ঢাকা, রোববার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জাতীয় কবির ৪৩তম প্রয়াণ দিবস আজ


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৮:২৪ এএম, ২৭ আগস্ট ২০১৮, সোমবার
জাতীয় কবির ৪৩তম প্রয়াণ দিবস আজ

‘মম এক হাতে বাঁকা বাঁশের বাঁশরী আর হাতে রণতুর্য’। শুধু কলমে নয়, দেশমাতৃকার জন্য অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছেন। সব লেখনীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন অসাম্প্রদায়িকতার বাণী। আজ সেই সৃষ্টি সুখের উল্লাসে মাতা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়াণ দিবস।

১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র (১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট) ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (তৎকালীন পিজি হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জাতীয় কবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।

১৯২৩ সালের ৭ জানুয়ারি নজরুল বিচারাধীন বন্দি হিসেবে আত্মপক্ষ সমর্থন করে এক জবানবন্দি প্রদান করেন। চিফ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিস্ট্রেট সুইনহোর আদালতে দেয়া ওই জবানবন্দি বাংলা সাহিত্যে রাজবন্দির জবানবন্দি নামে বিশেষ সাহিত্যিক মর্যাদা লাভ করেছে।

সেই জবানবন্দিতে নজরুল বলেছেন- ‘আমার ওপর অভিযোগ, আমি রাজবিদ্রোহী। তাই আমি আজ রাজকারাগারে বন্দি এবং রাজদ্বারে অভিযুক্ত। ... আমি কবি, আমি অপ্রকাশ সত্যকে প্রকাশ করার জন্য, অমূর্ত সৃষ্টিকে মূর্তিদানের জন্য ভগবান কর্তৃক প্রেরিত।

১৬ জানুয়ারি বিচারের পর নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। তাকে আলিপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯২৩ সালের ২২ জানুয়ারি বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ তার বসন্ত গীতিনাট্য গ্রন্থটি নজরুলকে উৎসর্গ করেন। এ আনন্দে জেলে বসে নজরুল ‘আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে’ কবিতাটি রচনা করেন।

কবির জীবনকাল ৭৭ বছরের। ১৯৪২ সালে অসুস্থ হয়ে বাকশক্তি হারানোর আগ পর্যন্ত তিনি সৃষ্টিশীল ছিলেন। এ সময়ের মধ্যে কবি শিল্প-সাহিত্যকে যা দিয়েছেন, তা বাংলা তথা বিশ্ব পরিমণ্ডলে অমূল্য এক সম্পদ। তাই কাজী নজরুল ইসলাম এখনও প্রাসঙ্গিক।

নজরুল ইসলাম ছিলেন একাধারে কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীতজ্ঞ, সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ এবং সৈনিক। দারিদ্র্যের কারণে মাত্র ১০ বছর বয়সেই পরিবারের ভার বহন করতে হয়েছে তাকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কিছুদিন কাজ করার পর তিনি পেশা হিসেবে বেছে নেন সাংবাদিকতা।

সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সোচ্চার ভূমিকা রাখেন। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তিনি রচনা করেন ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। বন্দিদশায় তার হাতে সৃষ্টি হয়েছে গান, কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প, উপন্যাস, ছোটগল্পসহ অসংখ্য রচনা।

অসাম্প্রদায়িকতার মূর্ত প্রতীক একদিকে যেমন শ্যামা সঙ্গীত সৃষ্টি করেছেন অন্যদিকে সৃষ্টি করেছেন গজল বা ইসলামী সঙ্গীত। ছোটদের জন্য লিখেছেন প্রচুর। তার লেখা ‘ভোর হলো দোর খোলো’ বা ‘কাঠবিড়ালি কাঠবিড়ালি পেয়ারা তুমি খাও’ এখন শিশুদের শিক্ষাজীবনের শুরুর কবিতা।

১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। তাকে দেয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা।

বাংলা সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি. লিট উপাধি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার কবিকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত করা হয় কবিকে।

কর্মসূচি : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৩তম প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে কবির সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানাবেন কবির ভক্ত ও অনুরাগীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন।

বাংলা একাডেমিতে আজ শুরু হচ্ছে ২ দিনের কর্মসূচি। সকাল ৭টায় কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ২ দিনের এ আয়োজন। এরপর ৩০ আগস্ট বিকালে একাডেমির কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে একক বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম।

আজ নজরুল ইন্সটিটিউট কুমিল্লা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে নানা আয়োজন। চেতনায় নজরুল স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, হামদ-নাত, আলোচনা, দোয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দিয়ে সাজানো এ অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজক কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও নজরুল পরিষদ কুমিল্লা।

আলোচনা সভা ও ‘নজরুল পুরস্কার-২০১৭’ প্রদান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কবির ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করবে নজরুল ইন্সটিটিউট। আজ বিকালে জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে এ আয়োজনে প্রধান অতিথি থাকবেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

অমৃতবাজার/জয়