ঢাকা, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৭ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নৌ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে মিয়ানমার


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৫৭ এএম, ২৯ আগস্ট ২০১৯, বৃহস্পতিবার
মার্কিন নৌ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে মিয়ানমার

 

মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির নিধনযজ্ঞের কারণে দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এর ভেতরেই আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যে দেশগুলোর সামরিক মহড়া দক্ষিণ চীন সাগরে অনুষ্ঠিত হবে তাতে মিয়ানমারের অংশ গ্রহণের কথা রয়েছে।

আসিয়ান জোটভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ মহড়ায় মিয়ানমার বাহিনীর অংশগ্রহণের বিষয়টি বুধবার সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনী প্রধানের কার্যালয়ের মুখপাত্র জ মিন তুন। খবর চ্যানেল নিউজ এশিয়া’র।

সিঙ্গাপুর ভিত্তিক এ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই বছর আগে ৭ লাখ ৪০ হাজার (প্রকৃত সংখ্যা হবে প্রায় ১২ লাখ) রোহিঙ্গা মুসলিম নির্যাতনের শিকার হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিলে মিয়ানমারের সেনা প্রধান ও তিন জ্যেস্ঠ সিনিয়র কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ওই নিধনযজ্ঞকালে প্রধান ভূমিকা মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখলেও যুক্ত ছিল নৌবাহিনীও।

আসিয়ান (অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথ-ইস্ট এশিয়ান ন্যাশনস) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশ নিয়ে গঠিত একটি আঞ্চলিক জোট। সেপ্টেম্বরের ২ তারিখ থেকে থাইল্যান্ড উপসাগরে এ জোটের নৌমহড়া শুরু হবে। তাতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি অংশ নিতে চলেছে মিয়ানমারও।

মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীকে যখন নিষেধাজ্ঞার জালে রাখা হচ্ছে ঠিক সেই সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন মহড়ায় মিয়ানমারকে তাদের দলে নিচ্ছে কিনা এমনটি ভাবছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফর্টিফাই রাইটসের মুখপাত্র জন কুইনলে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের উচিত হলো আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে জবাবদিহিতার জন্য মিয়ানমারের ওপর আরও চাপ প্রয়োগ করা। তাদের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া নয়।’

এ মহড়াকে  ‘অত্যন্ত বেদনার’ বলে মন্তব্য করছেন রোহিঙ্গা বিষয়ক মানবাধিকার কর্মী তুন কিন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর প্রধানকে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনে অভিযুক্ত করার এক সপ্তাহ পরেই যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে মহড়া করছে।’ তবে মিয়ানমারের মুখপাত্র জানান, তারা আসিয়ানভুক্ত দেশ হওয়ায় কারনে এ মহড়ায় অংশগ্রহণের প্রস্তাব পেয়েছে। নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি একদমই ভিন্ন।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও এ মহড়াকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্রঅঞ্চলে যৌথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে। দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট থেকে বলা হয়, আসিয়ানের ১০টি দেশ নিয়ে আয়োজিত এ মহড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সমুদ্র অঞ্চলে জরুরি নিরাপত্তা বিষয়ে কাজ করার একটি সুযোগ। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনায় দেশটির সরকারের ওপর শক্তিশালী নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ছে। সোমবার নতুন করে শীর্ষস্থানীয় একাধিক মার্কিন আইনপ্রণেতা এক বিবৃতিতে এমন একটি আইনের প্রস্তাব করেছেন, যাতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নির্মম সহিংসতার জন্য মিয়ানমার সরকারকে নতুন নিষেধাজ্ঞার চাপে ফেলা যায়।

অমৃতবাজার/এএস