ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

করোনাভাইরাস দ্রুত গ্রাস করতে পারে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৮ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
করোনাভাইরাস দ্রুত গ্রাস করতে পারে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে ছবি: সংগৃহীত

উৎপত্তিস্থল উহান ছাড়িয়ে প্রাণঘাতী `করোনাভাইরাস` পৌঁছে গেছে চীনের পশ্চিমাঞ্চলের প্রদেশ জিনজিয়াংয়ে। অঞ্চলটিতে কয়েক বছর ধরেই প্রায় ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে বন্দী করে রেখেছে দেশটির সরকার। বন্দীশিবিরগুলোর নোংরা পরিবেশ আর ঘনবসতির কারণে ভাইরাসটি দ্রুত গ্রাস করতে পারে তাদের। চীনের স্বাস্থ্য কমিশনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

দেশটির স্বাস্থ্য কমিশন জানিয়েছে, জিনজিয়াংয়ে ইতোমধ্যে দুই ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের একজন ৪৭ বছর বয়সী লি এবং অন্যজন ৫২ বছর বয়সী গিউ। আক্রান্ত ওই দুই ব্যক্তি সম্প্রতি হুবেই প্রদেশের উহান শহরে ভ্রমণে গিয়েছিলেন।

জিনজিয়াংয়ে উইঘুরদের বন্দী রাখার জন্য মোট ৪৬৫টি ক্যাম্প রয়েছে। উইঘুর মুসলিমদের আটকে রাখার ক্যাম্পগুলোর পরিবেশ অত্যন্ত নোংরা। এছাড়া সেখানকার অবকাঠামো ব্যবস্থাও ভালো না। ডিট্নেশন সেন্টারগুলোতে স্বল্প জায়গার মধ্যেই বন্দী রাখা হয়েছে ্লাখ লাখ মুসলিম নাগরিককে।

২০১৮ সালে সেসব ক্যাম্পের সাবেক এক বন্দী ওমর সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, তার সঙ্গে একই কক্ষে আরো ৪৫ জনকে আটকে রাখা হয়েছিল। ঘুমানোর জন্য খুব কম জায়গা পেতেন তারা।

দুই বছর আগে ক্যাম্প থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন সাইরাগুল সৌবেই নামের এক ব্যক্তি। তিনি বলেন, ক্যাম্পের খাবার খুবই বাজে। সেখানকার পরিবেশ অনেক অস্বাস্থ্যকর। এছাড়া ঘুমানোর জন্য পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যায় না সেখানে।

তিনি আরো জানান, ১৬ বর্গমিটারের একটি কক্ষে ১৬ জন থাকতেন তারা। টয়লেটের জন্য প্রতিটি রুমে একটি প্লাস্টিকের বালতি ছিল। প্রত্যেক বন্দীকে সেটি ব্যবহার করতে দুই মিনিট করে সময় নির্ধারিত করে দেয়া হত। দিনে মাত্র একবার সেই বালতি পরিষ্কার করা হতো।

জিনজিয়াংয়ে এই ভাইরাস ছড়ালে ক্যাম্পে বন্দীদের ওপর তার মারাত্মক প্রভাব পড়বে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ব উইঘুর কংগ্রেসের সভাপতি দুলকুন ইসা বলেন, এ ভাইরাসের কারণে লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়বে। ঘনবসতির কারণে দ্রুত ভাইরাসটি পুরো অঞ্চল গ্রাস করে ফেলবে।

জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের চীন ও মধ্যএশিয়ার ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক জেমস মিলওয়ার্ড এক টুইটার পোস্টে বলেন, একত্রে এতো মানুষের বসবাস, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে আটক থাকা উইঘুর মুসললিমদের ওপর।

অমৃতবাজার/এসএইচএম