ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

দিল্লির সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:৩৪ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
দিল্লির সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সংখ্যলঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতায় বেড়েই চলেছে মৃত্যুর মিছিল। বৃহস্পতিবার মারা গেছেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও চারজন। ফলে গত ৩ দিনের পাশবিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮য়ে গিয়ে দাঁড়ালো।

তবে দিল্লি সহিংসতায় ইন্ধনদাতা হিসাবে মোদির দল বিজেপির যেসব মন্ত্রী ও নেতাদের নাম ওঠে এসেছে তারা বড় রকমের ছাড় পাচ্ছেন। কেননা পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে এফআইআর দায়ের করতে রাজি হয়নি।

৩০ জনকে শনাক্ত

কাগজে কলমে দিল্লি সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৩৮ হলেও প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে। কেননা নিহতদের বেশিরভাগেরই মৃত্যু হয়েছে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। আর ঘটনাস্থলে যারা মারা গেছেন, কিংবা ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া আগুনে পুড়ে যারা মারা গেছেন তাদের ধরলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। নিহতদের মধ্যে ৩০ জনকে সনাক্ত করেছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

এ ঘটনায় আহত হয়েছেনআরো দুই শতাধিক মানুষ। এদের মধ্যে কমপক্ষে ৮০ জনই বলেটের আঘাতে জখম হয়েছেন। তাই দাঙ্গা চলাকালে এত আগ্নেয়াস্ত্র কীভাবে ছড়াল তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ নিয়ে দায়সারা বক্তব্য দিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, দুষ্কৃতিকারীরা দাঙ্গাবাজদের অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর নয়

দিল্লি সহিংসতার ঘটনায় ইতিমধ্যে ৪৮টা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশ সমস্ত অডিয়ো-ভিডিয়ো পরীক্ষা করার পরই এসব এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে উস্কানিমূলক বক্তব্য দেয়ায় বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার যে নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট তা বাস্তবায়ন কালক্ষেপন করছে পুলিশ। তাই মোদির দলের নেতাদের বিরুদ্ধে আদৌ এফআইআর হবে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক মন্তব্যের ঘটনায় এফআইআর করার মতো ‘সহায়ক পরিবেশ’ এখন নেই।

বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট জানায়, পুলিশ কর্মকর্তারা সমস্ত অডিয়ো-ভিডিয়ো খতিয়ে দেখেছেন। তারপরে তারা বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ‘যথাযথ সময়’-এ এফআইআর দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

এর আগে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জন্য চার বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে এফআইআর করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশকে বুধবার রাতে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলীধর। কিন্তু ওই রায় দেয়ার পর বুধবার রাতেই তাকে পঞ্জাব-হরিয়ানা হাইকোর্টে বদলির নির্দেশ জারি হয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি এন পটেলের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার দিল্লি পুলিশকে চার সপ্তাহ সময় দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তাদের হলফনামা জমা দিতে হবে। পরবর্তী শুনানি হবে আরও প্রায় দু’সপ্তাহ পরে, ১৩ এপ্রিল।

অভিযোগ রয়েছে, বিজেপি নেতাদের উস্কানিমূলক বক্তব্যের জের ধরে দিল্লি জুড়ে মুসলিম বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছিল। সহিংসতা শুরুর দুইদিন আগেই বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র জাফরাবাদে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ) নিয়ে বিক্ষোভকারীদেরবিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি ও চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য দেন। এরপরই উত্তর-পূর্ব দিল্লি জুড়ে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে দিল্লির বিধানসভা ভোটের প্রচারে অনুরাগ ঠাকুর, প্রবেশ বর্মার মতো বিজেপির সাংসদ ও মন্ত্রীরাও সিএএ-বিরোধীদের নিশানা করেছিলেন। কিন্তু কোনও ক্ষেত্রেই এফআইআর করেনি দিল্লি পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, ‘পুলিশ সমস্ত অডিয়ো-ভিডিয়ো পরীক্ষা করেছে। আমরা এফআইআর দায়ের করার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিয়েছি।’

দিল্লি সরকারের আইনজীবী রাহুল মেহরা প্রশ্ন তোলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ১১টা এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তা হলে বিদ্বেষমূলক মন্তব্যে কেন এফআইআর দায়ের করা হবে না?’

এর জবাবে দিল্লি পুলিশ আজ জানিয়েছে, সংঘর্ষ শুরুর পরে ৪৮টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে এই মুহূর্তে এফআইআর দায়ের করা যাবে না। কেননা ‘পরিবেশ সহায়ক নয়।’