ঢাকা, শনিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

যে দেশে নিজ সন্তানের চেয়ে রাষ্ট্রনেতার ছবি মূল্যবান


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৪৬ পিএম, ১৩ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
যে দেশে নিজ সন্তানের চেয়ে রাষ্ট্রনেতার ছবি মূল্যবান উত্তর কোরিয়ার সাবেক দুই রাষ্ট্রনেতা কিম ইল-সাংয় ও কিম জন ইল। ছবি: সংগৃহীত

বাইরে থেকে এসে দেখলেন আগুনে দাউ দাউ করে জ্বলছে আপনার ঘর। ভেতরে রয়েছে সন্তান, আরও অনেক দামী জিনিসপত্র। কি করবেন আপনি? যে কোন সুস্থ স্বাভাবিক লোক বলবে, `নিজের সন্তানকে বাঁচাবো।` নিজেদের দুই সন্তানকে বাঁচাতে তেমনটাই করেছিলেন দুজন মমতাময়ী মা। আর এজন্য গ্রেফতার হলেন তারা।

তাদের অপরাধ, ঘরের দেয়ালে ঝোলানো রাষ্ট্রনেতাদের ছবি উদ্ধার না করে শুধুই সন্তানদের উদ্ধার করেছেন তারা। সন্তানের মায়ায় তারা ভুলে গিয়েছিলেন, তাদের দেশটার নাম উত্তর কোরিয়া। এমনকি, আহত সন্তানদের হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারেননি দুই মা।

সম্প্রতি এমন অদ্ভুত গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে উত্তর কোরিয়ায় নর্থ হ্যামগঙ্গ প্রদেশের হ্যামগঙ্গের অনসং কাউন্টির বাড়িতে। আর্ন্তজাতিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল জানিয়েছে, আগুন লাগার পর সন্তান বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন দুই নারী। তারা ভুলে যান যে, বাড়ির দেয়ালে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট কিম ইল-সাং এবং কিম জং-ইলের ছবি টানানো ছিল। আর রাষ্ট্রনেতাদের ছবি উদ্ধার না করে পুড়তে দেওয়ার অপরাধে ওই দুই নারীকে গ্রেফতার করা হলো।

ডেইলি মেইল আরো জানায়, উত্তর কোরিয়ার আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রনেতাদের ছবি বাঁচাতে গিয়ে কেউ প্রাণ হারালে তাকে বীর বলে সম্মানিত করা হয়। কিন্তু তা না করলে সশ্রম কারাদণ্ডের মুখে পড়তে হয় নাগরিকদের। তাই এই অপরাধের জন্য দুই মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা দোষী সাব্যস্ত হলে কারাগারে নিক্ষেপিত হবেন।

টাইমস নাউ নিউজ জানিয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই দেশটির নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তদন্তে নামেন। ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরই ওই দুই মা`কে গ্রেফতার করেন তারা। গ্রেফতার হওয়ার ফলে আহত সন্তানদের হাসপাতালেও নিয়ে যেতে পারেননি দুই মা।

উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়ায় বাড়িতে, স্কুল-কলেজে, রেল স্টেশন, সাবওয়ে ট্রেনে সাবেক রাষ্ট্রনেতাদের ছবি রাখা বাধ্যতামূলক। তবে দেশটির বর্তমান নেতা কিম জং-উনের ছবি এখনও এই তালিকায় যুক্ত হয়নি। শুধু রাখলেই দায়িত্ব শেষ নয়; সাবেক রাষ্ট্রনেতাদের ছবির যেন কোনোরকম অবমাননা করা হলে দীর্ঘ কারাভোগ করতে হয় নাগরিকদের। উত্তর কোরিয়ায় আইন অনুযায়ী দেশটির নাগরিকরা সেই নিয়ম পালন করছেন কি-না, তা দেখতে বাড়ি বাড়ি যান সরকারি পরিদর্শকরা।

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে দেশটির সিনহাং কাউন্টিতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বন্যায় কিম জন ইলের ছবি বাঁচাতে গিয়ে ডুবে মারা যায় ১৪ বছরের এক কিশোর। সেই কিশোরকে কিম জং-ইল ইয়ুথ অনারে ভূষিত করে সরকার। স্কুলে তার নামে ফলক তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে ওত্তো ওয়ার্মবিয়ার নামের এক শিক্ষার্থী কিম ইল-সাংয়ের নাম লেখা পোস্টার ছিঁড়ে ফেলে ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের সাজা পেয়েছিলেন।

অমৃতবাজার/এসএইচএম