ঢাকা, বুধবার, ২০ মার্চ ২০১৯ | ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভয়াবহ হামলায় দেশে ফিরছেন টাইগাররা


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৫১ এএম, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার | আপডেট: ০১:২০ পিএম, ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার
ভয়াবহ হামলায় দেশে ফিরছেন টাইগাররা

ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে ভয়াবহ হামলায় ২৭ জন নিহত হওয়ার পর বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট দলের মধ্যকার শেষ টেস্ট ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে। শনিবার এই ক্রাইস্টচার্চ শহরের এক মাঠেই ওই খেলাটি হওয়ার কথা ছিলো।

নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের সিইও ডেভিড হোয়াইট এ সম্পর্কে জানান, ভয়াবহ ওই হামলায় নিহতদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দুই দলের টেস্ট ম্যাচটি বাতিল করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ম্যাচটি বাতিল করেছি। আমি এ নিয়ে বাংলাদেশ দলের খেলোয়ারদের সঙ্গে কথা বলেছি। আসলে এই মুহূর্তে আমাদের সবার যে মানসিক অবস্থা, তাতে কারো পক্ষেই খেলায় মনোনিবেশ করা সম্ভব নয়।’

বাংলাদেশ দলের খেলোয়ারদের যত দ্রুত সম্ভব নিরাপদে দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

শুক্রবারের ওই হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গিয়েছেন তামিম, মুশফিক ও মিরাজরা।

মসজিদ আল নূরে হামলার সময় দেশটিতে খেলতে যাওয়া বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের ওই মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু হামলার খবর পেয়ে তারা আর মসজিদে ঢোকেননি, টিম বাসেই বসে থাকেন। পরে তামিম-মিরাজরা বাস থেকে বেরিয়ে হাগলি পার্ক দিয়ে ক্রাইস্টচার্চের হাগলি ওভাল স্টেডিয়ামের ড্রেসিংরুমে পৌঁছান। বর্তমানে তারা হোটেলে অবস্থান করছেন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ দলের খেলোয়াররা মুষড়ে পড়েছেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে সেখানে উপস্থিত থাকা বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটার তামিম ইকবাল নিজের টুইটার একাউন্টে লিখেন, ‘পুরো দল গোলাগুলির হাত থেকে বেঁচে গেলো। খুবই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন।’

এদিকে জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মোহাম্মদ ইসাম নিশ্চিত করেছেন টিম হোটেলে নিরাপদেই আছেন তামিম-মুশফিকরা। তবে তারা কেউই বেশিক্ষণ নিউজিল্যান্ডে অবস্থান করতে চাচ্ছেন না।

তিনি নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডকে বলেন, ‘আমার মনে হয় না তারা এখন ক্রিকেট খেলার মতো অবস্থায় আছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফিরতে চায়। আমি আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, আমি যা শুনছি তা থেকেই বলছি।’

ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ইসাম আরও বলেন, ‘যখন ঘটনাটা ঘটছিল, তখন একজন ক্রিকেটার আমাকে ফোন করে বললেন যে যাতে আমি পুলিশকে এটি জানাই। কিন্তু আমিও ক্রাইস্টচার্চে নতুন। ফলে জানা নেই কার সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিৎ। তাই আমি একজন অপরিচিত ব্যক্তির গাড়িতে করে কোনোভাবে পুলিশ স্টেশনে গিয়ে তাদের জানাই। পুরো ঘটনাটাই মর্মান্তিক।’

এদিকে নিউজিল্যান্ডের বর্তমান দলের নয়জন সদস্যই থাকেন ক্রাইস্টচার্চে। বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে তারা যেনো পরিবারের সঙ্গে বাসার মধ্যেই থাকেন।

অমৃতবাজার/আরএইচ