ঢাকা, রোববার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

ধুমধাম করে হিন্দু মেয়ের বিয়ে দিলো মসজিদ কমিটি


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১:৩০ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার | আপডেট: ১১:৩১ এএম, ২০ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
ধুমধাম করে হিন্দু মেয়ের বিয়ে দিলো মসজিদ কমিটি

দরিদ্র পরিবারের এক হিন্দু মেয়ের বিয়ে দিলো মসজিদ কমিটি। বিষয়টি আজব মনে হলেও এমনই এক ঘটনা ঘটেছে ভারতের কেরালায়। রোববার কেরালের আলাপুঝার চেরুভাল্লি মুসলিম জামায়াত মসজিদ প্রাঙ্গণে বিয়ের আয়োজন করা হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, ওই মসজিদ চত্বরে হিন্দু মতে শরৎ এবং অঞ্জুর বিয়ে দেন এক পুরোহিত। উপস্থিত ছিলেন দুই সম্প্রদায়েরই অতিথিরা। তাদের জন্য ছিল কেরালের ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ ভোজও।

খবরে বলা হয়, অঞ্জুদের পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো নয়। সেই কারণে মসজিদ কমিটির কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন অঞ্জুর মা। মেয়ের বিয়ের আয়োজন করে দেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন তিনি।

মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি নুজুমুদ্দিন আলুমুতিল জানান, তিনি অঞ্জুর বাবা অশোক কুমারকে ব্যক্তিগতভাগে চিনতেন। পেশায় স্বর্ণকার অশোক ২০১৮ সালে এক ছেলেকে স্কুলে দিয়ে ফেরার সময় হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিগ হঠাৎ মারা যাওয়ায় খুবই অর্থকষ্টে দিন কাচাচ্ছিলো পরিবারটি। উপায়ন্তর না দেখে অশোকের স্ত্রী বিন্দু মাসিক ৭ হাজার রুপিতে একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নেন।

নুজুমুদ্দিন বলেন, আমার একটা জুয়েলারির দোকান আছে। অঞ্জুর বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে ওদেরকে কোনোভাবে সাহায্য করতে চাচ্ছিলাম। এরইমধ্যে তার মা বিন্দু মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য আমার কাছে কিছু আর্থিক সহায়তা চান। আমি আমাদের মসজিদ কমিটিকে বিষয়টি জানালে সব সদস্যই রাজি হন মেয়েটির বিয়ের দায়িত্ব গ্রহণে। এরপর আমরা সবাই মিলে মেয়েটির বিয়ের ব্যবস্থা করি।

অঞ্জুকে বিয়ের উপহার হিসেবে ১০টি স্বর্ণমুদ্রা এবং দুই লাখ টাকা দিয়েছে মসজিদ কমিটি। ৪ হাজার লোকের খাওয়া-দাওয়ারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া টিভি-ফ্রিজের মতো ঘরোয়া আসবাবপত্রও দেয়া হয়েছে বিয়েতে।

ফেসবুকে নবদম্পতি শরৎ এবং অঞ্জু, তাঁদের পরিবার এবং মসজিদ কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কেরালের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

তিনি বলেছেন, কেরাল সব সময়ই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এমন সুন্দর উদাহরণ বহন করে এসেছে। এটা বজায় রাখতে হবে।

ফেসবুকে শরৎ-অঞ্জুর বিয়ের ছবি শেয়ার করে বিজয়ন লিখেছেন, ‘এই বিয়ে এমন সময় হল, যখন দেশে ধর্মের নামে মানুষের মধ্যে বিভাজন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেরাল ঐক্যবদ্ধ ছিল এবং আমরা ঐক্যবদ্ধই থাকব।’

অমৃতবাজার/আরইউ