ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৮ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

‘শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষেই সম্ভব,আর কারও দ্বারা নয়!’


মোঃ কাইফ ইসলাম ( কাইফ)

প্রকাশিত: ০৮:১৮ পিএম, ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮, বুধবার
‘শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষেই সম্ভব,আর কারও দ্বারা নয়!’

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও বহুকাল বহির্বিশ্বে ছিল উপেক্ষিত ও অনালোচিত দেশ। বাংলাদেশের কথা উঠলেই ‘বটমলেস বাস্কেটের’ তুলনা টানা হতো। হাসিনা সরকার দেশের এই দুর্নামটি শুধু দূর করেননি, তার অর্থনীতির উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়ে দিয়ে সমালোচক দেশগুলোরও প্রশংসা অর্জন করেছে। বিশ্বব্যাংকও এখন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রশংসা করে। বাংলাদেশ এখন বহির্বিশ্বে একটি আলোচিত দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে এ দেশটির গুরুত্ব এখন স্বীকৃত।

হাসিনা সরকারের এ সাফল্যের কথা দেশের বিএনপি-জামায়াত ও একটি তথাকথিত সুশীল সমাজ স্বীকার করতে চাইবে না, তা সবার জানা। যে শেখ হাসিনার পিতাকে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ হত্যা করা হয়েছে এবং যে শেখ হাসিনাকেও হত্যা করার জন্য গ্রেনেড হামলার মতো ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে, তিনি সব শত্রু ও সমালোচকের মুখে ছাই দিয়ে তিন তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী পদে রয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবেন, এটা কি তাদের সহ্য হয়!

কিন্তু বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্পর্কে সব তথ্য ঝুট নয়, মিথ্যাও নয়। তা অতি বাস্তব। যদি বাংলাদেশের এ উন্নয়নের যাত্রা অব্যাহত থাকে, তাহলে আগামী কয়েক দশকের মধ্যে বাংলাদেশ যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উন্নত দেশগুলোর মতো উচ্চ আয়ের দেশ হবে তাতে সন্দেহ নেই। শিল্প, শিক্ষা, কৃষি, ক্রীড়া ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে বাংলাদেশের উন্নতি ঘটছে। চিরকালের খাদ্য-ঘাটতির দেশটিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেশে রূপান্তর করা হয়েছিল। সম্প্রতি বন্যা, খরা এবং বৈশ্বিক নানা কারণে খাদ্য উৎপাদন বিঘ্নিত হয়েছে। চাল, পেঁয়াজ ইত্যাদির দাম হঠাৎ প্রচুর বেড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এ সংকট সাময়িক। সরকার এ পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবে। রোহিঙ্গা সমস্যাটি বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাটিকে একটু শ্লথ করে দিয়েছে সত্য।

রোহিঙ্গা সমস্যা দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর সহসা গুরুতর চাপ সৃষ্টি করলেও সরকার তা সাহসের সঙ্গে মোকাবেলা করছে। অতীতে বিডিআর বিদ্রোহ ও পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সৃষ্ট সংকটের সময়েও শেখ হাসিনা সাহস ও দৃঢ় মনোবল নিয়ে তার মোকাবেলা করেছেন। এজন্যই দেশের মানুষের একটা বড় অংশের ধারণা, আগামী নির্বাচনে জিতে যদি শেখ হাসিনা আরও একদফা ক্ষমতায় থাকেন, উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকে, গণতান্ত্রিক রাজনীতির স্থিতাবস্থা বজায় থাকে, তাহলে রোহিঙ্গা সমস্যারও একটা শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধান তার সরকারই করতে পারবে। অন্য কোনো সরকারের দ্বারা তা সম্ভব নয়। এটা আমাদের অতীত থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা।

