ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

বাংলা একাডেমির ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫৬ পিএম, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭, শনিবার
বাংলা একাডেমির ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আগামীকাল

আগামীকাল বাংলা একাডেমির ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ভাষা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৫৫ সালে ৩ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় বাঙালির মেধা ও মননের প্রতীক এ প্রতিষ্ঠানটি।

ওইদিন ‘বর্ধমান হাউস’এর সম্মুখস্থ বটতলায় পূর্ববাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী আবু হোসেন সরকার এ প্রতিষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পূর্ববাংলার তদানীন্তন শিক্ষামন্ত্রী আশরাফ উদ্দীন আহমদ চৌধুরীও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

দিবসটি যথাযথভাবে উদ্যাপনের লক্ষ্যে একাডেমি বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে সকাল ১০টায় মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি এবং বিকেল ৪টায় একাডেমির রবীন্দ্রচত্বরে বক্তৃতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। স্বাগত বক্তৃতা দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক গোলাম মুরশিদ।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান জানান, একাডেমির লক্ষ্য হলো দেশজ সংস্কৃতি, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সমকালীন শিল্প ও সাহিত্য সংরক্ষণ এবং গবেষণা ও উন্নয়নের মাধ্যমে জাতির মানসিক বিকাশ ও উৎকর্ষ সাধন। এ ক্ষেত্রে একাডেমি অনেকটাই সফল বলেও তিনি জানান।

বিগত ৯ বছরের গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলা একাডেমির অভূতপূর্ব সাফল্যের কথা উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, ১১০ বছর প্রচেষ্টার পর বাংলা একাডেমিই প্রথম ২০১১ সালে বাংলাভাষী অঞ্চলের জন্য প্রমিত বাংলা ভাষার ব্যাকরণ প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। এছাড়া ৩ খণ্ডের ৩ হাজার পৃষ্ঠার বাংলা ভাষার বিবর্তনমূলক অভিধানও প্রণয়ন করে একাডেমি।

তিনি বলেন, বাংলা একাডেমি ২০১৩ সালে বাংলা ও বাঙালি ইতিহাস গ্রন্থ এবং ৬৪ জেলার লোকজ সংস্কৃতি-বিষয়ক গ্রন্থমালা প্রণয়ন ও প্রকাশ করেছে। খ্যাতনামা সাহিত্য ও সংস্কৃতিসেবীদের জীবন ও কর্ম-বিষয়ক গ্রন্থ রচনা এবং তাঁদের রচনা সংগ্রহ করে ৫ খণ্ডের বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস প্রণয়ন করেছে একাডেমি। এছাড়া বাংলা ভাষা ও সাহিত্য সম্পর্কিত উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম অভিধান প্রণয়ন, বিভিন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা’ শীর্ষক কর্মসূচির আওতায় ৭৩টি গ্রন্থ প্রকাশ করেছে।

বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন জানান, ১৯৭২ সালের ১৬ মে’র পর বাংলা একাডেমির বিভাগসমূহ পুনর্বিন্যাস্ত করে মোট ৭টি বিভাগ গঠন করা হয়। বিভাগসমূহ হচ্ছে- (১) প্রাতিষ্ঠানিক বিভাগ, (২) গবেষণা ও সংকলন বিভাগ, (৩) অনুবাদ বিভাগ, (৪) সংস্কৃতি বিভাগ, (৫) প্রকাশন, বিক্রয় ও প্রেস বিভাগ, (৬) পাঠ্যপুস্তক বিভাগ এবং (৭) ফোকলোর বিভাগ। কিন্তু ১৯৮৩ সালের ২৫ মে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের এক আদেশবলে একাডেমির বিভাগসমূহের সংখ্যা কমিয়ে ৪টি করা হয় এবং গ্রন্থাগারকে পৃথক করা হয়। সে সময় বিভাগসমূহ ছিল (১) গবেষণা, সংকলন ও ফোকলোর বিভাগ, (২) ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও পত্রিকা বিভাগ, (৩) পাঠ্যপুস্তক বিভাগ এবং (৪) প্রাতিষ্ঠানিক, পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ বিভাগ।

তিনি বলেন, বর্তমানে ২০১৩ সনের ৩৩ নং আইন বাংলা একাডেমি অর্ডিনেন্স, ১৯৭৮ রহিতপূর্বক সংশোধনসহ পুনঃপ্রণয়ন ও সংহত করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন অনুযায়ী বাংলা একাডেমিতে ৮জন পরিচালকের নিয়ন্ত্রণাধীন ৮টি বিভাগ করা হয়েছে। এ বিভাগুলো হলো (১) গবেষণা, সংকলন এবং অভিধান ও বিশ্বকোষ (২) অনুবাদ, পাঠ্যপ্স্তুক ও আন্তর্জাতিক সংযোগ (৩) জনসংযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ (৪) বিক্রয়, বিপণন ও পুনর্মুদ্রণ (৫) সংস্কৃতি, পত্রিকা ও মিলনায়তন (৬) গ্রন্থাগার (৭) ফোকলোর, জাদুঘর ও মহাফেজখানা এবং (৮) প্রশাসন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগ।

একাডেমির পরিচালক সরকার আমীন জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে একাডেমি প্রাঙ্গণে নিয়মিত গ্রন্থমেলা হয়ে আসছে। পরবর্তীতে অমর একুশে গ্রন্থমেলা জাতীয় আবেগ ও সৃজনশীল উদ্ভাবনার সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক মেলায় পরিনত হয়েছে। বাংলা একাডেমি বিভিন্ন পুরস্কারের মাধ্যমে গবেষক ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা হয় । পুরস্কারগুলো হলো- বাংলা একাডেমি সাহিত্যে পুরস্কার, রবীন্দ্র পুরস্কার, সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার, চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার, পলান সরকার স্মৃতি পুরস্কার ও মোহাম্মদ নুরুল হক গ্রন্থ সুহৃদ পুরস্কার। বাসস।

অমৃতবাজার/মিঠু

Loading...