ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০১৯ | ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট প্রস্তাব নাকচ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ১৪ মার্চ ২০১৯, বৃহস্পতিবার
চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিট প্রস্তাব নাকচ ব্রিটিশ পার্লামেন্টের

ব্রেক্সিট চুক্তির খসড়া বাতিল হওয়ার পর এবার কোন ধরনের চুক্তি ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যাত হয়েছে সে দেশের পার্লামন্টে। বুধবার রাতে এ বিষয়ে হাউস অব কমন্সে ভোটাভুটিতে ৩১২ জন প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। আর পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৩০৮ জন। এতে আবারো একটি ধাক্কা খেলেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। খবর বিবিসির।

তবে ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী এই ভোটের ফলাফল সরকারের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অর্থাৎ সরকার চাইলে এখনো কোনো চুক্তি ছাড়াই ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

বুধবারের এই ভোটের ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য আরও সময় নেয়া হবে কি না, তা নিয়ে আরেকটি ভোটাভুটি হতে পারে।

সে ক্ষেত্রে বৃহস্পতিবার আবারও ভোট হবে। সেখানে যদি এর পক্ষে এমপিরা ভোট দেন এবং ইইউ তাতে সম্মত হয়, তাহলে আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৯ মার্চের মধ্যে আর যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়তে হবে না।

এর আগে ব্রেক্সিট প্রশ্নে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দুই দফা ভোটাভুটিতে হেরে যান প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। গত ১৫ জানুয়ারি পার্লামেন্টে তার নিজের রক্ষণশীল দলেরই ১১৮ এমপি ওই চুক্তির বিপক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।

প্রথমবার পার্লামেন্টে চুক্তিটি অনুমোদন না পাওয়ায় গত কয়েক সপ্তাহ ইইউ নেতাদের সঙ্গে দেন-দরবার করে কিছুটা পরিবর্তন আনেন মে। এরপর মঙ্গলবার চুক্তিটি আবার সংসদে এনেছিলেন মে।

কিন্তু দ্বিতীয় দফায়ও পার্লামেন্টে ৩৯১ এমপিই এর বিপক্ষে ভোট দেন। থেরেসা মে অর্থ্যাৎ চুক্তির পক্ষে ভোট দেন ২৪২ জন।

প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে ব্রেক্সিট নামে। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকার পর ২০১৬ সালের ২৩ জুন বেরিয়ে যাওয়া প্রশ্নে একটি গণভোট হয়েছিল ব্রিটেনে।

গণভোটে দেশের নাগরিকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল- যুক্তরাজ্যের কি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে থাকা উচিত কি না?

এতে ৫২ শতাংশ ভোট পড়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে। আর বিপক্ষে পড়ে ৪৮ শতাংশ ভোট। যেহেতু আইন অনুযায়ী এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়ায় তাই ওই ভোটের ফলাফলের সাথে সাথেই ব্রেক্সিট কার্যকর হয়ে যায়নি।

তবে চুক্তি হোক বা না হোক ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রিটেনের বিচ্ছেদ ঘটার কথা রয়েছে আগামী ২৯ মার্চ। কিন্তু প্রধান বিরোধী দল লেবার পার্টিসহ অন্যান্য দলের পক্ষ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে। এসব দল মে’র ব্রেক্সিট চুক্তিতে সমর্থন দেয়নি।

অমৃতবাজার/আরবি