ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীদের বই পড়ার জন্য পুরস্কার প্রদান


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:২৭ পিএম, ১০ মার্চ ২০১৭, শুক্রবার
শিক্ষার্থীদের বই পড়ার জন্য পুরস্কার প্রদান

বছর জুড়ে বইপড়া কর্মসূচিতে নিজের উৎকর্ষতার পরিচয় দেয়ার জন্য চট্টগ্রামে ছয় হাজার ৩১৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার প্রদান করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গ্রামীণফোন।

শুক্রবার নগরীর সিটি কর্পোরেশন মিউনিসিপ্যাল মডেল হাই স্কুল অ্যাণ্ড কলেজ প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম সিটি কর্রোরেশনের সম্মানিত মেয়র জনাব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ এবং গ্রামীণফোনের হেড অব চট্টগ্রাম সার্কেল জনাব শাওন আজাদ আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন।

এই উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত সচিব ও সেকায়েপ এর প্রকল্প পরিচালক ড. মো.  মাহামুদ-উল-হক, চট্টগ্রাম বিভাগের সম্মানিত ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার বেগম সারওয়ার জাহান, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান, জনাব আবুল মোমেন, জনাব আনিসুল হক, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. আবুল হোসেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. গোলাম ফারুক।

বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশভিত্তিক উৎকর্ষ কার্যক্রমের আওতায় ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৮১টি স্কুলের প্রায় ১৭ হাজার শিক্ষার্থী এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে মূল্যায়নপর্বে যারা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে, তাদেরকে পুরস্কার প্রদানের জন্য গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় দুইদিনব্যাপী  পুরস্কার বিতরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়। উৎসবে আমন্ত্রিত অতিথিদের গল্প শুনে তাদের হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করে ছাত্রছাত্রীরা বইপড়ার বিষয়ে আরো বেশি আগ্রহী হয়ে উঠে।

মেয়র জনাব আ.জ.ম নাছির উদ্দীন পুরস্কারপ্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ছাত্রছাত্রীদের শুধুমাত্র গতানুগতিক শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে একজন সার্টিফিকেট ধারী শিক্ষিত না হয়ে তাদেরকে বই পড়ার মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন মানুষ হতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে এব্যাপারে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, মানুষকে যদি মর্যাদা অর্জন করতে হয় তাহলে অনেক কিছু করতে হবে। তিনি আলাউদ্দিনের দৈত্যের গল্পের উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের ভেতর আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যের মতো একজন অসীম ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষ বন্দী অবস্থায় আছে। তাকে জাগানোই হল আসল কাজ, যা বইপড়ার মাধ্যমে করা যায়। তোমরা যদি সেই কাজটা করতে পারো, তবে বাংলাদেশ একদিন সত্যি সত্যিই শ্রেষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত হবে।

গ্রামীণফোনের পক্ষ থেকে শাওন আজাদ বলেন, আমাদের চলার পথ কখনোও মসৃণ নয়। তবে জ্ঞান আমাদের চলার পথকে মসৃণ করে। আমাদের অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। সারাদেশে বইপড়া কর্মসূচি এভাবে বাড়তে থাকলে দেশে আর অন্ধকার থাকবে না, আলোয় ভরে যাবে। ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন তোমরা বেশি বেশি করে বই পড়বে। আরো জানান http://www.alorpathshala.org ওয়েব সাইটে  বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বই অনলাইনে পড়ার সুযোগ আছে যা ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

অমৃতবাজার/নুরুজ্জামান

Loading...