ঢাকা, সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

মুসলমান রোগীকে নিকাব সরাতে বলে বিপাকে ডাক্তার!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:২৯ পিএম, ১৯ মে ২০১৯, রোববার | আপডেট: ০৯:৩০ পিএম, ১৯ মে ২০১৯, রোববার
মুসলমান রোগীকে নিকাব সরাতে বলে বিপাকে ডাক্তার!

মুসলিম রোগীর নিকাব সরাতে বলে তদন্তের মুখে পড়েছেন এক চিকিৎসক। ঐ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল স্টোক ইউনিভার্সিটি হসপিটালে।

শিশুকন্যাকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে এসেছিলেন এক নারী। শিশুটির গলায় টনসিলের সমস্যা। তা নিয়ে চিকিৎসক কথা বলছিলেন ওই নারীর সঙ্গে। কিন্তু মুখে নিকাব থাকায় বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল চিকিৎসকের। তাই নিকাব সরাতে বলেন তিনি। এ নিয়েই এখন তদন্তের মুখোমুখি ওই চিকিৎসক।

ঘটনার শিকার ওই চিকিৎসকের নাম কিথ ওলভারসন। গত ২৩ বছর ধরে মেডিসিনের একজন চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত তিনি। কিথ বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ভীষণ হতাশ এবং ডাক্তারি পেশার প্রতি তাঁর আর কোনও শ্রদ্ধাবোধ নেই।

ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম স্ট্যান্ডার্ড-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতবছর শিশুকন্যাকে নিয়ে ডা. কিথের কাছে আসেন নিকাব পরা এক নারী। শিশুটির টনসিলের সমস্যা ছিল। কিন্তু নিকাব পরা থাকায় ওই নারীর কথা বুঝতে অসুবিধা হচ্ছিল চিকিৎসকের। তিনি নিকাবটি মুখ থেকে নামিয়ে কথা বলতে বলেন। ডা. কিথের দাবি, তিনি ওই নারীকে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে নিকাব সরাতে বলেন। যাতে তাঁর শিশুকন্যার রোগটি নির্ভুলভাবে নির্ণয় করতে পারেন।

গত সপ্তায় ডা. কিথ জেনারেল মেডিক্যাল কাউন্সিল (জিএমসি) থেকে একট চিঠি পান। ওই চিঠিতে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এবং বিষয়টির তদন্ত চলছে।

রবিবার সংবাদ মাধ্যমকে কিথ বলেন, আমি এখন আর চিকিৎসা পেশায় থাকতে চাই না। তিনি বলেন, ‘রোগীর ভালোর জন্য আমি পরামর্শটি দিয়েছিলাম। অথচ সেটি করতে গিয়ে জাতিগত বৈষম্যের অভিযোগের মুখোমুখি হতে হলো।’ তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এটি আমার প্রতি বড় ধরনের অবিচার। যদি আমরা রোগীদের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ পেতে থাকি, তবে এই দেশে কোনও চিকিৎসক থাকবে না। আমি গভীরভাবে হতাশ।’

কিথের দাবি, রয়্যাল স্টোক ইউনিভার্সিটি হসপিটালে ঘটনার সময় ওই নারীর কোনও অভিযোগ ছিল না। পরে ওই তাঁর স্বামী আসেন এবং বলেন তিনি আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের ডক্টর’স অ্যাসোসিয়েশন নামের সংগঠনের একজন মুখপাত্র বলেন, আমরা আমাদের রোগীদের ধর্মীয় আচার-বিশ্বাসকে শ্রদ্ধা করি। কিন্তু রোগ নির্ণয়ের সুবিধার জন্য অনেক সময় নিকাব বা বোরকা সরানোর প্রয়োজন হয়। তিনি বলেন, ‘জিএমসি’র উচিত এমন স্পষ্ট গাইডলাইন বিবেচনা করা, যাতে রোগী এবং চিকিৎসক উভয়েই রক্ষা পান।’

অমৃতবাজার/পিকে