ঢাকা, বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দাঁতের ডাক্তার থেকে রাষ্ট্রপ্রধান


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৭ পিএম, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, সোমবার
দাঁতের ডাক্তার থেকে রাষ্ট্রপ্রধান

পাকিস্তানের রাজনীতিতে ব্যতিক্রমধর্মী ঘটনা ঘটছে বারবার। ক্রিকেট ময়দান থেকে সরকার প্রধান হয়েছেন ইমরান খান। আর ডেন্টাল কলেজে অধ্যাপনা থেকে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন আরিফউর রহমান আলভি। এক সময় যিনি রোগীদের দেখভাল করতেন এখন তারই ওপর দায়িত্ব বর্তালো জনগণের দেখভালের।

৬৯ বছর বয়সী এই দন্ত চিকিৎসক পাকিস্তানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট। পাকিস্তানের ক্রিকেট কিংবদন্তী ইমরান খানের তেহরিক-এ-ইনসাফ থেকে তিনি নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

আরিফ আলভি পেশায় পুরদস্তুর একজন দন্ত চিকিৎসক। তুর্কিমিনিস্থানের দন্ত চিকিৎসক ডা. গার্বাঙ্গুলির পরে তিনি দ্বিতীয় দন্ত চিকিৎসক হিসাবে কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। তার বাবা এলাহি আলভিও পেশায় ডেন্টিস্ট ছিলেন।

এলাহি আলভি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জহরলাল নেহেরুর দন্ত চিকিৎসক ছিলেন। দেশভাগের পরে তিনি করাচীতে চলে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ী আবাস গড়েন। ১৯৪৯ সালে এই করাচিতেই জন্মগ্রহণ করেন আরিফ আলভী।

বেড়ে ওঠার গল্প: প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে আলভি লাহোরে যান পড়াশোনার জন্য এবং ১৯৬৭ সালে De`Montmorency College of Dentistry থেকে দন্ত চিকিৎসায় বিডিএস ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৫ সালে ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান থেকে প্রোস্থোডোন্টিকসে এবং ১৯৮৪ সালে ইউনিভার্সিটি অফ প্যাসিফিক থেকে অর্থোডোন্টিকসে উচ্চতর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। দেশে ফিরে আলভী ডেন্টাল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানেই প্র্যাকটিস শুরু করেন।

১৯৮১ সালে ডা. আলভী পাকিস্তান ডেন্টাল এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে এশিয়া প্যাসিফিক ডেন্টাল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ২০০৭ সালে প্রথম পাকিস্তানি হিসাবে এফডিআই ওয়ার্ল্ড ডেন্টাল ফেডারেশনের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন।

রাজনীতিতে অংশগ্রহণ: ছাত্রাবস্থাতেই আলভী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। পরবর্তীতে কলেজের ছাত্র পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। ছাত্রবস্থায় স্বৈরশাসক আইয়ুব খানের শাসনামলে লাহরের মল রোডে এক বিক্ষোভে দুইবার গুলিবিদ্ধ হন। গনতন্ত্রের পথে লড়াইয়ের সাক্ষর হিসাবে তিনি এখনো গর্বের সাথে তার ডান হাতে সেই গুলিবহন করে বেড়াচ্ছেন।

সস্ত্রীক ডা. আলভি: দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক পথ পরিক্রমায় ১৯৯৬ সালে ইমরান খানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি তেহরিক-এ-ইনসাফে যোগ দেন। তিনি ইমরান খানের দলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের একজন। পরবর্তীতে দলের গঠনতন্ত্র রচনায়ও ভূমিকা রাখেন।

আগে কয়েকবার নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০১৩ সালে তিনি প্রথমবারের মত ন্যাশনাল এসেম্বলির সদস্য নির্বাচিত হন। সেবার সিন্ধ থেকে তিনিই ছিলেন তেহরিক এ ইনসাফের একমাত্র ন্যাশনাল এসেম্বলির সদস্য।

ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত হয় ক্ষমতাসীন দলের মনোনিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডা. আলভী। তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও বিজয়ী হন। ৯ সেপ্টেম্বর তিনি পাকিস্তানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিতে যাচ্ছেন।

চার সন্তানের জনক বর্ষীয়ান এই চিকিৎসক ও রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পরপরেই বলেন, ‘আমি কেবল তেহরিক এ ইনসাফ দলের প্রেসিডেন্ট না, বরং আমি সকল দল ও সর্বোপরি পুরো জাতির প্রেসিডেন্ট হতে চাই। আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে, নতুন পাকিস্তানের স্বপ্নপূরণে আমরা কাজ করবো। সূত্র: ডন

অমৃতবাজার/শাওন