হাসিনা-সরকার দেশকে রাজনৈতিক সন্ত্রাসমুক্ত করেছে। মৌলবাদী হিংস্রতা দমন করেছে। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে একইসঙ্গে ভারত, চীন, আমেরিকা, রাশিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে মৈত্রী ও সহযোগিতার সম্পর্ক স্থাপন করেছে। বিশ্বরাজনীতিতে বাংলাদেশ তার একটি সম্মানজনক স্থান করে নিয়েছে। অতীতের কোনো সরকার- বিশেষ করে বিএনপি-জামায়াত সরকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কোনো সুনামই অর্জন করতে পারেনি। এখনও বিএনপির রাজনীতির বড় মূলধন মিথ্যাচার বা বাগাড়ম্বর। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ও আরেক নেতা রিজভী রোজ সংবাদপত্রে বাক্যবাণ ছড়িয়ে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। দেশের সুধী সমাজের উচিত দু’জনকেই ‘তর্করত্ন’ উপাধি দেয়া।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাফল্যের বয়ান দিলে তা দীর্ঘ হবে। তাই বলে এ সরকারের কোনো ব্যর্থতা ও অসফলতা নেই তা বলব না। দেশের সব ধরনের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শত্রু দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার। একশ্রেণীর নব্যধনী দেশের শিল্প, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংবাদিকতাতেও অশুভ প্রভাব বিস্তার করেছে। বড় দুটি রাজনৈতিক দলও তাদের আগ্রাসন থেকে মুক্ত নয়। দেশের অধিকাংশ মসজিদ, মাদ্রাসা এখনও হিংস্র মৌলবাদী দলগুলোর কব্জায়। তাদের প্রভাবে সমাজে সাম্প্রদায়িকতা প্রশ্রয় পাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের একটা বড় অংশের মনমানসিকতা ধর্মান্ধতা দ্বারা আচ্ছন্ন হচ্ছে। এটা ঠেকাতে না পারলে গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোথায়?

দুর্নীতি দমন, সাম্প্রদায়িকতার মূলোচ্ছেদ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় হাসিনা-সরকার তাদের সকল আন্তরিকতা স্থাপন করছেন। আগামী সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সহজ বিজয় অর্জনের কথা। যদি না পারে তাহলে বুঝতে হবে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার, ক্ষেত্রবিশেষে গণবিরোধী নীতি জনগণকে শেখ হাসিনার প্রতি বিপুল আস্থা থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের প্রতি বিমুখ করেছে। দেশ শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসন-কাঠামো পুনরুদ্ধারে শেখ হাসিনার সাফল্য অস্বীকার করার উপায় নেই।

আমার ধারণা, দেশ শাসনে হাসিনা-সরকারের সাফল্য বিশাল। কিন্তু অসাফল্য দুর্নীতি দমনে এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে ব্যর্থতায়। নইলে সন্ত্রাস দমন থেকে শুরু করে রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলায় হাসিনা-সরকারের সাফল্যের কোনো তুলনা নেই। কিন্তু ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ না হওয়ায়, জনগণকে উন্নয়নের প্রতিটি কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে না পারায় সাধারণ মানুষ এত উন্নয়ন সত্ত্বেও তৃপ্ত নয়, আওয়ামী লীগকে তাই নির্বাচনে জেতা সম্পর্কে ভাবতে হবে।

আওয়ামী লীগের শাসন অবশ্যই জনপ্রতিনিধিত্বমূলক শাসন। কিন্তু এ জনপ্রতিনিধিদের একটা বড় অংশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণে তারা বিশ্বাসী নন। এমপি ক্ষমতা ছাড়তে চান না উপজেলা চেয়ারম্যানের হাতে। উপজেলা চেয়ারম্যান চান না ইউনিয়ন পরিষদ শক্তিশালী হোক। সবাই ক্ষমতা ধরে রাখতে চান; কিন্তু প্রকৃত ক্ষমতা ভোগ করতে পারে না কেউ। ক্ষমতার নাটাই থাকে আমলাদের হাতে।
আওয়ামী লীগকে এই অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। দুর্নীতির উচ্ছেদ এবং সেই লক্ষ্যে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে অবশ্যই। দুর্নীতি এবং গণবিরোধী প্রশাসনের ঘাঁটি ভাঙতে হলে আওয়ামী লীগ সরকারকে দল সংস্কারের সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসন সংস্কারেও হাত দিতে হবে। সন্ত্রাসের মতো দুর্নীতির মহাদানবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামতে হবে। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ দ্বারা জনগণকে উন্নয়নের প্রতিটি কাজের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আমার ধারণা, এ কাজটি একমাত্র শেখ হাসিনার সরকারের পক্ষেই করা সম্ভব। আর কারও দ্বারা নয়।

শিক্ষার্থী, মাস্টার্স ইন গভার্নেন্স স্টাডিজ,রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক কার্যনিবাহী সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।