ঢাকা, রোববার, ২৫ আগস্ট ২০১৯ | ১০ ভাদ্র ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আদালতে হাজির না হলেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, জাকির নায়েক


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩:৪৭ পিএম, ২০ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
আদালতে হাজির না হলেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, জাকির নায়েক

এবার আরও বিপাকে খ্যাতনামা ইসলামী প্রচারক ড. জাকির নায়েক। ৩১ জুলাই তাকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিল ভারতের মুম্বাইয়ের বিশেষ আদলত। খবর ভারতের সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর।

এর অন্যথায় তার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হবে বলে সাফ জানিয়েছেন বিচারক। টাকা হাওয়ালা ব়্যাকেটের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বিতর্কিত ধর্ম প্রচারক জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।

পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে যোগসাজশ থাকার অভিযোগে ‘পিস টিভি’-র কর্ণধারের বিরুদ্ধে তদন্ত চালাচ্ছে ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনএইএ)। আগেই পলাতক জাকিরের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা জারি করার আবেদন জানিয়েছিল ইডি।

তারপরই ‘প্রিভেনশন অফ মনি লন্ড্রারিং অ্যাক্ট’ বা পিএমএলএ আদালত এই নির্দেশ দেয়। অভিযোগ, প্রায় ১৯৩ কোটি টাকা হাওয়ালার মাধ্যমে অন্যত্র সরিয়েছেন জাকির নায়েক।

আগেই ইডি জানিয়েছিল, জাকির নায়েকের সংস্থা ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে (আইআরএফ) দেশ–বিদেশের অনেকেই বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিররাত, সৌদি আরব, বাহরিন, কুয়েত, ওমান, মালয়েশিয়ার মতো একাধিক দেশ থেকে অর্থ পেয়েছে আইআরএফ।

সংস্থার একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সিটি ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ডিসিবি ব্যাংকে সংস্থার অ্যাকাউন্ট রয়েছে। ওই সব অ্যাকাউন্টেই টাকা জমা দিয়েছেন দাতারা। ওই সব ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পুরোপুরি জাকির নায়েকের নিয়ন্ত্রণেই ছিল। বেশিরভাগ টাকাই জমা পড়েছে দান এবং জাকাত (ইসলাম ধর্মে স্বীকৃত এক ধরনের দান) হিসাবে।

সব টাকাই জমা পড়েছে ব্যাংকের মাধ্যমে। তবে কারা এই টাকা জমা দিয়েছে তা জানা যায়নি। সব টাকাই জমা পড়েছে নগদে। দাতাদের শুধুমাত্র ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ প্রাপ্তির রসিদে শুধুমাত্র দাতাদের নাম রয়েছে। তাদের ঠিকানা বা যোগাযোগ সংক্রান্ত কোনও তথ্য ওই রসিদে নেই।

এই বিষয়টিই ভাবিয়ে তুলেছে ইডির তদন্তকারী অফিসারদের। কোথা থেকে এই টাকা এল বা এই টাকা কারা দান করল সেটা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে ইডি। বর্তমানে মালয়শিয়ায় রয়েছে জাকির নায়েক। ‘পিস টিভি’-র মাধ্যমে উগ্র ইসলামের প্রচার ও মুসলিম যুবকদের মগজধোলাই করে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ইতিমধ্যে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ওই চ্যানেল। শ্রীলঙ্কায় হওয়া ‘ইস্টার ডে’ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর সে দেশেও নিষিদ্ধ করা হয়েছে পিস টিভি। ওই হামলার সঙ্গে জাকিরের যোগ রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছেন ভারতের তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

অমৃতবাজার/পিকে