ঢাকা, রোববার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

বন্দুকের বদলে এখন আফগান শিশুদের হাতে ক্রিকেট ব্যাট


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৪৮ পিএম, ০২ জুন ২০১৯, রোববার
বন্দুকের বদলে এখন আফগান শিশুদের হাতে ক্রিকেট ব্যাট

মানবনতার জন্য কলঙ্ক যেসব জঙ্গিগোষ্ঠী তাদের সবার আঁতুর ঘর বলা যায় আফগানিস্তানকে। শিশু-কিশোররা যে সময়ে বই হাতে স্কুলে যাওয়ার কথা এদেশে সেখানে কারো কারো হাতে থাকে বিধ্বংশী মরণাস্ত্র। এই আফগানিস্তানকে যেন নতুন জীবনীশক্তি দান করেছে ক্রিকেট।

ক্রিকেট এতটাই মশগুল হয়েছে এই দেশ যে নিজেদের মধ্যে খুনখারাবির চেয়ে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মোহাম্মদ নবী ও রশীদদের নিয়ে আলোচনা। শিশু কিশোররা বন্দুক ফেলে হাতে নিচ্ছে ক্রিকেট ব্যাট। আফগানে এসেছে পরিবর্তনের বসন্ত।

উনিশ শতকের মাঝামাঝি থেকেই আফগানিস্তানের মসজিদের অলিতে গলিতে শুরু হয় ক্রিকেট খেলার প্রচলন। ১৯৯৫ সালে প্রথম গঠিত হয় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। ইমরান-আক্রম জমানার পাকিস্তানের ক্রিকেটের ইতিহাস থেকে প্রথম আফগানরা বিশ্বাস করতে শুরু করে ক্রিকেটে।

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের আইসিসির স্বীকৃতি পেতে লেগে যায় প্রায় ৬ বছর। ২০০১ সালে প্রথম আইসিসির অনুমোদন পায় আফগান ক্রিকেট বোর্ড। ২০০৩ সালে প্রথম আসে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল-এর অনুমোদন। ২০১০ সালে প্রথম আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে চমকে দেয় রুমির দেশ। কিন্তু ভারত আর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে বিশ্বক্রিকেটের মূলস্রোত থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় আফগানিস্তান।

২০১৩ সালে আইসিসির অ্যাসোসিয়েট মেম্বারশিপ পায় আফগান ক্রিকেট বোর্ড। এই ঘটনাটিই হয়তো বিপ্লব ঘটায় আফগান ক্রিকেটে। ওই বছরই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে পাকিস্তানের থেকে সমস্ত রকম ক্রিকেটীয় সুবিধা আদায়ের চুক্তি (মেমোরান্ডাম অফ আন্ডারস্ট্যান্ডিং) করে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

২০১৫ সালে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে শুরু হয় আফগান ক্রিকেটের লড়াই। অর্থসংকটের মধ্যেও সামান্য পুঁজি নিয়েই ২০১৫ বিশ্বকাপের মূলপর্বে নামল আফগানরা। কিন্তু গ্রুপপর্বে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে এক উইকেটে জয় ছাড়া উল্লেখযোগ্য কিছুই অপেক্ষা করছিল না হয়তো আফগানিস্তানের জন্য। এখানেই হয়ত আফগান ক্রিকেটের সার্থকতা। এই পরাজয়ে ভেঙে না পড়ে ক্রিকেটের মূলমন্ত্রকে আত্মস্থ করেছিলেন তারা।

আসলে আফগানদের ক্রিকেটীয় লড়াই যে ছিল ট্রফি জেতার বাইরেও অনেক বেশি করে গোলা বারুদের বাইরে নিজেদের অস্তিত্বকে জানান দেওয়া। তা প্রমাণ হয়ে হায় আগামী কয়েকটা বছরে। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে যে চমক তারা দেয় তা কোনো অর্থেই হয়তো চমক ছিল না বরং তা ছিল প্রায় ৭০ বছরের আফগান ক্রিকেটের লড়াইকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করার প্রথম ধাপ।

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেটের মহীরুহের কাছে রান কিংবা উইকেটের বিচারে হেরে গেছে আফগানিস্তান। কিন্তু ওই বাইশ গজের বহু বহু দূরে কোনো ধোঁয়া-বারুদের দেশে এক ফালি সবুজ গালিচায় ছোট ছোট ছেলেরা বন্দুক ফেলে ক্রিকেট ব্যাট তুলে নিচ্ছে হাতে। ক্রিকেটের বাউন্ডারির অনেক বাইরে নিজের অজান্তেই হয়তো জিতে যাচ্ছে ক্রিকেট। এই আকালে এমন রূপকথাই বা কম কী?

অমৃতবাজার/পিকে