ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অরুন্ধতী রায়-অপর্ণা সেনা দেশদ্রোহী!


অমৃতবাজার ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯:১৩ এএম, ২৩ জুন ২০১৮, শনিবার
অরুন্ধতী রায়-অপর্ণা সেনা দেশদ্রোহী!

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি’র এক অতি উৎসাহী নেতা শুক্রবার টুইটারে দেশদ্রোহীদের তালিকা প্রকাশ করেছে। ওই তালিকায় বুকার পুরস্কার বিজয়ী বিখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায়, পরিচালক অপর্ণা সেন ও সাংবাদিক বরখা দত্ত থেকে শুরু করে মোট ৪৯ জনের নাম রয়েছে। এসব মুক্তমনা ব্যক্তিরা বিভিন্ন সময়ে মোদির শাসনামলে হিন্দুবাদের প্রসার, সাম্প্রদায়িক কর্মকাণ্ডসহ নানা বিষয়ে জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

গত চার বছরে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে যে সাংবাদিক, সাহিত্যিক, অভিনেত্রী, বুদ্ধিজীবীরা মুখ খুলেছেন তাদের সতর্ক করে দিতেই নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে এই তালিকা প্রকাশ করেছেন বিজেপি নেতা ও আইনজীবী প্রশান্ত পটেল উমরাও। তিনি বলেছেন, দেশের যেসব নাগরিকরা সরকারের সমালোচনা করে থাকেন তাদের উপর কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। তার ভাষায় এসব মুক্তমনা বুদ্ধিজীবীরা আসলে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত। তাদের লেখা, বক্তব্য বা টুইট জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে অস্থিরতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। যা থেকে ফায়দা লোটে পাকিস্তান।

তবে তার কথার সত্যতা স্বীকার করেনি ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রশান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

তবে প্রশান্ত সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি বিজেপির কোনও নেতা। তবে যেসব বুদ্ধিজীবী মাওবাদী ও জঙ্গিদের মানবাধিকার প্রশ্নে সরব, তাদের ভূমিকা নিয়ে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন তুলে আসছে। এ নিয়ে গত শুক্রবার বিজেপি নেতা অরুণ জেটলি নিজের ব্লগে লেখেন, ‘অধিকাংশ মানবাধিকার সংগঠনগুলি চালাচ্ছেন অতি-বামপন্থী কিছু ব্যক্তি। তারা আসলে নিষিদ্ধ সংগঠনগুলির প্রকাশ্য মুখ। তারা জঙ্গি বা মাওবাদীদের মানবাধিকারের প্রশ্নে সরব। অথচ, সন্ত্রাসের শিকার হওয়া নিরীহ মানুষ বা নিরাপত্তারক্ষীদের মৃত্যুতে চোখের জলও ফেলেন না।’

বিজেপি নেতা প্রশান্তের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের দিল্লির নেতা পবন খেরা। এই টুইট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একজন সাধারণ নাগরিকের কাছে সরকারের তথ্য কী করে আসে? আর সরকারের মতের সঙ্গে কারও অমিল হলেই তাকে সরাসরি ভারত-বিরোধী আখ্যা দেওয়া কেনই বা হবে? শুধুমাত্র ভয় পাওয়ানোর জন্যই এমন কাজ করা হয়েছে। সূত্র: আনন্দবাজার

অমৃতবাজার/সাজ্জাদ