ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ | ৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কিম সম্পর্কে অদ্ভুত কিছু ‘জনশ্রুতি’


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৪০ পিএম, ১২ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
কিম সম্পর্কে অদ্ভুত কিছু ‘জনশ্রুতি’ ফাইল ছবি

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্পর্কে জানার আগ্রহ অনেকেরই। তার সম্পর্কে অনেক মিথ বা জনশ্রুতি চালু আছে। এমন কিছু মিথ সম্পর্কে জানব আজ।

তিনি যেখানে যান, সঙ্গে যায় পোর্টেবল টয়লেট! পাছে তার মল, মূত্র পরীক্ষা করে কেউ জেনে ফেলে তার শরীর-স্বাস্থ্যের হালহকিকৎ। কমিউনিস্ট হলেনই বা, দেশের বাইরে থেকে না আনা হলে, মদ তিনি কিছুতেই ছোবেন না। মদ তার যতই প্রিয় হোক।

স্কুলে ভর্তির জন্য নয়, তিনি কমিউনিস্ট হলেও, তার জন্মসাল বদলানো হয় ধর্মীয় রীতিপ্রথা মেনে। তার দাদার জন্মসালের সঙ্গে সময়ের একটা নির্দিষ্ট ফারাক রাখতে। একই ভাবে জন্মসাল বদলানো হয়েছিল তার বাবা কিম জং-ইলেরও।

বাইরে থেকে দেখে যাকে মনে হয় এমন শক্তিশালী, আদতে শারীরিকভাবে তিনি খুবই দুর্বল। সব সময়ে ভোগেন গেঁটে বাতে! জ্বরজারিতেও ভোগেন খুব। তিনি ব্রহ্মাণ্ডের চেয়েও বেশি রহস্যে মোড়া! দুর্জ্ঞেয়, অবোধ্য! কিম জং-উন। উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট। উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান।

লোকে বলে, তাকে নিখুঁতভাবে জানতে গেলেই ঠকতে হবে পদে পদে। কারণ তিনি লোক ঠকাতেই ভালোবাসেন, নিজে বাঁচতে আর ক্ষমতায় টিকে থাকতে। লোকে এও বলে, অন্য রকম না হলে নাকি কিম জং উন হওয়া যায় না। আর কিম জং উনের মতো ‘অন্য রকম মানুষ’ও নাকি আর একটা নেই।

রটনা, কিম বলেন বটে, তার তিনটি সন্তান। কিন্তু তা নাও হতে পারে। সংখ্যাটা কয়েক গুণও হতে পারে! তার চেয়ে কম হওয়াটাই নাকি অসম্ভব!

তবে তার রাগ নিয়ে দ্বিমত নন প্রায় কেউই। তার স্ত্রী তার বিস্ফোরক রাগের আঁচ কতটা পেয়েছেন, পিয়ংইয়ংয়ের কমিউনিস্ট শাসনের লৌহ বেষ্টনী পেরিয়ে তা জানতে না পারা গেলেও, তার কলেজের বান্ধবীরা অনেকেই বলেছেন, ‘বাপরে বাপ!’ আর সেটাও তারা বলতে পেরেছেন, উত্তর কোরিয়া ছেড়ে অনেকটা দূরে থাকেন বলে।

কিমের সম্পর্কে আর একটা ব্যাপারে সকলেই একমত। তিনি শুধুই ‘ইয়েস’ শুনতে ভালবাসেন। ‘নো’ তার পছন্দ নয়। তাই তার ওঠাবসা, চলাফেরার সব সময় তাকে ঘিরে রাখেন ‘ইয়েস ম্যান’রা!

কিমের সম্পর্কে আরো একটা ব্যাপারে মেলেনি কোনও পরস্পরবিরোধী মন্তব্য। এমনকী তার ইয়েস ম্যানরাও বলেন, তিনি ‘মিথ্যেবাদী’। কারণ তিনি তাদেরও কখনও সত্যিটা বলেন না!

কিম তার দীর্ঘ দিনের, ‘মন্ত্রণাদাতা’ফুফাকে বাঘের খাঁচায় ঢুকিয়ে দিয়ে মেরেছিলেন। কারণ মনে করেছিলেন, তার ইয়েস ম্যানরা তাকে বেশি স্যালুট না দিয়ে তার ফুফাকে মান্য করছেন বেশি।

দাদা কিম ইল-সুং উত্তর কোরিয়ায় কমিউনিস্ট শাসনের শুধুই জন্মদাতা ছিলেন না, ছিলেন বিশ্ব কমিউনিস্ট আন্দোলনেরও একটি মুখ। সেই দাদার পথকে বাতিল করতেও দেরি করেননি কিম জং-উন।

