ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই ২০১৯ | ১ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা: আগেই প্রস্তুতি ছিলো মিয়ানমারের


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৩১ পিএম, ১৯ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা: আগেই প্রস্তুতি ছিলো মিয়ানমারের ফাইল ছবি

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর নির্যাতনের মুখে সাত লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। গত বছরের আগস্টে সংখ্যালঘুদের ওপর এ নৃশংসতা চালানোর জন্য আগে থেকেই ব্যাপকভিত্তিক এবং পদ্ধতিগত প্রস্তুতি ছিল মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের। তাদের ওপর নৃশংসতা চালানোর বেশ কয়েক মাস আগে থেকে এমন প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

বৃহস্পতিবার ব্যাংকক ভিত্তিক মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপ ফোরটিফাই রাইটসের প্রকাশিত বিশেষ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে এমনটা বিশ্বাস করার যৌক্তিক কারণ রয়েছে। গত আগস্টে রোহিঙ্গদের ওপর যখন হামলা শুরু হয় তাতে জড়িত ছিল মিয়ানমারের কমপক্ষে ২৭ আর্মি ব্যাটালিয়ান। এতে সেনা সদস্য ছিল ১১ হাজার। তার সঙ্গে ছিল কমপক্ষে তিনটি কমব্যাট পুলিশ ব্যাটালিয়ন। এসব অপকর্মে জড়িত থাকার জন্য মিয়ানমারের ২২ জন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা কমান্ডাররা দায়িত্বে ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই তালিকায় রয়েছেন কমান্ডার ইন চিফ সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইয়, ডেপুটি কমান্ডার ইন চিফ ভাইস সিনিয়র জেনারেল সোয়ে উউন, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ জেনারেল মাইয়া তুন ও।

প্রসঙ্গত, আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা) গত বছরের ২৫ আগস্ট নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে বেশ কয়েকজন নিরাপত্তা রক্ষী নিহত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংস প্রতিশোধ নেওয়া শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। গণহত্যা, গণধর্ষণ, অগ্নিসংযোগের মতো বর্বরতা বেছে নেয় তারা। ফোরটিফাই রাইটস বলছে, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর এমন নৃশংসতা শুধু আরসার হামলার জবাব নয়। এটা হলো তাদেরকে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার একটি কৌশল। এমন কৌশল তারা আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিল।

অমৃতবাজার/সুজন