ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২০ | ২৪ চৈত্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিএএ`র ভয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়ছে


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩২ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার | আপডেট: ১০:৩৫ এএম, ২৫ জানুয়ারি ২০২০, শনিবার
সিএএ`র ভয়ে বাংলাদেশে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বাড়ছে বাংলাদেশে আটক ভারত থেকে আসা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর একাংশ(বামে)। ছবি: সংগৃহীত

ভারতে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) ঘোষণার পরে থেকেই সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে রেকর্ড পরিমাণ অনুপ্রবেশকারী। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) সূত্রেই এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসএফের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) কার্যকর হওয়ার পরে ভারতের কাগজপত্রহীন মুসলমানদের মনে ভয় ধরে গেছে। ফলে তারা যে কোনভাবেই হোক বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।

যদিও মোদী সরকারের এই বিতর্কিত আইনের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে বিক্ষোভ-আন্দোলন চলছে। তবুও `নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)` ভয় ধরাচ্ছে বৈধ কাগজপত্রহীন নাগরিকদের মনে। এমনটাই মনে করছেন বিএসএফের কর্মকর্তারা।

বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পালাতে চাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিএসএফের চীফ ইনস্ট্রাক্টর (দক্ষিণবঙ্গ সীমান্ত) ওয়াই বি খুরানিয়া বলেন, `শুধু জানুয়ারিতেই ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এখন পর্যন্ত ২৬৮ জনকে গ্রেফতার করেছে, যাদের বেশিরভাগই বাংলাদেশে গোপনে প্রবেশ করার চেষ্টা করছিল।`

ভারতের নতুন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসের আগে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শুধুমাত্র অ-মুসলিম শরণার্থীদেরই নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

যদিও এই আইনটি পাস হওয়ার পর এর বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ কংগ্রেস, এসপি, বিএসপি ও টিডিপি`র মতো দলগুলোর নেতারা। এনআরসি, সিএএ নিয়ে বিজেপি সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শিল্পীগোষ্ঠীও। নামী ফিল্ম ডিরেক্টর অনুরাগ কাশ্যপ তো ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাবার পরিচয়পত্র ও বৈধ কাগজপত্র দেখতে চেয়েছেন।

বিরোধীদের মতে, ভারতের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। দেশের বিরোধীদলগুলো কেন্দ্রকে এই আইন প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়ে যাচ্ছে।

এদিকে গত মঙ্গলবারই লখনৌয়ের সভামঞ্চ থেকে রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়ে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, `যাই-ই হয়ে যাক না কেন সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন দেশে প্রয়োগ করা হবেই।`

বিজেপির অন্যতম মুখ্য এই নেতা বলেন, `এই কথা সকলকে জানিয়ে রাখি, এই আইনটি কোনভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না, যে যতই প্রতিবাদ করুন না কেন। আমরা বিরোধীদের ভয় পাই না, আমরা বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই জন্মগ্রহণ করেছি।`

অমৃতবাজার/এসএইচএম