দাদা দেশের সেনাবাহিনীর শক্তি বাড়ানোর সঙ্গে অর্থনীতির হাল ফেরাতেও উদ্যোগী হয়েছিলেন। আর কিম দেশের অর্থনীতির হাল ফেরানোর কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে রাজস্বের যত বেশি প্রতিরক্ষায় খরচ করা সম্ভব, করে গিয়েছেন। এখনও করে চলেছেন।

শুধুই নিন্দুকদের নির্বিচারে খুন করেছেন, এমন নয়, কেউ যদি তার পছন্দের নকশা মেনে কিছু বানাতে না পেরেছেন, তাকেও শূলে চড়িয়েছেন কিম।

পিংয়ইয়ং বিমানবন্দরকে ঢেলে সাজার জন্য কিম দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিখ্যাত আর্কিটেক্ট মা ওয়ন চুংকে। কিন্তু চুংয়ের কাজ পছন্দ হয়নি কিমের। তার পরেই রটে যায়, চুংকে মেরে ফেলেছেন কিম। অনেক পরে চুং আত্মপ্রকাশ করে জানান, তিনি জীবিতই আছেন।

কিমের খালা কো ইয়ং সুক হালে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার বোনের ছেলে কিম ছোটবেলায় খুব বাস্কেটবল খেলতে ভালবাসতেন। রাতে ঘুমোতেনও বিছানায় বাস্কেটবল নিয়ে। কিন্তু আট বছর বয়স থেকেই তাকে শেখানো শুরু হয়, তাকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে হবে। তাই তাকে সব সময় সেনাদের উর্দি পরিয়ে রাখা হত। কিমের মায়ের ব্রেস্ট ক্যানসার ধরা পড়ার পরেই খালা কো বুঝতে পারেন, কিমকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর আর কোনও রাস্তা খোলা থাকল না।

তবে কিমের বাবা কিম জং-ইল যেমন ক্ষমতায় আসার জন্য তার বাবা কিম ইল-সুংকে দলে কোণঠাসা করে দিয়েছিলেন, কিম জং-উন কিন্তু অতটা নির্দয়ভাবে তার বাবাকে ক্ষমতার কুর্সি থেকে হঠিয়ে দেননি। বাবার কফিন নিয়ে প্রকাশ্যে হাউমাউ করে কেঁদেছিলেন কিম জং উন।

তবে যখন রটে গেল তার সৎ ভাই কিম জং-নাম বেশ জনপ্রিয় উত্তর কোরিয়ায়, তখনই তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন কিম। গত বছর কিম জং-নামকে খুন হয়ে যেতে হয় নাটকীয়ভাবে, কুয়ালালামপুরে। কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে দুই নারী নার্ভ এজেন্ট ছুড়ে দেন কিমের সৎ ভাইয়ের মুখে। পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

কিম জং উন বিশ্বের সেই গুটিকয় মানুষের এক জন, আপাদমস্তক রহস্যে মোড়া যার জীবন। যে জীবনের বেশির ভাগটাই অজানা। যেটুকু জানা, তার অনেকটাই মুখে মুখে ঘোরা ও বিদ্যুৎগতিতে ছড়িয়ে পড়া রটনা।

শুধু কিমই নন, তার বাবা কিম জং-ইলকে নিয়েও ছিল নানা রটনা। তাকে ‘হ্যামবার্গারের জনক’ বলা হত। কারণ তিনি দাবি করেছিলেন, দুটো পাউরুটির মধ্যে মাংস পুরে হ্যামবার্গার নাকি তিনিই প্রথম বানিয়েছিলেন। চেয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তা খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠুক। কিন্তু যে কোনও কারণেই তা হয়নি।

খড়ের গুঁড়ো খুব পুষ্টিকর বলে দুর্ভিক্ষের সময় মানুষকে তা খাওয়ার পরামর্শ দিযেছিলেন কিমের বাবা কিম জং-ইল। তার দেশবাসীর অবশ্য তা পছন্দ হয়নি। কিমের বাবাও নাকি সর্বত্র ঘুরতেন পোর্টেবল টয়লেট নিয়ে!

কিমের বাবা কিম জং-ইলের জীবনীতে লেখা আছে, তার জন্ম হয়েছিল নাকি পাহাড়ের চূড়ায়। আর জন্মের পরেই একটা তারার জন্ম হয়েছিল আকাশে! আর তারপর আচমকাই শীত চলে গিয়ে দেশে বসন্ত এসেছিল। যদিও সরকারি তথ্য বলছে, কিম জং-ইলের জন্ম হয়েছিল ১৯৪১ সালে। সাইবেরিয়ার একটি গ্রামে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

অমৃতবাজার/সুজন