ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

সিএএ বিরোধী আন্দোলন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছে: প্রণব মুখার্জী


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫:৫৫ পিএম, ২৪ জানুয়ারি ২০২০, শুক্রবার
সিএএ বিরোধী আন্দোলন গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছে: প্রণব মুখার্জী ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিজেপি সরকারের পাশ করা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে আন্দোলন হচ্ছে, তা ভারতের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন আয়োজিত সুকুমার সেন স্মৃতি অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন তিনি।

প্রণব মুখার্জী বলেন, `দেশ জুড়ে সিএএ আইনের বিরুদ্ধে যে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চলছে, সেই আন্দোলন গণতন্ত্রের শিকড়কে আরও জোরদার করবে। এই বিক্ষোভ-আন্দোলনের ফলে একদিকে যেমন বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া তরুণদের সংবিধানের প্রতি নিজেদের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে, অন্যদিকে এই আইন নিয়ে মতবিরোধ গণতন্ত্রকে আরও চাঙ্গা করার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।`

তরুণদের প্রতি নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, `ভারতীয় গণতন্ত্র প্রতিবারই তার সামনে আসা যে কোনও পরীক্ষায় সফল ভাবে নিজেকে প্রমাণ করেছে । গত কয়েকমাসে মানুষ বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তায় নেমেছেন, বিশেষত দেশের তরুণ প্রজন্ম এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছেন। সংবিধানের প্রতি তাঁদের বিশ্বাস আমাকে আনন্দ দিয়েছে।`

সাবেক রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, `গত কয়েকমাস ধরে যেভাবে পথে নেমেছেন বহু মানুষ, বিশেষ করে দেশের যুব সমাজ এবং তাঁরা যেভাবে ভারতের সংবিধানের ওপর তাঁদের আস্থা দেখিয়েছেন তা সত্যিই আনন্দদায়ক। আমার মতে, এই আন্দোলনের ফলে আরো দৃঢ় হবে আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক শিকড়।`

মোদী সরকারের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের আগে আগত অমুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পক্ষান্তরে, মুসলিমদের বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে ঠেলে দেয়ার জন্য ইতোমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে ক্ষমতাসীন বিজেপি।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, এই আইন বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে বর্ণিত দেশের ধর্মনিরপেক্ষ ভাবমূর্তির পরিপন্থী। কিন্তু নিজেদের জায়গা থেকে সরতে নারাজ কেন্দ্রীয় সরকার। যেকোন মূল্যে ভারতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রয়োগ করা হবে বলে সাফ জানিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ। সম্প্রতি লখনৌয়ের সভামঞ্চ থেকে রীতিমতো হুঙ্কার ছেড়ে তাকে বলতে শোনা যায় যে, ১ কোটি মুসলমানকে বাংলাদেশে পাঠাবেন তিনি।

অমৃতবাজার/এসএইচএম