীয় কর্মকাণ্ড গুলো মীর্জা ফকরুলগণেরা চালিয়ে নিতে পারেননি। তারেক জিয়া লন্ডনে নিজের রাজকীয় জীবনযাপনের পাশাপাশি মাঝে মাঝে তীব্র হুঙ্কার দিলেও তা ছিল টেলিফোনসর্বস্ব ও ইথারকেন্দ্রিক। তার সেই বক্তব্য ও আচরণ তাদের দলের বহুলোকই পছন্দ করেনি।

সর্বশেষ নির্বাচনে তারেক জিয়ার নোমিনেশান বিক্রিও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। মাঠ পর্যায়ে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে নোমিনেশান বিক্রি করার বিষয়টিও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়। যে কারণে মাঠে ময়দানে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর পক্ষে দাঁড়ায়নি তৃণমূলের নেতারা। এমনকী ভোট কেন্দ্রে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের আনন্দদায়ক উপস্থিতিও ছিল না। বহুক্ষেত্রে তারা নিজপ্রার্থীর বিষয়ে ছিলেন নিশ্চুপ নির্বিকার। নির্বাচনে নামাবার মতো প্রার্থী নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি। যার কারণে একাদশ নির্বাচনে তাদের প্রচন্ড ভরাডুবি হয়েছে।

এদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের লোকজন শপথ গ্রহণ করেনি। এটিও ভুল, জনগণকে সম্মান করে সংসদে তাদের যাওয়া উচিত। সংসদকে কার্যকর করতে সেখানে দাঁড়িয়ে কথা বলে জনগণসম্পৃক্ত হতে হবে তাদের, নইলে অদূর ভবিষ্যতে তাদের দলটি আরো জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। কারো দোষ দেবার আগে নিজেদের ভুলগুলো দেখে নিতে হবে, নিজেরাই আগে বদলাতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চেতনা যে চলবে না, সেটা তাদের বুঝতে হবে, মানতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে আওয়ামী লীগ একুশ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল, নানা অত্যাচার, নিপীড়ন, হত্যা, জেলজুলুম, হুলিয়া এগুলোকে মাথায় নিয়ে ত্যাগের মহিমায় উজ্জ্বল হয়ে আজ অবস্থানে তারা ফিরেছে।

রাজনীতির রাস্তাটাকে আর সহজ করে দেখার দিন নেই। একের পর এক ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হচ্ছে আওয়ামী লীগ। বিএনপির মতো নেতা সর্বস্ব দল নয় এটি, এরা ত্যাগী কর্মীবান্ধব দল, শত অভিমানে সিক্ত হয়ে তারা আকণ্ঠ নিমজ্জিত থাকে দলের প্রতি ভালোবাসায়। সুতরাং মাঠের রাজনীতিতে সেইসব দিনের আওয়ামী লীগ আজ আরো শক্তিশালী। সুতরাং বিশালবিপুল কর্মী বাহিনির সম্মুখে বিএনপিজামায়াতের লড়াইটা ততটা যুৎসই হবে না, হবে নিদারুন একপেশে। সে কারণে অপবাদ আর অন্যায় যুক্তি হাতে মাঠে না নেমে নামতে হবে এদেশকে ভালোবাসার জনগণকে সাথে নিয়ে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী।

আওয়ামী সরকারের বিরোধিতা না করে, যৌক্তিক সমালোচনার ভেতর দিয়ে এদেশকে আরো উন্নতশীল করবার মানসে রাজনীতির মাঠে ফিরে আসার চিন্তা করাটাই আপনাদের জন্য মঙ্গলজনক। অকারণে উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে রাজনীতির মাঠে টিকে থাকাটা আপনাদের কঠিন হবে। আওয়ামী লীগের ইস্পাতকঠিন দৃঢ়তা আর হিমালয়সম উচ্চতার কাছে এক টুকরো মাটির ঢেলা নিয়ে দাঁড়িয়ে না থেকে এদেশের জনগণ কি চায় সে দিকে লক্ষ রাখুন। আপামর জনতার নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে ডাক শুনতে পান আপনারা তা শুনতে পান না, সে কারণে আপনাদের আজ এ দশা। এ দশা ঘুচবে কবে!

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ।

অমৃতবাজার/ইকরামুল