ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ইরানের বিরুদ্ধে বৈঠকে বসবে ৫ দেশ



প্রকাশিত: ০৫:১৪ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার
ইরানের বিরুদ্ধে বৈঠকে বসবে ৫ দেশ ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদিম প্রাইসটাইকো। ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিজেদের দায় স্বীকারের পর ইরানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইউক্রেনসহ ৫টি দেশ। আগামী বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদিম প্রাইসটাইকোর বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ এ খবর জানিয়েছে। ওই বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বৈঠকে বসতে যাওয়া পাঁচটি দেশের যাত্রীরা।

গতকাল সোমবার সিঙ্গাপুরে একটি সরকারি সফরের সময় ভাদিম প্রাইসটাইকো বলেন, ‘ভুক্তভোগী পাঁচ দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে ইরানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা ও আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।’

প্রাইসটাইকো আরো জানান, এ ঘটনার তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ নিয়েও আলোচনা করবেন তারা। এর আগে বিধ্বস্ত ওই বিমানের ব্ল্যাকবক্স তদন্তের জন্য কিয়েভের কাছে হস্তান্তর করতে তেহরান রাজি হয়েছে বলেও জানান প্রাইসটাইকো।

ওই পাঁচ দেশের মধ্যে কানাডা, ইউক্রেন, আফগানিস্তান ও সুইডেন রয়েছে বলে জানান প্রাইসটাইকো। তবে অন্য এক দেশের নাম উল্লেখ করেননি তিনি। এর আগে কানাডার পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ব্রিটেন ও কানাডাসহ পাঁচ দেশের সমন্বয়ে দুর্গতদের পরিবারকে সহায়তার জন্য একটি দল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) ভোররাতে ইউক্রেনের একটি যাত্রীবাহী বিমান তেহরানের ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় বিমানটির ১৭৬ আরোহীর সবাই প্রাণ হারান। এ ঘটনার পরই বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়ে ইরান। অভিযোগ ওঠে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিধ্বস্ত হয় বিমানটি। তবে শুরু থেকেই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিল ইরান।

সর্বশেষ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো গত শুক্রবার আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে। ওই বিমানে ৬৩ জন কানাডার নাগরিক ছিলেন। ফলে বিমান বিধ্বস্তের বিষয়ে কানাডায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিমানটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের খবরেও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়।

পরে ১১ জানুয়ারি, শনিবার সকালে এক বিবৃতিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী জানায়, মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র মনে করে ‘ভুলবশত’ যাত্রীবাহী বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার কারণে এটি ভূপাতিত হয়েছে।

মার্কিন হামলায় গত ৩ জানুয়ারি ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানি নিহতের প্রতিশোধে গত বুধবার ইরাকে দুটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান। সেদিনই ওই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরের কিছুক্ষণ পর জানা যায়, ইউক্রেন এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট বিধস্ত হয়ে এর ১৭৬ আরোহীর সবাই মারা গেছেন।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভাদিম প্রাইসটাইকো জানান, ওই বিমানটিতে ৮২ জন ইরানি, ৬৩ জন কানাডিয়ান, ১১ জন ইউক্রেনীয়, ১০ জন সুইডিশ, চারজন আফগান, তিনজন জার্মান ও তিনজন ব্রিটিশ নাগরিক ছিলেন।

অমৃততবাজার/এসএইচএম