ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৭ | ২ ভাদ্র ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

‘একই ক্যাম্পাসে হোক প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বাসস্থান’


প্রবীর সিকদার

প্রকাশিত: ০৮:১৫ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার | আপডেট: ০৮:২০ পিএম, ০৯ নভেম্বর ২০১৬, বুধবার
‘একই ক্যাম্পাসে হোক প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও বাসস্থান’

ছুটির দিন ছাড়া প্রায় প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে যেতে হয়। যানজটের শহর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসা থেকে অফিস আর অফিস থেকে বাসা যাতায়াতের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণেই সংশ্লিষ্ট সড়কের যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করতে হয়; এমনকি সাধারণ পথচারীদেরও নিয়ন্ত্রণের আওতায় রাখতে হয়। এতে যানবাহনের যাত্রী ও পথচারী তথা পথের মানুষকে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

আমি অকুণ্ঠ চিত্তেই বলতে চাই, অবশ্যই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা জরুরি এবং তাঁর যাতায়াতের পথে যেটুকু নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, সেটা অনিবার্য; সেখানে কোনো রকমের বাড়াবাড়ি নেই। বরং মাঝে মাঝেই আমার মনে হয়, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর জন্য আরও বাড়তি নিরাপত্তা গ্রহণ করলেই ভালো হয়। কিন্তু মানুষের ভোগান্তির কথা অস্বীকার করবার উপায় নেই। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের জনদরদি প্রধানমন্ত্রী যাতায়াতের সময় মানুষের ভোগান্তি দেখে নিজেও বিব্রত হন। আর সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থায় জড়িতদের ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন অন্তত দুই বার বাড়তি মানসিক চাপ নিয়ে বেশ কিছুটা সময় বাড়তি ব্যয় করতে হয়।

মানুষের ভোগান্তি ও প্রধানমন্ত্রীর বিব্রত হওয়া রোধ করতে পারে খুবই ছোট্ট একটি সিদ্ধান্ত। আর সেটা হলো, প্রধানমন্ত্রীর অফিস আর সরকারি বাসা একই ক্যাম্পাসে রাখার ব্যবস্থা করা। সেটা হতে পারে অফিস ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর উপযোগী বাসস্থান নির্মাণ করা কিংবা বাসস্থান গণভবন ক্যাম্পাসে অফিস স্থাপন করা কিংবা অন্য কোথাও একই ক্যাম্পাসে প্রধানমন্ত্রীর উপযোগী অফিস ও বাসস্থান তৈরি করা। প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও সরকারি বাসস্থান একই ক্যাম্পাসে থাকলে প্রতিদিন মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত কেন্দ্রিক ভোগান্তিতে পড়তে হবে না; কাজের চাপ কমবে নিরাপত্তা কর্মীদের। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীসহ সকলেরই কর্ম সময় বাড়বে; সরকারি ব্যয় কমবে। এসবের বাইরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এতে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা আরও সুরক্ষিত হবে এবং তাঁর নিরাপত্তা ঝুঁকিও কমে যাবে। তখন মন্ত্রী পরিষদের বৈঠক ও একনেক বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর অফিসে হলে মানুষের বিড়ম্বনা আরও একটু কমবে।

এখানে আমি স্মরণ করতে চাই, বঙ্গভবন ক্যাম্পাসেই রাষ্ট্রপতির অফিস ও সরকারি বাসা। অফিস ও বাসস্থান একই ক্যাম্পাসে থাকায় রাষ্ট্রপতির বাইরে যাতায়াত সীমিত। ফলে রাষ্ট্রপতির যাতায়াতজনিত কারণে রাজধানীর মানুষকে অনেক কম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তাঁর নিরাপত্তায় বাড়তি চাপ থাকে না সংশ্লিষ্টদের।

আমার প্রত্যাশা রইলো, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও মানুষের বিড়ম্বনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অফিস ও সরকারি বাসস্থান একই ক্যাম্পাসে রাখার একটি সিদ্ধান্ত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন আমাদের সরকার।

লেখক: সম্পাদক, উত্তরাধিকার ৭১ নিউজ

অমৃতবাজার/অারএ/এমএএন

Loading...