ঢাকা, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

`বাংলাদেশি` সন্দেহে এক রাতেই হাজারো `ভারতীয় মুসলমানের` ঘর উজাড়


অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬:৪৫ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার | আপডেট: ০৬:৪৭ পিএম, ২২ জানুয়ারি ২০২০, বুধবার
`বাংলাদেশি` সন্দেহে এক রাতেই হাজারো `ভারতীয় মুসলমানের` ঘর উজাড় ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ ভারতের বেঙ্গালুরুতে `অবৈধ বাংলাদেশি` সন্দেহে ২০০ টিরও বেশি বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় পৌরসভার লোকজন। বেঙ্গালুরুর বেলান্ডার শহরতলি, কুন্দনহাল্লিসহ মুসলিম অধ্যুষিত ৪ টি বস্তি এলাকায় বুলডোজার দিয়ে এক রাতেই গুড়িয়ে দেয়া হয় এইসব বাড়িঘর। খবর এএনআই এর।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয় হাজারখানেক স্থানীয় বাসিন্দার উপর। একইসঙ্গে ওই এলাকার বিদ্যুতের লাইন ও পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়।

বেঙ্গালুরু জেলা প্রশাসন অবশ্য বলছে, তারা এই ঘটনার ব্যাপারে কিছুই জানে না। বাড়িঘর উচ্ছেদের জন্য তারা কোনও লোকও পাঠায়নি। এ ব্যাপারে যত দ্রুত সম্ভব, তদন্তের ব্যবস্থা করবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের দাবি, তারা কেউ বাংলাদেশি নয়, বরং তারা সবাই ভারতের নাগরিক। এমনকি তাদের বাড়িঘর ধ্বংস করার আগে এ সংক্রান্ত কোনও নোটিশও পাঠায়নি সরকার। এমনকি তাদের কাছে সব ধরনের বৈধ কাগজপত্রও আছে। কিন্তু, স্থানীয়দের অধিকাংশই মুসলমান ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে অন্যান্য হিন্দুরা তাদের সব সময় বাংলাদেশি বলে ডাকে বলে জানায় তারা।

বিজেপি সরকারের এনআরসি ও সিএএ আইনের পর থেকে `মুসলিম বলে` তাদের উপর নানা ধরনের নিপীড়ন চালানো হচ্ছে বলে জানায় স্থানীয়রা। গত রাতের ঘটনার পর থেকে নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।

বেঙ্গালুরু জেলা প্রশাসক বলেন, আমরা জানি না, কারা এইসব বাড়িঘর উজার করেছে। আমরা যা করি নি, তার দায় আমাদের উপর চাপানো হচ্ছে। এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে, কারা কি উদ্দেশ্যে এমনটা করেছে।

জাহাঙ্গীর হোসেন নামে একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, `আমি ত্রিপুরা থেকে এসেছি। প্রশাসন আমাদের বাড়িঘর উচ্ছেদের কোন নোটিশ পাঠায়নি। আমি বাংলাদেশি নই। আমার সব ধরনের কাগজপত্র আছে। আমরা গরিব, শহরে ভালো বাড়ি ভাড়া করে থাকার সামর্থ আমাদের নেই। তাই বাধ্য হয়ে এইখানে থাকি।`

এদিকে, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আইনটির বিরুদ্ধে ১৪৪ আবেদনের শুনানীতে মামলাটি ৫ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। ৪ সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে জবাব তলব করেছে ভারতের শীর্ষ আদালত।

অমৃতবাজার/এসএইচএম