ঢাকা, শনিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৮ | ৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস আজ


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৫৭ এএম, ১৯ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
হুমায়ূন আহমেদের ষষ্ঠ প্রয়াণ দিবস আজ

ছয় বছর আগে যেদিন তিনি মাটির বিছানায় শেষ শয্যা নেন, সেদিনও আকাশ ভেঙে নেমেছিল বৃষ্টিধারা। অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীর মতো যেন প্রকৃতিও কেঁদেছিল সেদিন। নুহাশপল্লীর লিচুগাছের পাতার ফাঁক গলে তার কবরে টুপটাপ ঝরেছিল বৃষ্টির ফোঁটা। দেখতে দেখতে হুমায়ূনবিহীন কেটে গেল ৬টি বছর।। কিন্তু তিনি রয়ে গেছেন অসংখ্য সাহিত্যমোদীর হূদয়ে, রয়ে গেছেন তার অবিস্মরণীয় নানা রচনায় ও সৃষ্টিকর্মে। গল্পের জাদুকরখ্যাত এ মানুষটি আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ। আজ তার ষষ্ঠ প্রয়াণ বার্ষিকী। ২০১২ সালের আজকের এদিনে ক্যান্সার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

নিজের লেখা আত্মজৈবনিক গ্রন্থে হুমায়ূন আহমেদ লিখেছিলেন, ‘কল্পনায় দেখছি নুহাশপল্লীর সবুজের মধ্যে শ্বেতপাথরের কবর, তার গায়ে লেখা—চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারে, নিয়ো না, নিয়ো না সরায়ে।’ সে কথাগুলো কাচের এপিটাফ করে তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন নিজের নকশায় সাজিয়েছেন স্বামীর কবর। সেখানে আজ শাওন আর দুই শিশুপুত্র নিনিদ ও নিষাদের ফুলের ছোঁয়া পাবেন তিনি। স্বজনসহ হাজারো মানুষ আজ বিনম্র শ্রদ্ধা জানাবে প্রিয় লেখককে। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নুহাশপল্লীর পার্শ্ববর্তী এতিমখানার অনাথ শিশুদের খাওয়ানো হবে হুমায়ূন আহমেদের পছন্দের খাবার।

৬ বছর আগের রাতে নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন হুমায়ূন আহমেদ।

গল্প, উপন্যাস, কবিতা, আত্মজীবনী, প্রবন্ধ যাই লিখেছেন তাই পাঠক নন্দিত হয়েছে। সৃষ্টি করেছেন হিমু, মিসির আলীর মতো জনপ্রিয় চরিত্র। লেখালেখির পাশাপাশি দেশে টিভি নাটক ও চলচ্চিত্র নির্মাণ করে নিজস্ব ধারা তৈরি করেছেন।

১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পরেই আলোচনায় চলে আসেন হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখা উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, জোছনা ও জননীর গল্প, কবি, লীলাবতী, গৌরিপুর জংশন, নৃপতি, বহুব্রীহি, মধ্যাহ্ন, এইসব দিনরাত্রি, দারুচিনি দ্বীপ, নক্ষত্রের রাত, দেয়াল, ম্যাজিক মুন্সী অন্যতম। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- আগুনের পরশমনি, শ্যামল ছায়া, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, নয় নম্বর বিপদ সংকেত ও ঘেটুপুত্র কমলা। টিভি নাট্যকার হিসেবেও হুমায়ূন আহমেদ ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তার প্রথম টিভি নাটক ‘এইসব দিনরাত্রি’ তাকে এনে দিয়েছিল তুমুল জনপ্রিয়তা। ‘বহুব্রীহি’ ও ‘অয়োময়’ নাটক বাংলা টিভি নাটকের ইতিহাসে আলোড়ন তোলে। ধারাবাহিক ‘কোথাও কেউ নেই’র চরিত্র বাকের ভাই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছিল টিভি দর্শকদের কাছে।

হুমায়ূন আহমেদ ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন। ডাক নাম কাজল। বাবা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ কর্মকর্তা ফয়জুর রহমান আহমেদ ও মা আয়েশা ফয়েজের প্রথম সন্তান তিনি। তিন ভাই দুই বোনের মাঝে তিনি সবার বড়।

১৯৭৩ সালে গুলতেকিন খানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন এবং গুলতেকিন দম্পতির চার ছেলেমেয়ে। দীর্ঘ ৩২ বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসান ঘটিয়ে তিনি অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে বিয়ে করেন। বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্য ‘একুশে পদক’, বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ বহু পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

অমৃতবাজার/জয়