ঢাকা, বুধবার, ২২ জানুয়ারি ২০২০ | ৯ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রাখাইন গণহত্যার অভিযোগে বিভ্রান্তিকর: সু চি


অমৃতবাজার রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৪:৩৩ পিএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, বুধবার
রাখাইন গণহত্যার অভিযোগে বিভ্রান্তিকর: সু চি

 

গণহত্যার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি। বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় মিয়ানমারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) উপস্থিত হন তিনি।

এসময় মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযান সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বলে দাবি করেন সু চি। রাখাইন গণহত্যার বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে পর্যন্ত আনার সমালোচনাও করেন তিনি। বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার অভিযোগে মামলাটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর।

কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে সু চি তার বক্তব্যে আরও বলেন, জাতিগত সংঘাতে নয়, সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্যের কারণে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি বলেন, আরাকান আর্মির সংঘর্ষের কারণে রাখাইনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ২০১৬ সালে ক্রমাগত আক্রমণ চালায় আরসা। ২০১৭ সালের আগস্টে আরসা একটি সামরিক চৌকি ধ্বংস করে ও ৩০ জন পুলিশকে হত্যা করে। এভাবে তারা ১২টি হত্যাযজ্ঞ চালায়। এরপর মিয়ানমার সেনাবাহিনী সশস্ত্র হামলা চালায়। মিয়ানমারের ক্লিয়ারেন্স অপারেশনকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করেছে গাম্বিয়া।

অং সান সু চি বলেন, সেনাবাহিনী কোনও জেনোসাইড করলে সংবিধান অনুযায়ী মিয়ানমারের স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা কোর্ট মার্শাল করে। সেই ধারবাহিকতায় ২৯ জন সেনা সদস্যসহ এক হাজার ৩২ জনকে জিজ্ঞাসাবদ করা হয়। আরও গভীর অনুসন্ধানের অনুরোধ করছি গাম্বিয়াকে। মানবাধিকার লঙ্ঘন হলে মিয়ানমার সরকার মেনে নেবে না। আন্তর্জাতিক আইনের চেয়ে অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা অনেক দ্রুত।

শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি বলেন, যদি দেশের অভ্যন্তরে গণহত্যার উদ্দেশ্যে এ ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে তবে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত সেনা সদস্য, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, এর বাইরে আমি এ বিষয়েও নিশ্চিত করছি যে, আমাদের সবার নজর সেনা সদস্যদের দিকে। একইসঙ্গে অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধেও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শুনানির প্রথম দিনে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করে রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবি জানান গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী। এ সময় রোহিঙ্গা গণহত্যাকে বৈশ্বিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্ব কেন এ ধরনের বর্বরতা ঘটে যাওয়ার অনুমোদন দিচ্ছে সে প্রশ্ন তোলে দেশটি।

এদিন মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে শুনানিতে রোহিঙ্গাদের ওপর সে দেশের সামরিক বাহিনীর একের পর এক নৃশংসতার ঘটনা তুলে ধরা হয়। তখন সেখানে পাথরের মত মুখ করে বসে ছিলেন নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী অং সান সু চি।

এদিকে, আদালতে মিয়ানমারের পক্ষে দাঁড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিজ দেশে সু চির অবস্থান আরও দৃঢ় করেছে বলে মত বিশ্লেকদের। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

সু চির চিন্তাভাবনার সঙ্গে পরিচিতরা বলছেন, মিয়ানমারের স্থানীয় পর্যায়ের পরিস্থিতির কারণেই সু চি শুনানিতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো তার ব্যক্তিগত ও দলের সমর্থন জোরদার করা এবং সেনাবাহিনীকে হাতে রাখা। মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক সরকার থাকলেও সেনাবাহিনীই ক্ষমতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করে।

আজ শুনানিতে অংশ নেন সু চি। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ মামলার রায় আসতে আসতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি তল্লাশি চৌকিতে বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত নিধন অভিযান শুরু করে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মুখে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। ওই ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পর গত ১১ নভেম্বর অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশনের (ওআইসি) সমর্থনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ দায়ের করে গাম্বিয়া।

অমৃতবাজার/এএস